ঢাকা কেন্দ্রের ওপর নির্ভর হয়ে পড়ছে অনুষ্ঠানসূচি

সাতদিন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ৭ জুন, ২০১৮ at ৪:২৪ পূর্বাহ্ণ
23

যেমনটা আশঙ্কা করা হয়েছিল তাই বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। আনন্দনের নিয়মিত এ আলোচনায় বারবার আশংকা প্রকাশ হয়েছিল, ঢাকা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রচারে নিয়ম নীতি না মানলে চট্টগ্রাম কেন্দ্র নিজস্বতা হারাবে। বাস্তবেও হচ্ছে তা। দিনে দিনে ঢাকা কেন্দ্রের ওপর নির্ভর হয়ে পড়ছে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র। প্রায় প্রতিদিন একাধিক অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে ঢাকা থেকে ধার করে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন, প্রধানমন্ত্রীর দশটি উদ্যোগ নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য অনুষ্ঠানও প্রতিদিন প্রচারিত হচ্ছে। গত মঙ্গলবার একসাথে তিনটি ঢাকা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়েছে। বিজ্ঞান বিষয়ক অনুষ্ঠান গল্প নয় সত্যি, প্রিয় শিল্পী প্রিয় গান এবং একটি সাপ্তাহিক নাটক। বিজ্ঞান বিষয়ক অনুষ্ঠানটিতে নায়ক ফেরদৌসের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন শিল্পী সামিনা চৌধুরী। তার কিছুক্ষণ পর দিনাত জাহান মুন্নির উপস্থাপনায় প্রিয় শিল্পী প্রিয় গান অনুষ্ঠানেও গেয়েছেন এই শিল্পী (সামিনা চৌধুরী)। প্রতিদিন মাত্র ছয় ঘণ্টার সম্প্রচারের বেশিরভাগই যদি ঢাকা কেন্দ্রের দখলে চলে যায় তাহলে একটা সময় গিয়ে আলাদা করে আর চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রয়োজনই থাকবে না। তাই কর্তৃপক্ষ এখনই ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারে মনোযোগী না হলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামবাসীকে বড় মূল্য দিতে হবে।

অবশ্য, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের দেখানোর মতো অনুষ্ঠানও নেই বললেই চলে। সম্প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকেই টক শো আর গানের পর গানের অনুষ্ঠান। মাঝে মাঝে ভাবি, মাত্র ছয়টা ঘণ্টাই তো, এই অল্প সময়টাই সামাল দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ, এদেরকে ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচারের সুযোগ দিলে কি করত? না আছে আলোচক, না উপস্থাপক না ভালো মানের কোনো শিল্পী। একই ব্যক্তিরা ঘুরে ফিরে কখনো আলোচক কখনো উপস্থাপকের ভূমিকায় অভিনয় করে যাচ্ছেন। দিনের পর দিন যাচ্ছে কিন্তু অনুষ্ঠানের মান আর বাড়ে না। একই স্টাইলে একই অনুষ্ঠান চলছে বছরের পর বছর।

রমজানের মতো পবিত্র মাসকে ঘিরে সব টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যখন একের পর এক সব অনুষ্ঠান প্রচার করছে বিটিভি চট্টগ্রাম তখন একটি গৎবাঁধা আলোচনা আর রান্নার অনুষ্ঠান প্রচার করেই সব দায়িত্ব শেষ। এ চ্যানেলটি দেখলে মনে হবেই না, যে রমজান মাস চলছে। সন্ধ্যার পর থেকেই একের পর এক সঙ্গীতানুষ্ঠান। এসব গানেরও আবার না আছে কোনো আবেদন, না আছে কোনো জনপ্রিয়তা। যেসব শিল্পীর নামই দর্শক কোনোদিন শুনেননি সেসব শিল্পীরাই পুরো রাত দখল করে রাখেন টেলিভিশনের স্ক্রিন।

অনুষ্ঠানগুলোর মতোই গৎবাঁধা সংবাদও। চট্টগ্রামে এত বড় বড় ঘটনা তার ছিটেফোটাও নেই। খবরের শিরোনাম একদিন প্রচার হয়, তো পরের দুইদিন আর খবর নেই। উপস্থাপনায়ও নেই কোনো বৈচিত্র্য। সামনে ঈদ। প্রতিদিনের অনুষ্ঠানমালা দেখে ভালো কিছু আশা করা যায় না।

x