তহশীল অফিস আঙ্গিনায় গড়ে উঠেছে ফলের বাগান

লিটন কুমার চৌধুরী : সীতাকুণ্ড

সোমবার , ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
34

ইচ্ছা থাকিলে উপায় হয়”এ প্রবাদটিকে আবারো সত্য প্রমাণিত করলেন সীতাকুণ্ড তহশীল অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নুরুল আহসান। বৃক্ষের প্রতি অপরিসীম দরদ অনুভব করা মানুষটির আন্তরিক প্রচেষ্টায় তহশীল অফিসের আঙ্গিনার পরিত্যক্ত জায়গায় গড়ে তুলেছেন ফলের বাগান। তার অদম্য স্পৃহার ফলে গড়ে তোলা ফলের বাগানের সৌন্দর্য্য চমকে দিয়েছে সবাইকে। অফিসের কর্ম ব্যস্ততার ফাঁকে বাগানের গাছের পরিচর্যায় তার কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিকতায় ইতিমধ্যে ফল ও ফুলে ভরে গেছে পেঁপে গাছ। বাগানে ফুলে,ফলে ভরে উঠা পেঁপের হাসি শুধু তাকেই অনুপ্রাণিত করেনি, অনুপ্রাণিত করেছে উপজেলার সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী, ভূমিকর পরিশোধে আগত মানুষজন ও কৃষি বিভাগকে। তার অফিস অঙ্গিনায় ফলের বাগান গড়ে তোলার এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ উপজেলার কৃষিকে আরো একধাপ এগিয়ে দিয়েছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

আলাপকালে বৃক্ষপ্রেমী ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. নুরুল আহসান বলেন, সীতাকুণ্ড সদরের তহশীল অফিসের নতুন ভবন উদ্বোধনের পর অফিসের বাইরে বেশকিছু জায়গা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। কর্ম ব্যস্ততার পাশাপাশি নিজেকে একজন কৃষক ভাবতে খুবই ভালো লাগত আমার। কৃষিতে অবদান রাখার তীব্র বাসনা থেকেই অফিস আঙ্গিনার বাইরের পরিত্যক্ত জায়গায় বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করি। মে মাসের শুরুতে পরিত্যক্ত জায়গার আগাছা পরিষ্কারের পর প্রায় উন্নত প্রজাতির ৩০টি পেঁপের চারা, ১০টি উন্নত কলম জাতের আমের চারা, বেশ কয়েকটি পেয়ারা, নারিকেল ও কাঁঠালের চারা রোপণ করা হয়েছে। শুরুতে পেঁপেসহ বাগানের বেশ কয়েকটি ফলের চারা নষ্ট হয়। এতে সাময়িক মন খারাপ হলেও দ্বিগুণ উৎসাহে শূন্য স্থানে পুনরায় ফলের চারা রোপণ করা হয়। প্রতিদিন কাজের ফাঁকে আমি ও আমার সহকর্মীরা বাগানের সঠিক পরিচর্যা করতাম। পাশাপাশি সময়মত আগাছা পরিষ্কার,পানি সেচ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহে মাস দু’য়েকের মধ্যে সবুজের সমারোহে ভরে উঠে ফলের বাগান। গত ৯ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো.ইলিয়াছ হোসেন সীতাকুণ্ড সদর তহশীল অফিস পরিদর্শনকালে অফিস আঙ্গিনায় ফলের বাগান দেখে মুগ্ধ হন। এসময় তিনি ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের প্রশংসার পাশাপাশি বাগান অভ্যন্তরে একটি উন্নত কলম জাতের আমের চারা রোপণ করেন। তিনি আরো বলেন,বর্তমানে বাগানের বিভিন্ন ফলের গাছের মধ্যে পেঁপের ফলন আসতে শুরু করেছে। বাগানের প্রায় প্রতিটি পেঁপে গাছে মুকুল এসেছে। অধিকাংশ গাছে ঝুলে আছে থোকায় থোকায় পেঁপে ফল। উপজেলার প্রতিটি অফিস কার্যালয়ের বাইরের পরিত্যক্ত জায়গায় যদি এভাবে বাগান গড়ে তোলা সম্ভব হতো তাহলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পাওয়া যাবে বিষমুক্ত বিশুদ্ধ ফল। অন্যদিকে সবুজের সমারোহে সৃষ্টি হবে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।

দেখা যায়, অত্যন্ত যত্ন সহকারে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে তহশীল অফিসের পরিত্যক্ত জায়গায় ফলের বাগানটি। ফলের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে বাগানের প্রতিটি গাছ। ইতিমধ্যে পেঁপের প্রতিটি গাছেই ফুল এসেছে। ফলও আসতে শুরু করেছে অনেক গাছে। ফুল ও ফলের শোভায় ফলের বাগানটি সবুজের সমারোহে পরিণত হয়েছে।

তহশীল অফিসে ভূমিকর পরিশোধ করতে আসা বাড়বকুণ্ডের হাতিলোটা এলাকার আমির হোসেন বাদশা ও মুরাদপুর গোপ্তাখালী এলাকার ব্যবসায়ী দিদারুল আলম জানান, “তহশীল অফিসের আঙ্গিনার পরিত্যক্ত জায়গায় গড়ে তোলা ফলের বাগানটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। অফিস কার্যালয়ের বাইরে সবুজের অপূর্ব মেলবন্ধন মুহূর্তেই নজর কাড়ছে এখানে আসা বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষদের। কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও ভূমি কর্মকর্তার নিজ চেষ্টায় গড়ে তোলা ফলের বাগান এ অফিস কার্যালয়ের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে। তারা ভূমি কর্মকর্তার ভূয়সী প্রশংসা করে আরো বলেন, সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন তার দেখানো পথে হেঁটেই সীতাকুণ্ডের প্রতিটি সরকারি, বেসরকারি অফিস কার্যালয়ের বাইরের পরিত্যক্ত জায়গায় গড়ে তুলবেন ফল ও ফুলের বাগান। যা সীতাকুণ্ডের কৃষিকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

সীতাকুণ্ড সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, তহশীল অফিসের পরিত্যক্ত জায়গায় ভূমি কর্মকর্তা নুরুল আহসান নিজ প্রচেষ্টায় যে ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তার ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের ফলে অফিসের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খুবই উপকারী। অন্যদিকে বাগানে উৎপাদিত বিষমুক্ত মৌসুমী ফল অফিস সংশ্লিষ্ট সকলের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। তার দেখানো পথ ধরে পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি তহশীল অফিস কার্যালয়ে বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”

x