ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গতিপথ মসৃণ থাকুক

সোমবার , ৪ জুন, ২০১৮ at ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ
73

অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ভারসাম্য হারাতে বসেছে ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়ক। নকশা অনুযায়ী মহাসড়কটিতে প্রতিদিন ৬০ হাজার যান চলাচল করতে পারবে। বর্তমানে এর মাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে অচিরেই তা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এ অবস্থায় সড়কটির সক্ষমতা ২০৩০ সাল পর্যন্ত থাকলেও তা ২০২০ সালেই হারিয়ে ফেলবে। বর্তমানে মহাসড়কটিতে যানজটও ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে। ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের কারণে ফেনীর রেলক্রসিং এলাকায় ঢাকামুখী গাড়ি চললে চট্টগ্রামমুখী গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। একইভাবে চট্টগ্রামমুখী চললে ঢাকামুখীগুলো বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়াও কাঁচপুর সেতু এবং মেঘনা ও গোমতী সেতু এলাকার কারণে যানজট হচ্ছে।

এদিকে এ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ভগ্নদশা দেখা দিয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে নানা পত্রিকায়। এতে বলা হয়েছে, ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প শেষ হয়েছে গত বছরের জুনে। প্রকল্প পত্রে বলা হয়, এই সড়ক ২০ বছর টেকসই হবে। কিন্তু দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়ক নির্মাণের এক বছর পার না হতেই বিভিন্ন স্থানে ভগ্নদশা দেখা দিয়েছে। ফলে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যায় প্রায় হাজার কোটি টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর রক্ষণাবেক্ষণের নতুন প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

এই প্রকল্প প্রস্তাবের পর থেকেই দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন হিসেবে বিবেচ্য এই মহাসড়ক নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সরকারি তদারকি সংস্থা আইএমইডি মনে করছে, ঢাকাচট্টগ্রাম চার লেন যথাযথ মান বজায় রেখে নির্মাণ করা হয়নি। যে কারণে আগেভাগেই এ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ফুটে উঠেছে ভগ্নদশা। তবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বক্তব্য হচ্ছে, প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত ভার বহনের ফলে সড়কের ক্ষতি হচ্ছে, যা কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। যে কারণে ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রকল্প এখন আবশ্যক হয়ে পড়েছে। এ ধরনের বড় প্রকল্পে পাঁচ বছরের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম মূল প্রকল্পের সঙ্গেই নেওয়া হয়। কিন্তু ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রকল্পের ডিপিপিতে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু ছিল না। ফলে এখন নিতে হচ্ছে।

এদিকে অতিরিক্ত ওজনের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে মহাসড়কটি। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এর বিভিন্ন অংশ। এ ছাড়া বৃষ্টিতেও মহাসড়কটির কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। মহাসড়কটির ডিজাইন লাইফ (আয়ুষ্কাল) দ্রুত কমে যাচ্ছে। এ জন্য চার লেন রক্ষায় নতুন প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করেছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদনে (পিসিআর) বলা হয়, চার লেন প্রকল্পটিতে নকশা অনুযায়ী ৫০৭০ গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে সিলেট থেকে আনা পাথরের সংমিশ্রণ খুব একটা টেকসই ছিল না। এতে বিটুমিন উঠে গিয়ে কিছু অংশের সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। অথচ রাবারাইজড বিটুমিন বা পলিমার ব্যবহার করলে মহাসড়কটির পেভমেন্টের আয়ুষ্কাল আরও বেশি স্থায়ী হতো। এ জন্য সড়কের বিভিন্ন গর্তখানাখন্দ এখন মেরামত করতে হচ্ছে নতুন করে। মহাসড়কটির নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারেও কিছু ত্রুটি ছিল বলে মন্তব্য করা হয়েছে পিসিআরে।

আমরা প্রত্যক্ষ করছি যে, কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সারা দেশের সড়কমহাসড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা সড়কমহাসড়কে যানবাহনের ধীরগতিতে দীর্ঘ যানজটে পড়ছেন যাত্রীরা। ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে মহাসড়কে মহাদুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন ঘরমুখী মানুষ। ইতিমধ্যে তাঁরা বাড়ি ফেরার বিকল্প বাহনের চিন্তায় রয়েছেন। বিদ্যমান সংস্কারের গতি ধীর হওয়ায় এবারও ঈদযাত্রায় যাত্রীদের দুর্ভোগের আতঙ্ক কাটছে না।

ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কটির মতো গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি যাতে মজবুত ও চলাচল উপযোগী থাকে এবং তার গতিপথ যাতে আরো মসৃণ হয়, তার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। মহাসড়কটির আয়ুষ্কাল যেন দীর্ঘ হয়, যেন তার ভগ্নদশার একটা গতি আসে, তার বিষয়েও ভাবতে হবে। আমরা চাই, ঢাকাচট্টগ্রাম মহাসড়কে যেন ভারসাম্য রক্ষা হয়।

x