তসলিম খাঁ (স্বার্থ ও সমাজ)

রবিবার , ১০ জুন, ২০১৮ at ৩:২২ অপরাহ্ণ
23

একসময় সমাজ ছিল সরল। এখনকার সমাজে মানুষ অনেক বেশী। আর এত বেশী হওয়ার কারণেই মানুষ বিচ্ছিন্ন। কারণ ব্যক্তির কাছে সমাজের অধিকাংশ মানুষই অপরিচিত। ব্যক্তি কখনোই সমাজের সকল মানুষকে চিনতে পারে না। তার অচেনা মানুষদের সাথে একটি নির্মোহ ও যান্ত্রিক সামাজিক সম্পর্ক নিয়েই সে বেঁচে থাকে। সমাজের সাথে একাত্মবোধের কোন ব্যাপার এখানে কাজ করে না। একটি সমাজের প্রতি অনুভূতি কাজ করাটাও বেশ কঠিন। এজন্য সমাজের ভাল মন্দে ব্যক্তির প্রতিক্রিয়াটা খুবই দুর্বল।

সমাজের সাথে ব্যক্তির যে লেনদেন ও স্বার্থের সম্পর্ক সেটাকে সঠিকভাবে কার্যকর রাখার জন্যই সবার সম্মতিক্রমে একটি ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে যায়। সেটাই হল সমাজব্যবস্থা। অলিখিতভাবে এই ব্যবস্থাটিকে সবাই মেনে চলে এবং এই ব্যবস্থাটিই হয়ে ওঠে সমাজের এক মানুষের সাথে আরেক অচেনা মানুষের সম্পর্কের ভিত্তি। এর বাইরে যতই সম্পর্ক দাঁড় করানো হোক তা কখনোই এর চেয়ে বেশী শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে না।

যারা সমাজ ব্যবস্থার সুবিধা পায় তারা এর পরিবর্তন চাইবে না এটাই স্বাভাবিক। আগেই বলেছি বর্তমানে সমাজের সাথে ব্যক্তির সমস্ত সম্পর্কের আসল ভিত্তি হল লেনদেন ও স্বার্থ। স্বার্থের প্রয়োজনেই ব্যক্তি সমাজ জীবনের স্রোতে অংশগ্রহণ করে। আর এই সমাজ জীবনের স্রোতে সবাই সমানভাবে অংশ নিতে পারে না। এত সবের মাঝেও কিছু ভাল, ভদ্র ও নম্র সর্বোপরি কিছু শিক্ষিতস্বশিক্ষিত অগ্রজ এবং তরুণ উদোমী মানুষের কারণে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা তেমন ভেঙ্গে পড়েনি সেটা বলা যায় এখনো।

x