ঢাকা ওয়াসার পানি এবং সত্যজিৎ রায়ের গণশত্রু

শৈবাল চৌধুরী

মঙ্গলবার , ১১ জুন, ২০১৯ at ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
39

পৃথিবীর তিনভাগ পানি আর একভাগ মাটি। প্রকৃতি তার ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যেই এই অনুপাত তৈরি করেছে। সবাই জানি পানির কারণেই প্রাণের সৃষ্টি। এই প্রাণই পৃথিবীর প্রধান শক্তি। অন্য কোনো গ্রহে যার অস্তিত্ব এখনো প্রমাণিত হয়নি। বলা হয় পানির অপর নাম জীবন। কথাটি কেবল পানি পান করে জীবন ধারনের বিষয়টি মাথায় রেখে বলা হয়নি। এই পানিকে অবলম্বন করেই গড়ে উঠেছে মানব সভ্যতা। পৃথিবীর সবকটি ধর্মেই পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র পানির বিষয়টি প্রতিটি ধর্মেই বিদ্যমান। বিভিন্ন নদী, জলাশয়, ঝর্ণা বিভিন্ন ধর্মে পবিত্র জ্ঞানে বিবেচিত। যদিও কোনো কোনো নদী আজ সে ধর্মের অনুসারীদের কারণেই আজ দূষিত।
বিশ্বের প্রাচীন ও নবীন ছোট বড় সব শহরই কোনো না কোনো নদী কিংবা সমুদ্রের পাড়ে গড়ে ওঠেছে। এটা কেবল পরিবহনের বা যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে করা হয়নি, সুপেয় পানি, মুক্ত বাতাস, বিনোদন ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখে করা হয়েছে। পরবর্তীকালে জনাধিক্যের কারণে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পয়োপ্রণালী। আর তখনই নদীগুলোর সর্বনাশের শুরু। বলা যায় অপবিত্রতারও শুরু। আরো পরে যন্ত্র সভ্যতার যুগে বিভিন্ন শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠেছে এসব শহরকে ঘিরে। কোথাওবা বড় বড় শিল্প নগরী কিংবা শিল্প এলাকা গড়ে উঠেছে নদী বা সমুদ্রকে ঘিরে। আর এর মাধ্যমে নদীগুলোর সমূহ সর্বনাশ সাধিত হয়েছে।
একটা শহরের পাশে যদি একটা নদী থেকে থাকে তবে সে শহরকে সৌভাগ্যবতী বলা হয়। অবশ্য মরুর দেশগুলি ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্রই শহরগুলি এ অর্থে সৌভাগ্যবতী। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের অনেকগুলো শহর এদিক থেকে পরম সৌভাগ্যবতী। একাধিক নদীর সহাবস্থানে অনেক শহর এদেশে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, চাঁদপুর, ভৈরব, বরিশাল। নদীবিহীন কোনো শহরতো দূরে থাক গঞ্জও নেই এদেশে। কিন্তু সে নদীগুলো বুজিয়ে, দখল করে আমরা শহরগুলোর ধ্বংস তরান্বিত করছি। বিশ্বজুড়ে আজ সুপেয় পানির সংকট। বলা হয় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে সুপেয় পানি নিয়ে। একটি ছবিও তৈরি হয়ে গেছে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে।
আমাদের রাজধানী ঢাকা পরম সৌভাগ্যবতী এক নগরী ‘ছিল’ নদীর কল্যাণে। এর চারপাশে পাঁচটি নদী। বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী। একটু দূরে দুই প্রান্তে আরো দুটি মহানদী পদ্মা ও মেঘনা। বাড়তে বাড়তে ঢাকা শহর এ দুটি নদীর কাছাকাছি চলে গেছে। অথচ সেই সৌভাগ্যবতী ঢাকা আজ বিশ্বের তৃতীয় দূষিত শহর। অবশ্য বাংলাদেশ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার চেয়ে দূষণের মাত্রা নারায়নগঞ্জে বেশি। এ শহরের চারপাশেও চারটি নদী!
বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত শহর ঢাকা, যাকে এখন অনেকে মৃত নগরী বলছেন তার জনজট ও যানজটের কারণে। এ শহরে যানজট এখন কেবল মাটিতে নয় আকাশেও। অর্থাৎ ফ্লাইওভারেও। অভিষ্ট উদ্দেশ্যও তবে কি ব্যর্থ? অবশ্য এর প্রধান কারণ- সর্বকেন্দ্রীকরণ। কাজেই শহরটিকে পুনর্জীবিত করার সুযোগ এখনো আছে। এ শহরের সাম্প্রতিক মহাসমস্যা- ওয়াসার পানি। যা পান করলে জীবন সংশয়! ব্যবহার করলে চরম চর্মব্যাধি! অথচ সে পানি সরবরাহ করছে সরকারের শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান- ওয়াসা, যার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয় আবার সদম্ভে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, তার পরিচালিত ঢাকা ওয়াসার পানি বিশুদ্ধ ও যথাযথ পরিশোধিত। এ পানি দিয়ে শরবত তৈরি করা যায়। কিন্তু তার গ্রাহকেরা যখন সে পানি দিয়ে শরবত তৈরি করে তাকে পান করাতে নিয়ে যান, তখন তাকে তার দপ্তরে খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রায় দুই কোটি জনসংখ্যার এ শহরের ওয়াসার পানিতে ময়লা ভাসে, পচা দুর্গন্ধ এবং সে পানির রঙ প্রায় হলুদ! সারাদিন সেদ্ধ করেও তাকে দূষণমুক্ত করা যাবে না। চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির দশা এখনো সে পর্যায়ে ‘পুরোপুরি উন্নীত’ না হলেও অনেক জায়গায় একই রকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে প্রায় এক কোটির এ শহরে ওয়াসার পানির সরবরাহ এখনো অনেক কম। পুরো শহরের প্রায় অর্ধেক অংশ এখনো চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহের অধীনে আসে নি। এই দুটি শহরে পানির সংকট বছরজুড়ে থাকলেও প্রতিটি বরষায় শহর দুটির প্রচুর অংশ বানভাসি অবস্থায় থাকে।
চলচ্চিত্র সমাজের দর্পণ বলে আখ্যায়িত। মহৎ চলচ্চিত্রতো বটেই। মহৎ চলচ্চিত্রকারেরা সুদূর প্রসারী দৃষ্টিসম্পন্ন হন। প্রচলিত সময়ের চাইতে এগিয়ে থাকেন। এ জন্য তাঁদের যুগদ্রষ্টা বলা হয়ে থাকে। সৎ শিল্পের মহত্ত্বই তাই। ১৯৯০ সালে সত্যজিৎ রায় যে ছবিটি নির্মাণ করেছিলেন, সে ছবির বিষয়বস্তু ছিল ‘পানি’। তবে সে পানি মন্দিরের পবিত্র ‘চরণামৃত’, পবিত্র জল। যা দূষিত হয়ে মন্দিরের সেই শহরে নানা রোগব্যাধি তৈরি করছিল নাগরিকদের শরীরে। ছবিটির নাম ‘গণশত্রু’।
সত্যজিৎ গণশত্রু নির্মাণ করেছিলেন হেনরিক ইবসেনের নাটক এন এনিমি অফ দ্য পিপল অবলম্বনে। তবে তিনি নাটকটিকে উপমহাদেশ তথা বাংলার প্রেক্ষাপটে রূপান্তর করে নিয়েছিলেন। যার ফলে ছবিটি হয়ে উঠেছিল পুরোপুরি এই অঞ্চলের। ইবসেনের নাটকটি ১৮৮২ সালে লেখা। ১৩৭ বছর আগে তিনি পানি নিয়ে ভেবেছেন। দূষিত পানি নিয়ে যা মানুষের জন্যে চরম ক্ষতিকারক। সত্যজিৎ রায়ও দীর্ঘ রোগ ভোগের শেষে পাঁচ বছরের বিরতির পর আবার যখন ছবি করতে এলেন তিনি এমন একটা বিষয় বেছে নিলেন যা জনহিতকর।
