তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে

মঙ্গলবার , ১২ মার্চ, ২০১৯ at ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ
39

দেশ রাজনীতি অর্থনীতি বিষয়ে তরুণদের চিন্তাভাবনা নিয়ে সাম্প্রতিক একটি জরিপে অনেকগুলো বিষয় উঠে এসেছে। তার মধ্যে একটি হলো, আমাদের দেশের তরুণেরা অনেক বেশি রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়ছেন। আমাদের দেশের বর্তমান রাজনীতির ধারাটি দেশের তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে তরুণদের দোষারোপ করার কোনো অবকাশ নেই বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন। কেননা বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ তাঁদের আগ্রহ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তরুণদের রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়ার পেছনে আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের একটা ব্যর্থতাও আছে। আমাদের অতীতের ছাত্রনেতারা যেভাবে রাজনীতিতে এসেছেন। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে এসে অন্য রকম চিত্র আমরা প্রত্যক্ষ করছি। ফলে তরুণেরাও রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়লেন। কিন্তু একটা বিষয় সকলের মনে রাখা দরকার যে আমাদের সমাজের কোনো কিছুই রাজনীতির বাইরে নয়। আমরা বাংলাদেশকে যে উচ্চতায় নিতে চাই, সমাজের যত উন্নয়ন করতে চাই, রাজনীতির বাইরে গিয়ে তা কখনোই সম্ভব হবে না। আর সেই রাজনীতিতে তরুণদের সরব অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। এজন্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব এগিয়ে আসতে হবে।
বিভিন্ন সময়ে বলা হয়ে থাকে যে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেক মেধা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর মূল কারণ হিসেবে আমাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে দায়ী করা হয়ে থাকে। অনেকে মনে করেন, আমাদের দেশের তরুণেরা উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের তৈরি করছেন না। লেখাপড়া শেষ করে তরুণেরা চাকরির পেছনে ছুটছেন, কিন্তু তাঁরা এটা ভাবছেন না যে নিজে একটা ছোট ভুবন গড়ে তুলে তাঁরা নিজেদেরসহ আরও দশজনের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন।
আমাদের পরিবার, শিক্ষক এমনকি সমাজ আমাদের ভালো চাকরির পেছনে ছুটতে উদ্বুদ্ধ করে, কিন্তু কোথাও তরুণ উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করা হয় না। কিন্তু আমাদের মাথায় রাখতে হবে, আমাদের এই অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেন চাকরিবিহীন উন্নয়ন না হয়ে যায়। জরিপে দেখা গেছে, অনেক তরুণ ভবিষ্যতে চাকরি পাবেন কি না, সেটা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নেরও অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। আমাদের পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষা খাতে অর্থায়নসহ অনেক ক্ষেত্রে আমাদের উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের অনেক অর্জন রয়েছে, কিন্তু আরও উন্নতির জন্য আমাদের কাজ করে যেতে হবে। কয়েক বছর পরপরই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রমে কিছু পরিবর্তন করা হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা আমাদের বড় একটা অর্জন। তারপরও আমাদের পাঠ্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য আমাদের গবেষণার মাধ্যমে একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।
আর এই বিষয়গুলোর উন্নয়ন করতে হলে আমাদের অবশ্যই শিক্ষা খাতে অর্থায়ন বাড়াতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের শিক্ষা খাতে অর্থায়ন অনেক কম। অর্থায়ন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রের অবকাঠামোকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন আমরা আগামী ১৫ বা ২০ বছর পর বিশ্বায়নের প্রতিকূলতাগুলোকে দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারি। আমাদের সমস্যাগুলো দূর করার ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো আমাদের অধিকার ও দায়িত্বগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া।
আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তরুণেরা অনেক বেশি যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু এসব যোগাযোগমাধ্যমে তরুণেরা শুধুই দর্শকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে যাচ্ছে একটি অভিযোগকেন্দ্র, যে অভিযোগ কেউ শুনছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমাদের সমাজের মূলধারার সঙ্গে তরুণদের দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার কারণে তাঁদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা তৈরি হয়েছে। তাঁরা বলেন, তরুণদের মধ্যে উগ্রবাদ আসে একাকিত্ব থেকে। অন্যের ভিন্নমত সহ্য করতে না পারার বিষয়টি তৈরি হয় ভিন্নমত সম্পর্কে কোনো প্রকার ধারণা না থাকার কারণে।
বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ তরুণ এবং এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। এককথায় বলতে গেলে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সম্পূর্ণভাবে তরুণসমাজের ওপর। কাজেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কী রূপরেখা হবে, সেটা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের তরুণসমাজ। বাংলাদেশের তরুণদের ওপর নির্ভর করে দেশের অগ্রগতি।
তাই তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য দেশে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে উদ্যোগী হতে হবে।

x