ডেঙ্গু সম্পর্কে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে

শনিবার , ২০ জুলাই, ২০১৯ at ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ
71

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্পোরেশনের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানদের এক বৈঠকে সম্প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকে নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলোকায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নগর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দেশব্যাপী ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এখানে উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকায় এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বলা যেতে পারে, গত কয়েক বছরের তুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা এবার বেশি। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জুলাই মাসে ১২ দিনে মোট ১ হাজার ৬৪৩ জন আক্রান্ত রোগী সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অর্থাৎ দিনে গড়ে ১৩৭ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি। কেননা, সব হাসপাতালের তথ্য যোগাড় করতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যে সব হাসপাতালের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা-ও আংশিক। অন্যদিকে, হাসপাতালের বাইরে অনেক রোগী চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা নিচ্ছে। সেই তথ্যও কারো কাছে নেই।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০০০ সালে রাজধানীতে প্রথম ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। এখন আক্রান্ত হওয়ার মাত্রা কল্পনাতীত। ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই জন্য চট্টগ্রামে যাতে তার আগ্রাসন না ঘটে, তার জন্য সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সিটি মেয়র। সময় থাকতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এখনই এডিস মশা বংশবৃদ্ধির সময়। ভারী বর্ষণ কিংবা থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বাড়ির আশপাশ, ফুলের টব, বালতি, আবর্জনা ফেলার পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, মাটির পাত্র, ডাবের খোসা, ব্যাটারির শেল, চিপসের প্যাকেট এবং নালা-নর্দমায় পানি জমে থাকে। এসব স্থানে পানিতে এডিস মশার প্রজনন ঘটে থাকে। তাই জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবৃদ্ধির যেন সুযোগ না পায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে। ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৩০ শতাংশ শিশু। এবং ২৭ শতাংশ নারী। এবার যারা আক্রান্ত হলো, তাদের লিঙ্গভিত্তিক পরিচয় বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশু, বিশেষ করে কম বয়সী শিশুরা বেশির ভাগ সময় ঘুমে থাকে। আবার নিজেরা মশাও তাড়াতে পারে না। পাশাপাশি শিশুদের স্বাভাবিকভাবে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রক্তনালী থেকে জলীয় অংশ বের হয়ে রক্তচাপ কমে যায়। এতে শিশুর মস্তিষ্ক, হার্ট, কিডনি, ফুসফুসে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকে না। আবার প্রোটিনের ঘাটতি ও প্লাটিলেট কমে যাওয়ার কারণে রক্তপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রক্তচাপ কমে গেলে, রক্তপাত হলে বা শিশুর প্রাণচাঞ্চল্য কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেঙ্গু সম্পর্কে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। মশার উৎপত্তি রোধে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ ছিটানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বর্ষা মৌসুমে সাধারণত ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। তাতে নগরের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। সেই অবস্থায় মশক নিধন কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সিটি কর্পোরেশন মশক নিধনে যে ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করে, সেই ওষুধ যেন কার্যকর হয়, সে-প্রত্যাশা নগরবাসীর। পাশাপাশি নগরীর নালা-নর্দমার বর্তমান হাল কেমন, সে বিষয়ে নাগরিক মাত্রই ওয়াকিবহাল। নালা-নর্দমাগুলো পরিষ্কার না থাকার কারণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এই নালা পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

x