তবুও ভালোর আলো দেখার প্রত্যাশায়…

রবিবার , ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ
59

পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতীয় জীবনে সর্ববৃহৎ উৎসবমুখর দিন। কত আয়োজন আর উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয় প্রতি বছর।কত রঙের কাপড় পরিহিত দেখা যাবে মানুষদের! পুরো দেশ জুড়ে কি এক আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। কত সুরে শুনা যাবে বৈশাখী গান। “এসো হে বৈশাখ.. মুছে যাক গ্লানি.. দূর হয়ে যাক যাক”। কত সুন্দর গানের সব কথা।আসলেই কি গ্লানি দূর হয়ে যায়? বছর কয়েক আগে পহেলা বৈশাখ নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর শেখর দস্তিদার স্যার বলেছিলেন- “দুঃখজনক হলেও সত্য যে দিবস যাপনে আমাদের যতটা উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়,দিবসটির তাৎপর্য গোটা বছরে অন্তরে ধারন করার প্রয়াস ততটা দেখা যায়না”।জানিনা স্যার বেঁচে থাকলে এখন কি বলতেন?
আমাদের দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কেমন যাচ্ছে তা নতুন করে বলার কিছু নেই! ভবনে ভবনে আগুন লাগছে,মানুষ পুড়ে মরছে! মানুষ মানুষকে হত্যা করছে, আগুনে পুড়ে মারছে! কত ভয়ংকর মনমানসিকতা।সম্প্রতি ফেনীতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ তার লোকজন নিয়ে ছাত্রী রাফির শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়! এতো অমানবিক হতে পারে! তার ইতিহাস খতিয়ে দেখলে হয়তো আরো কত কি তথ্য বের হয়ে আসবে! ভিকারুননিসা স্কুলের অধ্যক্ষের আচরনে কষ্ট পেয়ে তার এক ছাত্রী আত্নহত্যা করে! অধ্যক্ষ ম্যাডাম চোখের সামনে ছাত্রীর বাবাকে অপমান করেছে,এই অপমান সহ্য করতে পারেনি তাই এই আত্নহত্যা! এসব অদক্ষ অধ্যক্ষদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। এরকম আরো বহু ঘটনা একের পর এক ঘটছে! শিশুরাও শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতিত হয় প্রতিনিয়ত।
বর্তমান প্রজন্মই ভবিষ্যৎ। এদের প্রতি যদি অবহেলা হয়,বঞ্চনা- লাঞ্চনার শব্দ শোনা যায়, তবে ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে?কারণ এদের ভিতর থেকেই বিকশিত হবে আগামীর নেতা-নেত্রী। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষরূপী হিংস্রদের সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে হবে। কোন ভাবেই তাদের সাপোর্ট দেয়া যাবেনা! অন্যায়কে যিনি সাপোর্ট দিবে তিনিও সমান অপরাধী!
এতো কিছুর পরেও পান্তা কিংবা পোলাও -ইলিশ চলবে! আরো চলবে সাজ সাজ সৌখিন সমাজের সামাজিকতা! যার মাথা তারই ব্যথা! চারিদিকে শোনা যাবে “এসো হে বৈশাখ…মুছে যাক গ্লানি-মুছে যাক..দূর হয়ে যাক যাক”…
তবুও ভালোর আলো দেখার প্রত্যাশায়….
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।
মুনিয়া মুন, কাউন্সিলর, ব্র্যাক, কক্সবাজার।

x