ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণের উপায় ও সম্ভাবনা

ড. রজত শংকর রায় বিশ্বাস

শনিবার , ৩১ আগস্ট, ২০১৯ at ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
46

বর্তমানে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী ভ্যাকসিন নেই এবং এ রোগের জন্য নির্দিষ্ট (স্পেসিফিক) কোনো চিকিৎসাও নেই। তাই ডেঙ্গু মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ ও রোধ করা মানুষকে সুস্থ রাখার জন্য হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি রয়েছে এমন অঞ্চলগুলিতে বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে বা বিকাশ করা হচ্ছে তা নিচে আলোচনা করা হল।
ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণের পরিবেশগত উপায়
ডেঙ্গু সংক্রমণ কমাতে প্রাথমিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হল- মশার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ। যেহেতু ডেঙ্গু সংক্রমণে ভ্যাক্টর বা বাহক হিসেবে মশা প্রয়োজন, তাই মশার সংখ্যা কমিয়ে ডেঙ্গুর বিস্তার সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে। মশার সংখ্যার আকার হ্রাস করতে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা লোকেরা কী করতে পারেন? একটি কার্যকর এবং সঠিক পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার কৌশল হল- পানি জমে এমন অপ্রয়োজনীয় পাত্র বা ধারকগুলি সরিয়ে ফেলা (যেমন প্লাস্টিকের জার, বোতল, ক্যান, টায়ার এবং বালতি) যেখানে এডিস এজপিটি তাদের ডিম দিতে পারে। এই কৌশলটিকে উৎস হ্রাস বলা হয়। যখন কনটেইনার বা উৎস সরানো হয় আর মশাগুলি যাতে এর ভেতরে ডিম পাড়তে না পারে তার জন্য জলের পাত্রে সূক্ষ্ম নেট বা জাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। তখন মশার ডিম পাড়ার সুযোগ কমে যায় আর এর ফলে মশার জীবনচক্রের জলজ পর্যায়ের (লার্ভা ও পিউপা) বিকাশ আর ঘটতে পাওে না। এ কাজ নিয়মিত সম্পাদন করা হলে উৎস হ্রাস কার্যকর হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা এলাকার মানুষগুলির ভেক্টর বা বাহক সম্পর্কে সচেতন এবং শিক্ষিত হতে হবে, তা নাহলে উৎস নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা কঠিন।
পরিবেশগত উদ্যোগগুলির মধ্যে জীবনযাপনের কিছু বড়ু পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। যেমন- ঘরবাড়ির সঙ্গে সরাসরি পানির সংযোগসহ জল ব্যবস্থা স্থাপন করা। আর কূপ এবং অন্যান্য জল-সঞ্চয় পাত্র বাদ দেওয়া। যা মশার প্রজননযোগ্য আবাস হতে পারে। আবার কিছু ছোট আকারের পরিবেশগত পরিবর্তনও কার্যকর করা যেতে পারে যেমন- যখন এলাকার সমস্ত সদস্য আবদ্ধ পানির আধার সরিয়ে ফেলবে এবং রাস্তার ড্রেনগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করবে এবং তাদের ঘরের আশপাশ আর আঙ্গিনা আবদ্ধ পানি জমতে পারে এরকম পাত্র বা আধারমুক্ত রাখবে। মশার ডিম এবং লার্ভা নির্মূল করতে প্রতিসপ্তাহে সব খোলা পাত্রে খালি করে পরিষ্কার করতে হবে। এসকল প্রচেষ্টা এলাকায় মশার সংখ্যা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
কোন এলাকার মানুষেরা মশার সংখ্যা কমাতে আর কোন কোন ব্যবস্থা নিতে পারে?
এলাকার মানুষগুলিকে সচেতন করতে শিক্ষাবুদ্ধির্করসগত উদ্যোগে নিতে হবে আর তা সবার হাতে হাত মিলিয়ে করতে হবে। যেখানে লোকজনকে মশার ভেক্টর এবং তাদের বাড়ির নিকটে মশা প্রজনন আবাস থাকার ঝুঁকি সম্পর্কে শিক্ষিত করবে। শিক্ষাবৃদ্ধিকরণ উদ্যোগগুলি মশার উৎস হ্রাসে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে আর এলাকার সকল মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে তা সুফল নিয়ে আসবে। মানুষ আচরণগত পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারলে তা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অনেক কার্যকর হবে।
এলাকার মানুষ করতে পারে এমন পদক্ষেপগুলি ছাড়াও ব্যক্তিবিশেষে ডেঙ্গু থেকে নিজেকে রক্ষা করতে কি কি করা যেতে পারে? মশার নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত উদ্যোগ কি হতে পারে?
