তবুও ফিরছে না ওদের ভাগ্য

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই

মঙ্গলবার , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ
49

প্রতিনিয়ত ওরা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পায় । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ওরা সবসময়ই ভাগ্য বিড়ম্বিত। যোগাযোগ রাস্তাঘাট, জীবন জীবিকা সবকিছুতেই ওরা ভাগ্যাহত আজো। পার্বত্য জনপদ ও পর্যটন নগরী কক্সবাজার এর গণ্ডি পেরিয়ে নানা স্ব উদ্যোগের তাঁত শিল্প বিকাশে ওরা সদা সচেষ্ট হওয়া সত্ত্বেও আজো ভাগ্যের চাকা পাল্টাচ্ছে না তাদের।
মীরসরাই উপজেলার উপজাতীয় পাড়াগুলোতে শিক্ষার আলো থেকে পিছিয়ে থাকা কিছু মানুষ এখন দিনে দিনে হাটছে আলোর পথে। নিজেরাই এখন তৈরী করতে চলেছে নিজেদের পরিধানের নানা বস্ত্র। মাত্র কয়েক টুকরো কাঠের টুকরো দিয়েই অনন্য শৈল্পিকভাবে করে যায় ওদের শিল্পকর্ম। সেদিন করেরহাটের পাহাড়ী জনপদ সাইবেনিখীল, ঘেড়ামারা, কয়লা, রামগড়, মীরসরাই তালবাড়িয়া ত্রিপুরা পাড়া সহ পাহাড়ী জনপদে। আবার উপজেলার মিঠানালা, দুর্গাপুর, হাইতকান্দি, ইছাখালী, কাটাছরা এলাকার অবসর সময়ের নারীদের মধ্যে পাটি বুনন ও পাটি পাতা দিয়ে বিভিন্ন উপকরণ তৈরীর প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিনে দিনে।
যন্ত্রচালিত তাঁতের সঙ্গে টিকতে না পেরে বিলুপ্তির পথে হারিয়ে যেতে বসেছিল এই শিল্পটি। তবে যারা এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছেন, তাদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে উচ্চমূল্যের কাঁচামাল আর কমতির দিকে থাকা চাহিদার সঙ্গে। এসব কারণে অনেকেই ছেড়ে দিচ্ছেন পূর্ব পুরুষের রেখে যাওয়া শখের এই পেশাটি। তবে সময়ের প্রয়োজনে সহজসাধ্য এই পেশা এখন নানান শৈল্পিক উপকরণের সমন্বয়ে ধরা দিচ্ছে গ্রাম বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবিতে।
তাঁতের শাড়ি লুঙ্গি, গামছা, টুপি, হাতব্যাগ, লেডিস পার্টস, নানান রকম সুন্দর ওয়ালমেট নিজেরাই তৈরী করে। আবার রয়েছে মীরসরাই উপজেলার ঐতিহ্যমন্ডিত বহুল প্রসিদ্ধ পাটিপাতার নানান উপকরণ ও । শীতল পাটি তো রয়েছেই। পাশাপাশি শীতল পাটির হাতব্যাগ, শোপিচ, ঝুড়ি, ওয়ালমেট সহ নানান সামগ্রী যেন দিনে দিনে জনপ্রিয়ই হয়ে উঠছে । একসময় মীরসরাই উপজেলার শীতলপাটির সুনাম ছিল দেশজুড়ে। এখানকার পাটি সরবরাহ হতো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, দেশে বিদেশে ও।
করেরহাটের উপজাতি পাড়ার বৃদ্ধা চারুবালা বলেন , কিছু প্রতিকূলতার জন্য এগুতে পারছে না এই তাঁত ও কারুশিল্প। বিশেষ করে সুতা ও উপকরণগুলো সুদূর খাগড়াছড়ি থেকে আনতে হয়। আবার এখানে নেই কোন ক্রয়বিক্রয় কেন্দ্র ও। হাতের কাছে কাঁচামাল ক্রয় ও উৎপাদিত পণ্য ক্রয়বিক্রয় করার সুবিধা থাকলে আমাদের এই পাহাড়ে অনেক সুন্দর তাঁত শিল্প সম্ভব বলে জানালেন উপজাতি পাড়ার সকলেই।
স্থানীয় করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন এর সাথে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি চাইছি খুব শীঘ্রই আমার এলাকার তাঁতের পোশাক উৎপাদনকারীদের নিয়ে তাদের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে একটি মতবিনিময় করবো। স্থানীয় আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুবুর রহমান রুহেল ও উপজাতিদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিবেন বলে জানিয়েছেন।
কিন্তু বছরের পর বছর ঘুরে একই প্রতিশ্রুতি শুনে আসছে ওরা। ওদের ভাগ্যের চাকা ঘুরছে না কোনভাবে।

x