ইবসেনের নাটকটি একটি গীর্জা ও তীর্থস্থান এবং তৎসন্নিহিত একটি প্রস্রবনের পানির দূষণ নিয়ে রচিত। তীর্থযাত্রীরা দূষিত পানি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। কিন্তু তীর্থস্থান কর্তৃপক্ষ তা স্বীকার করছিলেন না। কেন না স্বীকার করলে তীর্থযাত্রী কমে যাবে বা আসবে না। আর এর ফলে তাদের আয় উপার্জন হ্রাস পাবে। এমনকি বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তীর্থ যাত্রীদের অসুস্থতা ও প্রস্রবনের পানি পরীক্ষা করে স্থানীয় এক চিকিৎসক এ দুয়ের মধ্যেকার সম্পর্ক আবিষ্কার করে স্থির সিদ্ধান্তে এলেন, পানি মারাত্মক রকমের দূষিত এবং তিনি তা জানিয়ে দিলেন। সে শহরের মেয়র যিনি কিনা ডাক্তার সাহেবের কনিষ্ঠ ভ্রাতা তিনি তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে গিয়ে গির্জার যাজক ও তীর্থস্থান কর্তৃপক্ষের পক্ষ নিলেন স্বার্থসিদ্ধির কারণে। ডাক্তার সাহেবকে নাস্তিক অভিহিত করে জনগণের শত্রু (এন এনিমি অফ দি পিপল) বলে আখ্যায়িত করলেন সবাই মিলে এবং জনগণের কাছ থেকে কোণঠাসা করে ফেললেন।
এই নাটক নিয়ে বহুরুপী থিয়েটার দল শম্ভু মিত্রের নির্দেশনায় ও অভিনয়ে কলকাতায় দশচক্র নামে একটি সাড়া জাগানো নাটক মঞ্চস্থ করেছিলেন ১৯৬০ এর দশকে। সেটাও বাংলার পটভূমিতে রূপান্তর করা হয়েছিল।
তবে সত্যজিৎ রায় যখন ১৯৮৯ (ভারতে মুক্তি পায় ১৯৯০ সালের ২০ জানুয়ারি ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপণী চলচ্চিত্র হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্র কেন্দ্র নন্দনে) সালে গণশত্রু নির্মাণ করেন, তখন তিনি পানির দূষণ এবং এর ফলে জনস্বাস্থ্যের অহিতকর দিকের পাশাপাশি এতদঅঞ্চলের ধর্মীয় অন্ধ সংস্কারের বিরুদ্ধেও সুস্পষ্টভাবে আলোকপাত করেন। সত্যজিৎ রায় হেনরিক ইবসেনের নাটকের কাহিনী রেখার খুব একটা পরিবর্তন করেন নি। সিনেমায় তিনি ডাক্তারের স্কুল শিক্ষিকা কন্যা ও তার সমাজকর্মী বন্ধুকে এনেছেন। সৎ সাংবাদিক চরিত্রটির মধ্য দিয়ে ইয়েলো জার্নালিজমের ব্যাপারটিকেও তুলে ধরেছেন যা কায়েমি স্বার্থ চারিতার্থ করার মানসে ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। এই সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের (যারা সেসব পত্রিকার পাঠক) স্বার্থকে হেলায় তুচ্ছ করে তাদের কল্যাণমুখী সংবাদ অবলীলায় প্রকাশ থেকে বিরত থেকে বরং বিপরীতমুখী ক্ষতিকর সংবাদ প্রকাশ করে। ইবসেনের নাটকে ডা. স্টকমান শেষ দিকে একা ও অসহায় হয়ে পড়েন। কিন্তু সত্যজিতের চলচ্চিত্রে ডা. অশোক গুপ্তের পাশে এসে দাঁড়ান সেই সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিক যিনি লিফলেটের মাধ্যমে মন্দিরের চরণামৃত দূষিত হওয়ার সংবাদটি সর্বজন সমক্ষে প্রচারের দায়িত্ব নেন। এই সাংবাদিক অবশ্য ইতোমধ্যেই তার চাকরিটি হারিয়েছেন। ডা. অশোক গুপ্তের পাশে থাকেন স্ত্রী, কন্যা, কন্যার বন্ধু এবং শহরের সচেতন যুব সম্প্রদায়। সমস্যা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলার এবং সমস্যার সমাধানের ইতিবাচক প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে সত্যজিতের গণশত্রু শেষ হয়।