আবাসস্থলে জানালা-দরজায় পর্দা ব্যবহার করে বা দরজা এবং জানালা বন্ধ রেখে এবং বাসাগুলি শীতল রাখার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সাহায্যে মশার ঘরে প্রবেশের ঝুঁকি হ্রাস করা যায়। এডিস এজিপ্টি সাধারণত দিনের বেলা মানুষকে কামড়ায়, তাই দীর্ঘ সময় প্যান্ট এবং দীর্ঘ-হাতা শার্ট পরে বাইরে সময় ব্যয় করলে তা মশার কামড়ের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া মশানাশক ওষুধ উন্মুক্ত ত্বক এবং পোশাকে প্রয়োগ করা যেতে পারে। রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) মশানাশক হিসেবে সক্রিয় উপাদান যেমন- ডিইইটি, পিকারিডিন, লেবু, ইউক্যালিপটাস তেল বা আই আর ৩৫৩৫ ইত্যাদি থাকলে তা ব্যবহার করতে বলে। মশারির নীচে ঘুমানোও মশার কামড়ের হাত থেকে সুরক্ষা দেয় বিশেষত যে অঞ্চলে লোকেরা বিকেলে ঘুমায়। মশার সংখ্যা হ্রাস করার অন্যান্য পদ্ধতি সম্পর্কে কী বলা যায়?
এডিস এজপটি হ্রাস করার আরেকটি পদ্ধতি হল ওভিট্র্যাপ বা ফাঁদপাত্র ব্যবহার করা। ওভিট্র্যাপ কি এবং কীভাবে তা কাজ করে? এই ডিভাইসগুলি কালো, নলাকার জলে ভরা পাত্র। ফাঁদপাত্রের উপরের অংশে একটি বৃত্তাকার তারের জাল এবং একটি ভাসমান রিং লাগানো থাকে যা পাত্রের পানির বৃষ্ঠে ভাসমান। এডিস এজিপ্টি- এরূপ ফাঁদপাত্রগুলিকে ডিম পাড়ার জন্য আদর্শ স্থান হিসাবে মনে করে। জালের উপর দুটি কাঠের তৈরি প্যাডেল থাকে। মহিলা মশা প্যাডেলগুলিতে ডিম দেয়। ডিমগুলি তখন জালের নীচে পড়ে, যেখানে অপরিপক্ক লার্ভা এবং পিউপা পর্যায়ের মশার বিকাশ ঘটে। প্রাপ্তবয়স্ক মশারা যখন উড়তে শিখে, তারা জালের নীচে আটকা পড়ে এবং ফাঁদপাত্র থেকে পালাতে অক্ষম হয়। ওভিট্র্যাপগুলি মশার বংশবৃদ্ধি নজরদারি করার জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। যখন পর্যাপ্ত সংখ্যক ওভিট্র্যাপ ব্যবহার করা হয় এবং ঘন ঘন রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় তখন ভেক্টরের সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে। এর একটি সফল উদাহরণ সিঙ্গাপুরে, যেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মশা নির্মূল করতে ওভিট্র্যাপ ব্যবহার করা হত। ফাঁদগুলির সীমাবদ্ধতা রয়েছে তা যাতে মশার প্রজননের আবাসস্থল হতে না পারে তার জন্য নিয়মিত তদারকি এবং পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
ডেঙ্গু মশার রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ
রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু কীটনাশক মশার লার্ভা বা প্রাপ্তবয়স্ক মশা মারার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। কীটনাশক ব্যাপকভাবে এবং নিয়মিত ব্যবহার করা যেতে পারে কি? ডেঙ্গু মহামারির সময় জরুরি পরিস্থিতিতে কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে বা যখন কোনও মহামারি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় তখন। তবে নিয়মিতভাবে, মশাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য টেকসই, সমন্বিত, সম্প্রদায়ভিত্তিক পরিবেশগত পদ্ধতি রাসায়নিক পদ্ধতির তুলনায় ভালো।
পরিবেশ ব্যবস্থাপনার পন্থা কেন ভালো? এর অন্যতম কারণ হল- কীটনাশক প্রতিরোধী (রেজিস্ট্যান্ট) মশার বিকাশ হতে পারে যা পরে ভয়াবহতা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়াও, কীটনাশক ব্যয়বহুল এবং এর উচ্চ মাত্রার ব্যাবহার মানুষ এবং অন্যান্য প্রজাতির জন্য বিষাক্ত হতে পারে। সুতরাং, এ রাসায়নিক প্রয়োগ সম্পর্কে সতর্ক হওয়া ভালো।
জৈবিক কীটনাশক (বায়োইনসেক্টিসাইড)
নিরাপদ কীটনাশক মশা মারার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে কি? জৈবিকনাশকগুলি জৈবিক নিয়ন্ত্রণ এবং কীটনাশকের সংমিশ্রণ। জৈবনাশকের একটি উদাহরণ হল- ব্যাকিলাস থুরিংয়েইনসিস ইস্রাইলেনসিস (বিটআই), যা প্রাকৃতিকভাবে থাকা মাটির জীবাণু যা পানিতে থাকা মশার লার্ভা কার্যকরভাবে হত্যা করতে পারে। ব্যাসিলাস থুরিংয়েইনসিসের অনেকগুলি প্রজাতি বা স্ট্রেইন রয়েছে, যার প্রত্যেকটিই বিষাক্ততার বৈশিষ্ট্যযুক্ত এবং বিটিআই মশার জন্য খুব কার্যকরি। বিটিআই “মশার ডাংকস” নামে পরিচিত আর তা ছোট গর্তে পাওয়া যায় যা জলের পৃষ্ঠের উপরে ভাসমান থাকে। এছাডা পাইপ্রোঙিফেন এবং মিথোপ্রেইনের মতো অন্যান্য বায়োইনসেক্টিসাইডগুলি কিশোর হরমোন অ্যানালগ হিসাবে কাজ করে যা মশার লার্ভাগুলিকে প্রাপ্তবয়স্ক হবার রূপান্তরে (মেটামরফোসিস) বাধা দেয়। সম্প্রতি গবেষকরা লার্ভার আবাসস্থলে কার্যকর কীটনাশক স্থানান্তর করতে মশাকেই ব্যবহার করেছেন। তারা লক্ষ্য করেছেন যে মানুষের রক্ত খাবার হিসেবে গ্রহণের পরে, মহিলা এডিস আইজিপ্টি স্যাঁতস্যাঁতে এবং অন্ধকার অঞ্চলে বিশ্রাম উপভোগ করে। এই আচরণের সুযোগ নিতে গবেষকরা অন্ধকার আর স্যাঁতস্যাঁতে জায়গাগুলিতে জৈব-বালাইনাশক স্থাপন করেন যা লার্ভা ধ্বংশ করতে সক্ষম। যখন মশারা স্টেশনগুলিতে বিশ্রাম নিতে আসে, তাদের পাগুলিতে জৈবনাশকটি আটকে যায়। পরে এইমশা যখন ডিম পাড়ার স্থানে যায় এই জৈব-বালাইনাশক আবাসগুলিতে স্থানান্তরিত করে যেখানে তারা ডিম দেয়। এ পদ্ধতিটি মশার লার্ভা ধংশ এবং প্রাপ্তবয়স্ক মশার সংখ্যা হ্রাস করতে কার্যকর। মশার সংখ্যা হ্রাস করার জন্য কি কোনও অরাসায়নিক পদ্ধতি রয়েছে?
