ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দ্রুতগতির ট্রেন চাই দ্রুত সময়েই

সোমবার , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ
129

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক -এডিবি জানিয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে এখন যে অবকাঠামো রয়েছে, তা ব্যবহার করেই দ্রুতগতির ট্রেন চালানো সম্ভব। ঢাকায় এডিবির আবাসিক প্রতিনিধি মনমোহন পারকাশের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ১লা ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, এডিবি কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাতে গিয়েছিলেন। মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এডিবির প্রতিনিধি মনমোহন পারকাশ আমাকে জানিয়েছেন যে ঢাকা-চট্টগ্রামের বিদ্যমান রেললাইনেই দ্রুত গতির রেল পরিবহন পরিচালনা করা সম্ভব।’ ট্রেনে এখন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা লাগলেও হাইস্পিড ট্রেন চালু করে এই সময় দুই ঘণ্টায় নামিয়ে আনতে চায় সরকার। হাইস্পিড রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং নকশা তৈরির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যমান ট্র্যাকের উপরেই দ্রুতগতির সার্ভিস দেওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে আমার জানা ছিল না। এডিবি জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের একটা সমীক্ষাও করা আছে।’ এডিবির এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছি জানিয়ে মন্ত্রী মান্নান বলেন, তাদের প্রস্তাবের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।
কিন্তু আজাদীতে এর আগে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশ রেলওয়ের পদস্থ একজন কর্মকর্তার মতামত তুলে ধরা হয়েছিল। তাতে তিনি বলেছেন, বিদ্যমান ঢাকা চট্টগ্রাম রেল লাইনের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ আশি কিলোমিটারের বেশি গতির ট্রেন চালানো সম্ভব নয়। বর্তমানে সর্বোচ্চ ৬৫ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো হয়। তাও পুরো রাস্তায় সম্ভব হয় না। দ্রুতগতির ট্রেন চালাতে হবে ২০০ কিলোমিটার স্পিডে। আর এই গতির ট্রেন চালানোর জন্য নতুন রেল লাইন নির্মাণ বা বিদ্যমান রেলপথ সংস্কার করতে হবে। অপরদিকে বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা রেলপথের দূরত্ব ৩২০ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার। বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী- কুমিল্লা- বি-বাড়িয়া, ভৈরব বাজার এবং টঙ্গি হয়ে অনেকটা বৃত্তাকারে ট্রেন ঢাকায় পৌঁছে। এতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ এই পথটিকে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা হয়ে কুমিল্লার লাকসামের ওপর দিয়ে নিয়ে আসা হলে দূরত্ব কমে যাবে প্রায় ৯০ কিলোমিটার। দূরত্ব কমে গেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব নেমে আসবে ২৩০ কিলোমিটারে। আর এই পথ দ্রুতগতির ট্রেন মাত্র দুই ঘণ্টায় পাড়ি দেবে। পথিমধ্যে কয়েকটি স্টেশনে যাত্রী উঠা-নামানোতে কিছুটা সময়ক্ষেপণ হবে বলে দুই ঘণ্টা সময় লাগবে। অন্যথায় দেড় ঘণ্টারও কম সময়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ সম্ভব বলেও জানিয়েছেন রেলওয়ের ওই কর্মকর্তা।
তাঁর এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই বলা যায়, যদি বিদ্যমান ঢাকা চট্টগ্রাম রেল লাইনের ওপর দিয়ে দ্রুতগতির ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে তার সংস্কার জরুরি।
বর্তমান সরকারের আমলে রেলওয়েতে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। চলমান সব প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হলে রেলওয়েতে আমূল পরিবর্তন আসবে। আখাউড়া-লাকসাম ৭২ কিলোমিটার ডাবল লাইনের কাজ সমাপ্তের পর এর ফসল ভোগ করবেন যাত্রীরা। পুরো লাইন ডাবল হলে এ পথে দ্রুতগতির ট্রেনসহ বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনও চালানো সম্ভব হবে। দেশের সব রেললাইনকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা হলে সব জেলায় রেলওয়ের নেটওয়ার্কের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, দ্রুতগতির ট্রেন কিংবা বুলেট ট্রেন চালুর উপযুক্ত পথ হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই পুরো এ লাইনকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ৩২৫ কিলোমিটারের মধ্যে ১১৮ কিলোমিটার ডাবল লাইন ছিল। পরে ২০১১ সালে টঙ্গী-ভৈরববাজার পথে ৬৪ কিলোমিটার ও লাকসাম-চিনকি আস্তানা পর্যন্ত ৭১ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মাণ করা হয়।
এখানে উল্লেখ্য, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের প্রধান প্রধান আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পন্ন হয় এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সবচেয়ে বেশি পণ্য পরিবহন হয়। বিদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়তে থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরের অর্থনৈতিক গুরুত্বও দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের মাতারবাড়ীতে ‘পাওয়ার হাব’ (বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র) ও সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এসব উন্নয়ন কার্যক্রম ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরের গুরুত্ব আরও বাড়াবে। এ করিডরে ভ্রমণ সময় কমিয়ে আনা গেলে তা বিদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্য কার্যক্রম বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দ্রুতগতির রেলওয়ে সার্ভিস চালু হলে এর সুবিধা ভোগ করবেন সংশ্লিষ্টরা।

x