তবুও দলের পারফরম্যান্সে খুশি বাংলাদেশ কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
7

ইংলিশ কোচ জেমি ডে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বেশ উন্নতি হচ্ছে বাংলাদেশের খেলায়। এশিয়ান গেমসে ভাল করার পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও শুরুটা ভাল করেছিল। কিন্তু শেষটা সেভাবে হয়নি। আর এবারে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপেও ভাল কিছু করার প্রত্যাশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে সেমিফাইনাল থেকে। ফিলিস্তিনের কাছে হারের হতাশা থাকলেও দলের খেলায় খুশি জেমি ডে। তবে বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে খেলা বিপুল-জনিদের চূড়ান্ত প্রচেষ্টাগুলো ঠিকঠাক হয়নি বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ। কঙবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে গতকাল বুধবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হারে স্বাগতিকরা। অষ্টম মিনিটে এগিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিন দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে দ্বিতীয় গোলটি করে।
অন্যদিকে ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ রাখলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে শিষ্যদের লড়াই করার মানসিকতায় খুশি জেমি। তিনি বলেন ছেলেদের পারফরম্যান্সে আমি আসলেই গর্বিত। শুরুর ১০ মিনিট আমরা একটু ধীরগতির ছিলাম। অষ্টম মিনিটে যে গোলটি খেয়েছি, সেটাও বিপজ্জনক এলাকায় ছিল। ওরা ছিল দীর্ঘদেহী। কিন্তু আমরা আসলেই ভালো ফুটবল খেলেছি। মাঠে বল দখলে আমরা মোটেও পিছিয়ে ছিলামনা। তিনি বলেন আমাদের মুভমেন্ট, জায়গা তৈরি করা, সুযোগ তৈরি করা সবকিছু ভালো ছিল । কিন্তু একই গল্প লেখা হলো যে আমরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। কিন্তু আজ আমি সত্যিই গর্বিত। প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়া হতাশার কিন্তু ছেলেরা আসলেই ভালো খেলেছে।
খেলার ত্রয়োদশ মিনিটে মাশুক মিয়া জনির শট গোলরক্ষক এবং ২১তম মিনিটে মাহবুবুর রহমান সুফিলের শট ডিফেন্ডার মুসাব আটকে দেন। আর প্রথমার্ধের শেষ দিকে নাবীব নেওয়াজ জীবনের হেড বাইরের জালে লাগে। শেষ দিকে পাওয়া কর্নারের সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি দল। তাই প্রতিপক্ষের পোস্টের সামনে সামনে শিষ্যরা যথেষ্ট ভালো ছিল না বলে জানান জেমি।
বাংলাদেশ দলের কোচ বলেন যখন আপনি তুলনামূলকভাবে আপনার চেয়ে ভালো দলের বিপক্ষে খেলবেন, তখন ছোটখাট বিষয়গুলো পার্থক্য গড়ে দেবে। আমাদের পাসিং ভালো ছিল । কিন্তু চূড়ান্ত পাস দেওয়ার সময় বা শট নেওয়ার সময় আমরা পারিনি। যেটা ফিলিস্তিন পেরেছে। তাদের ক্রসটা ঠিকমতো হলো। হেডও হলো ঠিকঠাক এবং তারা গোল পেল। অন্যদিকে বঙের মধ্যে আমরা যখন বল পেলাম, চূড়ান্ত শটটা যথেষ্ট ভালো হলো না। আমাদের আরও অনেক খেলা প্রয়োজন। বল দ্রুত মুভ করানো, পাস দেওয়া শেখা দরকার। আমরা এ প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বড় দল নই। আমি মনে করি এখন আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা সুযোগ তৈরি করেছি কিন্তু গোল করতে পারিনি। আমাদের গোল করা দরকার।
তিনি বলেন আমাদের চেয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রায় ১০০ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে আমরা খেলেছি। ম্যাচের আগে অনেকে সেট পিস নিয়ে কথা বলেছেন। আমি মনে করি আমরা এ দিকটাতেও ভালো করেছি। ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করেছে। ভালো ফুটবল খেলেছে। হতাশা শুধু একটাই-আমরা হেরেছি। তবে আমি পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ নই। ফাইনালে ওঠার পর এই প্রথম বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের শিরোপা জয়ের লক্ষ্য জানালেন নুরুদ্দিন আলি। প্রশংসা করলেন বাংলাদেশের খেলারও। বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য। তারা নিজেদের মাঠে এত দর্শকের সামনে হেরেছে। জীবন বাংলাদেশের ভালো ফরোয়ার্ড। তার খেলা চোখে পড়েছে। ফাইনালের আগে এটি আমাদের জন্য প্রথম-ফাইনাল ছিল। এখন আমাদের সামনে লক্ষ্য ট্রফি জেতা।

x