ডেঙ্গু মশার জৈবিক নিয়ন্ত্রণ
জৈবিক পদ্ধতিগুলিও মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিকল্প হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কোপোপডস নামে শিকারি ক্রাস্টেসিয়ান এবং গোল্ডফিশিসহ বিভিন্ন জাতের মাছ মশার লার্ভা খায়। এগুলি যখন মশার ডিম পাড়ার স্থানে, পুকুর বা পুলগুলিতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তারা মশার লার্ভাতে শিকার করে আর তা কার্যকরভাবে মশার বিকাশ রোধ করে। বিশাল জল-সঞ্চয়ের ট্যাংকগুলিতে কোপপডস যুক্ত করা ভিয়েতনামে ডেঙ্গু সংক্রমণ সীমাবদ্ধ করতে সফল হয়েছিল। অন্যান্য জীবন্ত শিকারি- যেমন ড্রাগনফ্লাইস, ছোট জলজ কচ্ছপ এবং বিটল লার্ভাও এডিস এজিপ্টি হত্যার ক্ষেত্রে কার্যকর হিসাবে দেখা গেছে।
নতুন জিনগত পদ্ধতিগুলিও মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উপায় হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। অঙফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অক্সিটেক গবেষকরা জিনগতভাবে তৈরি মহিলা মশা উদ্ভাবন করেছেন যা উড়তে পারে না। উড়তে অক্ষম হওয়া মশার জন্য একটি বিশাল জিনগত অসুবিধা। উড়তে অক্ষম মহিলা মশা তাদের ডানা দোলনা গান ব্যবহার করে পুরুষ মশার সাথে” গান করতে অক্ষম। আর এতে এরুপ মহিলা মশারা ডিম দিতে অপারগ হয়। আর মশক শিকারীরা সহজেই উড়তে অক্ষম মহিলা মশা শিকার করতে পারে।
গবেষকরা বলেছেন এই জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ার মশা তার জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণ হ্রাস করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। একদল গবেষক সম্প্রতি জেনেটিকভাবে তৈরি পুরুষ মশা তৈরি করেছেন যারা নপুংশক এবং এগুলি ডেঙ্গু জ্বর নির্মূল করতে ক্যারিবীয় দ্বীপ গ্র্যান্ড কেম্যানের এলাকায় সফলভাবে ব্যবহার করেছেন।
ড. স্কট ও’নিল এবং তাঁর সহযোগীরা কুইন্সল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য আরও একটি অভিনব পদ্ধতি নিয়ে এসেছেন। এই বিজ্ঞানীরা ফলের মাছিদের জীবনকে সংক্ষিপ্ত করে এমন একটি পরজীবী ওলবাচিয়া পাইপিয়েন্টিস নামক ব্যাকটিরিয়াকে মশাতে সংক্রামিত করেছিলেন। তারা অনুমান করেছিলেন যে ওলবাচিয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত মশার জীবনও ছোট করতে পারে। মশার নির্মূলের পরিবর্তে বিজ্ঞানীরা মশার জনসংখ্যার বয়স বদলানোর জন্য ব্যাকটিরিয়া ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়েছিলেন। যদিও মশা এখনও আশেপাশে থাকবে, তবে তাদের জীবনযাত্রা এখনকার চেয়ে কম হবে। কিভাবে একটি সংক্ষিপ্ত মশার জীবনকাল ডেঙ্গু সংক্রমণকে প্রভাবিত করবে? যখন কোনও মশা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়, মশাটিকে অন্য কোনও সুস্থ ব্যক্তিকে সংক্রামিত করার আগে অবশ্যই আট থেকে বারো দিন সময় কাটাতে হয় এবং সেই সময়ের পরে মশা সারাজীবন মানুষকে সাধারণত সংক্রামিত করতে পারে যা সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ হয়। যদি এর আয় আরও কম হয় তবে আক্রান্ত মশার ডেঙ্গু সংক্রমণ করার সুযোগ কম থাকে। ও’নিল এবং তার সহকর্মীরা বর্তমানে আর একটি ওলবাচিয়া স্ট্রেইন পরীক্ষা করছেন যা এডিস এজিপটির ভিতরে ডেঙ্গু ভাইরাসটিকে মেরে ফেলে আর তা এডিস আইজিপটির জন্য ডেঙ্গু ভ্যাঙিনের মত কার্যকর হতে পারে।যেহেতু এখনো পর্যন্ত ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিনের অভাব তাই মানুষ এবং ভেক্টরদের মধ্যে যোগাযোগ সীমাবদ্ধ করাই ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পরিবেশগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা আর মশার আবাসস্থলগুলি নির্মুল করা। যেখানে এডিস এজিপটি ডিম দেয় একটি অন্যতম কার্যকর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণে অপরিণত বা প্রাপ্তবয়স্ক মশার জন্য কীটনাশক ব্যবহার জড়িত। নতুন রাসায়নিক, জৈবিক এবং জেনেটিক পদ্ধতিগুলিরও বিকাশ হচ্ছে। তবে কোনো পদ্ধতি গুলি অধিক কার্যকর তা ঐ এলাকার মানুষের জ্ঞান, তাদের জীবন যাপন প্রণালী, আর্থিক অবস্থা আর নিয়ন্ত্রঙ্কারী সংস্থার সদিচ্ছার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ

x