তরুণদের সামনে তুলে ধরতে হবে সম্ভাবনার দরজা

সোমবার , ২৬ নভেম্বর, ২০১৮ at ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ
46

ভবিষ্যৎ স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদের বিভিন্ন উদ্যোগ, পরামর্শ ও চাওয়া পাওয়ার কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত শুক্রবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তরুণদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শনিবার অনুষ্ঠিত হয় ‘তারুণ্যের সংলাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। দৃষ্টি চট্টগ্রাম ও লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ৩১৫-বি-৪ আয়োজিত এ সংলাপের বিষয় ছিলো : ‘আমার দেশ, আমার ভাবনা’।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখোমুখি অনুষ্ঠানে তরুণরা বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রশ্ন রেখে তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ করার প্রয়াস চালান। পোশাক শিল্পের সম্প্রসারণ, মামলার জট কমানো, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা নামে নতুন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সংসদে তারুণ্যের প্রতিনিধিত্ব প্রভৃতি বিষয়ে মতামত উপস্থাপন করেন তরুণরা। চট্টগ্রামে আয়োজিত সংলাপে শিক্ষিত বেকার সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ, তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ব্যবসায়িক উদ্যোগ, সমকালীন শিক্ষা ব্যবস্থা, সময়োপযোগী নীতি প্রবর্তন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছানো, গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি, প্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন ভাবনা উঠে এসেছে। কেউ কেউ বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারছে না। অনেক তরুণ উদ্যোক্তা আইন-কানুনের জটিলতার কারণে আটকে যাচ্ছেন। তাই এক্ষেত্রে সরকারের নীতি-সহায়তা দরকার।
যেকোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগের জন্য অর্থায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এটাই উদ্যোক্তা হওয়ার প্রধান শর্ত নয়। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য লাগে সাহস, উদ্যম, ইচ্ছাশক্তি, অনুপ্রেরণা ও লেগে থাকার মানসিকতা। এসব থাকলে অর্থায়ন বর্তমান বাস্তবতায় খুব কঠিন বিষয় নয়। দেশের মানুষ, এমনকি অনেক উদ্যোক্তাও মনে করেন, ব্যাংকই অর্থায়নের প্রধান উৎস।
এদিকে, দেশে উচ্চ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তরুণদের প্রধান আগ্রহ সরকারি চাকরির প্রতি। তাঁদের মধ্যে সরকারি চাকরি যাঁরা পাচ্ছেন না, তাঁরা বেসরকারি চাকরির জন্যও নিজেকে প্রস্তুত করতে পারছেন না। ফলে এক পর্যায়ে গিয়ে না সরকারি, না বেসরকারি কোনো চাকরিই মিলছে না। এমন পরিস্থিতি থেকে তরুণদের বের করে আনতে হলে উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। আমাদের তরুণদের কেবল শিক্ষিত করলেই চলবে না, তাদের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করতে হবে। বাস্তবিক পক্ষে, সমাজে যারা কাজ করতে সক্ষম ও কাজ করতে ইচ্ছুক এ রকম প্রতিটি নাগরিককে যেন কাজে নিয়োজিত করা যায়; তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনীতিকে অবশ্যই গতিশীল ও সম্প্রসারিত করতে হবে। তারা যদি শিক্ষিত হয় ও কর্মে নিয়োজিত থাকে, তাহলে তাদের দক্ষতার কার্যকর ব্যবহারও বেড়ে যাবে। তাই আমাদেরকে অবশ্যই উচ্চ ও স্পষ্ট কণ্ঠে বলতে হবে যে কর্মসংস্থান ও কাজ করতে ইচ্ছুক সক্ষম সকল নাগরিকের প্রাথমিক অধিকার এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সমাজের প্রাথমিক দায়িত্ব।
যদিও আমরা জানি, প্রতি বছর ২২ লাখ তরুণ দেশের কর্মবাজারে আসছে। এর মধ্যে পাঁচ শতাংশ তরুণ উদ্যোক্তা হলে দেশের চিত্র পাল্টে যাবে। উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বাধা আছে, সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।
দেশ যেভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য প্রয়োজন জননিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার স্টিয়ারিং সমুন্নত রাখা। দেশের নানা সংকট ও দুর্যোগকালীন মুহূর্তে দক্ষ নেতৃত্বই পারে সমাধানের দিকে এগিয়ে নিতে। এক্ষেত্রে তরুণ সমাজের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে, যাতে সংখ্যালঘুরা নিশ্চিন্তে জীবন অতিবাহিত করতে পারে- তার জন্য এলাকাভিত্তিক ‘তরুণ উদ্যোগ’ গ্রহণ করা যেতে পারে। দেশকে অসাম্প্রদায়িক, মাদকমুক্ত ও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তরুণ থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা দরকার। আমাদের তরুণরা যেন বিপথগামী না হয়, তার জন্য তাদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে সম্ভাবনার সিঁড়ি। তারা সেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠবে, দুর্মর তারুণ্য ধারণ করে অগ্রসর হবে সামনে এবং কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং পথে এগিয়ে যেতে দ্বিধা করবে না- সেই ভরসা আমাদের দিতে হবে। আমাদের তরুণদের সামনে উন্মোচন করতে হবে সম্ভাবনার দরজা।

x