সত্যজিৎ রায় এই ছবিটি নির্মাণ করার আগের সাত আট বছর যথেষ্ট অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় তিনি সেরে ওঠেন। চিকিৎসকদের প্রতি তাঁর এক গভীর মমত্ববোধ ও আস্থা জন্মায় এর ফলে। জীবনের শেষ তিনটি ছবি গণশত্রু (১৯৮৯), শাখা প্রশাখা (১৯৯০) ও আগন্তুক (১৯৯১) এবং শেষ চিত্রনাট্য ‘জাগরণ’ যেটি অবলম্বনে তাঁর পুত্র সন্দীপ রায় উত্তরণ নামে ছবি করেছেন, এই চারটি ছবিতেই দেখা যায় চিকিৎসকদের জনসতেচনতা, সততা এবং আন্তরিকতা এসব বিষয়ের উপর তিনি যথেষ্ট জোর দিয়েছেন। গণশত্রু ও উত্তরণের প্রধান চরিত্র দুজন চিকিৎসক। দুটি চরিত্রেই দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
চলচ্চিত্র বিশেষত অনিরুদ্ধ ধরের কিছু কথা এ প্রসঙ্গে প্রণিধানযোগ্য, “গণশত্রু ধর্মীয় অন্ধ সংস্কারের বিরুদ্ধেও সোচ্চায়। মন্দিরে ঈশ্বরের পা ধোওয়া জল, অর্থাৎ চরণামৃতও যে দূষিত হতে পারে এবং সেই দূষণের ফলে ভক্ত মানুষও সে ‘জন্ডিস’ নামক মারাত্মক এক ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে এই সামান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণ করতে গিয়ে ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র ডা. অশোক গুপ্ত গণশত্রু বা এনিমি অফ দ্যা পিপল হয়ে পড়েন। শহরের মেয়র, স্থানীয় সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক এবং কিছু সংখ্যক অপরাধী মনষ্ক মানুষ ধর্মীয় সংস্কারের মদতেই শেষ পর্যন্ত জনগণের প্রতিভু হয়ে ওঠেন। ভারতের মতো একটা দেশে, সেখানে ধর্মীয় সংস্কারের কাছে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দক্ষিণ-বাম সমস্ত রাজনৈতিক দল পদানত, যেখানে নগণ্য মফস্‌সল শহরের সামান্য এক চিকিৎসক বিরুদ্ধাচরণ করছেন এবং তাঁর লড়াই ভাবনা ছড়িয়ে পড়ছে ছবির দর্শকের মগজে-এটাই এ ছবির বড়ো সার্থকতা। ধর্মীয় সংস্কারের বিরুদ্ধে সত্যজিতের ‘দেবী’ যদি চপেটাঘাত হয়ে থাকে, তাহলে ‘গণশত্রু’ হল বিরাশি সিক্কার ঘুসি। হেনরিক ইবসেনের ‘অ্যান এনিমি অফ দ্য পিপল’- অনুপ্রাণিত সত্যজিৎ রায়ের ‘গণশত্রু’-র ভাবনা নির্যাস হল এইটাই। এই ভাবনাই সাধারণ মানুষের মধ্যে মেরুদন্ড সোজা রেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রেরণা জোগায়, কখনোই একা হয়ে পড়ার ভয়ে আমাদের তাড়িত করে না। (পাঁচালী থেকে অস্কার-২য় খণ্ড)
আমরাও আশা করবো, ঢাকা ওয়াসার এসব অন্যায় অনাচার, অরাজকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া জনগণও আরো সোচ্চার হবেন, একা হয়ে যাবার কোনো ভয়ে তাড়িত হবেন না।
গণশত্রুর কলাকুশলী : হেনরিক ইবসেনের নাটক অবলম্বনে চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনা এবং সংগীত-সত্যজিৎ রায়, অভিনয়-সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রুমা গুহঠাকুরতা, মমতা শংকর, ভীষ্ম গুহঠাকুরতা, মনোজ মিত্র, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, দীপংকর দে, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়; চিত্রগ্রহণ-বরুণ রাহা, শিল্প নির্দেশনা অশোক বসু, সম্পাদনা-দুলাল দত্ত। প্রথম মুক্তির তারিখ ২৮ জুন ১৯৮৯, প্যারিস।

x