ড. জাকির হাওলাদার (দুনিয়ামুখী)

মঙ্গলবার , ৬ নভেম্বর, ২০১৮ at ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ
15

কাফনের কাপড়ে পকেট থাকে না। তাহলে জমানো টাকা-পয়সা কবরে কি করে নেবো? সম্পদের ব্যপারে রাসুল (সা:) কি করতেন আর আমরা কি করতেছি? আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একজন লোক রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর নিকট এসে বলল, আমার ক্ষুধা পেয়েছে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আমি ক্ষুধায় কাতর। তিনি তার স্ত্রীদের নিকট (খাবারের সন্ধানে) লোক পাঠালেন। তারা বলল, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহ পাঠিয়েছেন। আমাদের নিকট পানি ব্যতীত অন্য কোন খাদ্য নেই। তখন রাসূলুল্লাহ (সা:) বললেন, তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে এর মেহমানদারী করবে? আল্লাহ তার প্রতি দয়া করবেন। তখন আনছারী ছাহাবী (আবু তালহা) বললেন, আমি করব। অতঃপর তিনি তাকে সাথে নিয়ে তার স্ত্রীর নিকট গেলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহর মেহমানকে সম্মান কর। কোন খাদ্য জমা রাখবে না। সে (স্ত্রী) বলল, আল্লাহর কসম! শিশুদের জন্য রাখা খাদ্য ব্যতীত আমাদের নিকট কোন খাদ্য নেই। তিনি বললেন, তোমার খাবার প্রস্তুুত কর, বাতি জ্বালিয়ে দাও এবং তোমার সন্তানরা যখন রাতের খাবার খেতে চাইবে তখন তাদের ঘুম পাড়িয়ে দিবে। সে খাবার প্রস্তুত করল, বাতি জ্বালালো এবং তার শিশুদের ঘুম পাড়িয়ে দিল। অতঃপর সে দাঁড়াল এবং বাতি ঠিক করার ভান দেখিয়ে তা নিভিয়ে দিল। অতঃপর তারা উভয়ে (অন্ধকারে) খাবার খাচ্ছে বলে তাকে প্রদর্শন করলো। মেহমান খেলেন এবং তারা উভয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত্রি যাপন করলেন। অতঃপর সকালে সে রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর নিকট গমন করলে রাসূলুল্লাহ (সা:) বললেন, গত রাতে মেহমানের সাথে তোমাদের উভয়ের কর্মকাণ্ড দেখে আল্লাহ হেসেছেন বা অবাক হয়েছেন এবং নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল করেছেন : ‘আর তারা তাদেরকে নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও। যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য হতে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম’[হাশর ৫৯/৯] [বুখারী :৩৭৯৪; বায়হাকী, সুনানুল কুবরা হা/৭৮০২; সিলসিলা ছহীহা হা/৩২৭২] সম্পদ সম্পদ করে আমরা পরকাল বাদ দিয়ে দুনিয়ামুখী হয়ে যাচ্ছি না তো?

x