তরুণ আল ইসলামের হ্যাটট্রিকে ঢাকার রোমাঞ্চকর জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শনিবার , ১২ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ
28

প্রথমবারের মত বিপিএলের মত আসরে খেলতে নামলেন তরুণ এবং একেবারে অখ্যাত আলিস আল ইসলাম। ঢাকা ডাইনামাইটস এবং রংপুর রাইডার্সের মত দলে যেখানে বিশ্ব সেরা তারকাদের ভিড় সেখানে কিনা নায়ক বনে গেলেন এই ২২ বছরের তরুণ আলিস আল ইসলাম। তার ঘূর্ণিতে কুপোকাত হলো চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। দুই জায়ান্টের লড়াই দেখতে গতকাল মিরপুরে দর্শকের ঢল নেমেছিল। কিন্তু সে ম্যাচে গেইল-সাকিবদের ছাপিয়ে নায়ক অখ্যাত তরুণ আল ইসলাম। এবারের বিপিএলে প্রথম হ্যাটট্রিক করে নিজের আগমনের জানানটা দিয়ে রাখলেন আল ইসলাম। আর তাতেই হাই ভোল্টেজ ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে ঢাকা ডাইনামাইটস। লিগে এটি তাদের টানা তৃতীয় জয়। এখনো অজেয় গত আসরের রানার্স আপ ঢাকা ডাইনামাইটস। বার বার রঙ বদলানো রোমাঞ্চকর এই লড়াইয়ে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। অথচ রাইলি রুশো ও মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটে এক পর্যায়ে জয় দেখছিল রংপুর। কিন্তু ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির আলিস আল ইসলাম নামক এক তরুণ। দারুণ এক হ্যাটট্রিকে ঢাকাকে লড়াইয়ে ফেরালেন প্রথমবার বিপিএল খেলতে নামা আলিস আল ইসলাম। তার করা শেষ ওভারে প্রথম দুই বলে বাউন্ডারি হাঁকালেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি শফিউল ইসলাম। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল শুক্রবার দিনের প্রথম ম্যাচে ২ রানের জয় পেয়েছে সাকিব আল হাসানের দল।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকা ৯ উইকেটে করে ১৮৩ রান। রংপুরকে শুরুতেই সাফল্য এনে দেন সোহাগ গাজী। নিজের প্রথম ও ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই বিপজ্জনক জাজাইকে ফিরিয়ে দেন ডানহাতি এই অফস্পিনার। আগের দুই ম্যাচেই ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষ বোলারদের কচু কাটা করে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া আফগান বাঁহাতি ফেরেন ৩ বলে মাত্র ১ রান করে। পরের ওভারে আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সুনিল নারাইনকে বিদায় করেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। পয়েন্টে রবি বোপারার হাতে ধরা পড়ার আগে দুই চারের সাহায্যে ৯ বলে ৮ রান করেন উইন্ডিজ তারকা। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা রনি তালুকদারের ছোট্ট ঝড় থামে বেনি হাওয়েলের অসাধারণ এক ক্যাচে। গাজীর বলে মিড অফের উপর দিয়ে ওড়ানোর চেষ্টায় ঠিকমতো টাইমিং করতে ব্যর্থ হন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। এঙট্রা কভার থেকে পেছনে অনেকটা দৌড়ে দারুণ দক্ষতায় বল তালুবন্দি করেন হাওয়েল। দুইটি চার ও একটি ছক্কায় মাত্র ৮ বলে ১৮ রান করেন রনি। চলতি আসরে প্রথমবারের মতো ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়া মিজানুর রহমানও ইংনিস বড় করতে পারেননি। একটি করে ছক্কা ও চারের সাহায্যে ১২ বলে ১৫ রান করে হাওয়েলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি।
