তপনের মৃত্যুতে বেকাদায় ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক

আগে থেকেই অবস্থান জানা ছিল প্রতিপক্ষের

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি

সোমবার , ৭ মে, ২০১৮ at ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ
59

দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমার (বর্মা) অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে বেকাদায় পড়েছে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। দলটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পূর্বেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন দলের প্রধান নেতা। তাই প্রতিষ্ঠার মাত্র ছয় মাসের মাথায় দলীয় প্রধানের মৃত্যকে বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন নেতা কর্মীরা। এতে দলটির ভবিষ্যত অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে কিনা তা নিয়েও চিন্তিত নেতাকর্মীরা।

গত শুক্রবার নানিয়াচর উপজেলার চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমা (বর্মা)। এসময় মারা যান আরো চারজন।

তপন চাকমার দীর্ঘ দিনের সহযোদ্ধা, ইউপিডিএফ এর আহ্বায়ক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য ও তথ্য শাখার প্রধান লিটন চাকমা বলেন, ‘দাদার (তপন) রাজনীতি সূচনা ইউপিডিএফ এর হাত ধরে। ১৯৯৮ সালের ইউপিডিএফ এর সূচনালগ্নে তিনি যুক্ত হন। শুরুতে তিনি দলটির সামরিক শাখার সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব নিলেও পরে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি পার্বত্য এলাকায় দলটির সামরিক শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এতে পার্বত্য এলাকাজুড়ে ইউপিডিএফ এর শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়। কিন্তু দলের অভ্যন্তরে চাঁদাবাজি ও নারী কেলেংকারিসহ নানা বিষয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি হওয়ায় এক পর্যায়ে দীপ্তিশংকর চাকমা, প্রদীপন খীসা ও অভিলাষ চাকমাসহ অনেক নেতাকর্মী দল ত্যাগ করেন। এর ফলে অনেককে মেরে ফেলাও হয়।

তিনি আরো বলেন, ‘দলত্যাগী অনেকে সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। দলের ভেতর আদর্শগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালে তপন জ্যোতি ইউপিডিএফ ত্যাগ করেন। এরপর থেকেই তিনি রোষাণলে পড়েন। মূলত ইউপিডিএফএ সামরিক শাখার দায়িত্বে থাকার সুবাদে তিনি দলের অনেক অতি গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাই দলত্যাগের পর থেকেই তার প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত ছিল।’

লিটন চাকমা বলেন, ‘ঘটনার দিন খাগড়াছড়ি থেকে শেষকৃত্য যাওয়ার সময় গাড়ি বহরে আমিও ছিলাম। ঐদিন গাড়ি বহরে প্রায় ৮টি গাড়ি ছিল। এর মধ্যে ৪টি চান্দের গাড়ি (জীপ), ২টি বাস এবং আমাদের বহনকারী সাদা ও কালো রঙের দুটি মাইক্রোবাস ছিল। কিন্তু সন্ত্রাসীরা শুধু তপন চাকমাকে বহনকারী সাদা মাইক্রোবাসেই হামলা চালিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি নিজে গাড়ি বহরে থাকলেও তপন দা যে একই বহরে থাকবে সেটা জানতাম না। তার মৃত্যুর পরে জানতে পারলাম, তিনি মহালছড়ি থেকে আমাদের গাড়িবহরে যুক্ত হয়েছিলেন। গাড়ি বহরে তপন দা’র অবস্থান এবং পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সেই গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলার বিষয়টি এখনো রহস্যজনক। এতে বোঝা যায়, আগে থেকে তপন দা গাড়ি বহরে নানিয়াচরে যাওয়ার বিষয়টি প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা জেনে যায়। তবে কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে বা কারা এর সাথে জড়িততা বলা যাচ্ছে না।’

এই ঘটনার জন্য প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফকে দায়ী করা হলেও ইউপিডিএফ বলছে, তারা এই হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। গতকাল ইউপিডিএফ এর প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের কেন্দ্রীয় প্রধান নিরণ চাকমা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘৪ মে নানিয়াচরে বেতছড়িতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের হামলায় তপন জ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজনের মৃত্যু ও আটজনের জখম হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও রহস্যজনক।’ তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে নিরাপরাধ কাউকে হয়রানি না করার আহ্বান জানান।

x