১০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৫ রান তোলা ঢাকার ইনিংস গতি পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা কাইরন পোলার্ড ক্রিজে আসার পর। নাজমুল ইসলামের করা ইংনিসের ত্রয়োদশ ওভারে তিন ছক্কায় নেন ২২ রান। চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় মাত্র ২১ বলে করেন চলতি আসরের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি। অবশ্য হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর বেশি দূর এগোতে পারেননি পোলার্ড। ২৬ বলে ৬২ রান করে হাওয়েলের বলে মেহেদি মারুফের হাতে ধরা পড়েন। অপরদিকে এক প্রান্ত আগলে রাখা অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে ফেরান ফরহাদ রেজা। শেষ ওভারের প্রথম বলে বোল্ড হয়ে যান ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১৩ বলে ২৩ রান করা আন্দ্রে রাসেল। আগের দুই ম্যাচে শেষদিকে কার্যকর ইনিংস খেলা শুভাগত হোম ব্যর্থ হলেন গতকাল। ৮ বলে মাত্র ৩ রান করে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন এই অলরাউন্ডার। ইনিংসের শেষ বলে আউট হন নুরুল হাসান সোহান। শেষ ওভারে ৭ রান তুলতে তিন উইকেট হারায় ঢাকা। তারপরও শেষ পর্যন্ত নিজেদের ইনিংসটাকে ১৮৩ রানে নিয়ে যায় সাকিবের দল। রংপুর রাইডার্সের পক্ষে ৩৫ রানে ৩টি উইকেট নেন শফিউল ইসলাম। ২টি করে উইকেট নিয়েছে হাওয়েল এবং সোহাগ গাজি। ১৮৪ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় রংপুর রাউডার্স। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ঝড় তোলার আগেই ফিরেন রংপুরের মূল ভরসা ক্রিস গেইল। শুভাগত হোমের বল বোলারের মাথার উপর দিয়ে ছক্কার জন্য মেরেছিলেন এই ক্যারিবিয় তারকা। কিন্তু লং অফে অবিশ্বাস্য রিলে ক্যাচ নিয়ে তাকে ফেরান ঢাকার দুই উইন্ডিজ অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল ও কাইরান পোলার্ড। পরের ওভারেই রাসেলের বলে উইকেট রক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন আরেক ওপেনার মেহেদী মারুফ। ২৫ রানে দুই ওপেনার ফিরে আসার পর নিজেদের সেরা জুটিটি পায় রংপুর। মিঠুনকে নিয়ে ১২১ রানের জুটি গড়েন রুশো। এ দুজন যখন ব্যাট করছিলেন তখন মনে হচ্ছিল সহজেই ম্যাচটি জিতবে রংপুর রাইডার্স। কিন্তু ৪৪ বলে ৪টি ছক্কা ও ৮টি চারের সাহায্যে মাত্র ৪৪ বলে ৮৩ রান করা রুশোকে ফিরিয়ে ঢাকাকে ম্যাচে ফেরান আলিস আল ইসলাম। এটি ছিল তার প্রথম শিকার। কিন্তু কে জানতো এই তরুণের ঘূর্ণিতেই বধ হবে রংপুর। পরের ওভারে রবি বোপারাকে ফেরান সাকিব। ৩ রান করেন এই ইংলিশ অল রাউন্ডার। ইনিংসের আঠারোতম ওভারে ম্যাচটা এক রকম ছু মেরে নিজেদের অনুকুলে নিয়ে যায় ঢাকা। আর এ কাজটি করেছেন তরুণ আলিস আল ইসলাম। ১৭ তম ওভার শেষে রংপুরের রান ছিল ৪ উইকেটে ১৫৮। তখন তাদের জয়ের জন্য দরকার ১৮ বলে ২৬ রান। আলিস আল ইসলামের করা ১৮ তম ওভারের প্রথম তিন বল থেকে আসে তিন রান। পরের বলে ফিরেন মোহাম্মদ মিঠুন। তাকে সরাসরি বোল্ড করেন এই তরুণ। ৩৫ বলে একটি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৪৯ রান করে ফিরেন মিঠুন। তখনো ম্যাচের লাগাম রংপুরের হাতে। কিন্তু পরের বলে মাশরাফি আউট হলেন একেবারে দুর্ভাগ্যজনকভাবে। বলের সামান্য আঘাতে মাশরাফির বেল উড়ে যায়। শেষ বলে ফরহাদ রেজাকে সাকিবের ক্যাচে পরিণত করে ফেরান আলিস। আর তাতেই এবারের বিপিএলের প্রথম হ্যাটট্রিক পূরণ হয়ে যায় এই তরুণের। শেষ ওভারে রংপুরের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৪ রান। আলিস আল ইসলামের করা সে ওভারের প্রথম দুই বলে দুটি চার মারেন শফিউল ইসলাম। ম্যাচটা জয়ের সুবাশ আবার পাচ্ছিল রংপুর। কিন্তু পরের চার বলে আল ইসলামের বুদ্ধির কাছে হার মানে রংপুরের ব্যাটসম্যানরা। পরের চার বল থেকে মাত্র ৩ রান নিতে সক্ষম হয় রংপুর। ফলে ২ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ঢাকা ডাইনামাইটস। ৪ ওভার বল করে ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন আলিস আল ইসলাম। ২টি উইকেট নিয়েছেন সুনিল নারাইন। তবে ম্যাচ সেরা হয়েছেন হ্যাটট্রিক ম্যান আলিস আল ইসলাম।

x