ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ফিজিওথেরাপি

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ৩ নভেম্বর, ২০১৮ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ
75

আগামী ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। প্রতি বছরের মতো এ বছরও যথাযথ মর্যাদা ও আনুষ্ঠিকভাবে বিশ্ব জুড়ে এ দিবসটি পালন করা হবে। যতই পালন করা হোক না কেন ডায়াবেটিস এখনও কি এ রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বা প্রতিরোধ করা সম্ভব, আসলে এই প্রশ্ন থেকেই যায়।
আগামী ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। প্রতি বছরের মতো এ বছরও যথাযথ মর্যাদা ও আনুষ্ঠিকভাবে বিশ্ব জুড়ে এ দিবসটি পালন করা হবে। যতই পালন করা হোক না কেন ডায়াবেটিস এখনও কি এ রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বা প্রতিরোধ করা সম্ভব, আসলে এই প্রশ্ন থেকেই যায়। এটি কিভাবে হয় বা হওয়ার আগাম প্রতিরোধ ও সচেতন করা যায় সে লক্ষ্যে আমার লেখাটি। আজ আপনার ডায়াবেটিস নেই বলে কিছুদিন পরে হবে না এমন আপনি নিশ্চত বলতে পারবেন না। তাই আপনাকে আগাম সচেতন হয়ে জীবন গড়ে তুলতে হবে। প্রতিনিয়ত আপনি মোটিভেটেড বা একটিভ থাকুন। আগে থেকে আপনি ফিজিক্যাল একটিভিটিতে থাকতে পারলে আপনি ডায়াবেটিস থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকতে পারবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এ ব্যাপারে আমাদের দেশের অধিকাংশ ডাক্তাররা আগে বা পরে হলেও এ ধরনের রোগীদের ফিজিওথেরাপি নিতে সাজেস করেন না বা থেরাপিস্টের পরামর্শ নিতে বলেন নাকি সন্দেহ। সবাই বলে আমি- প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম বা ওষুধ খাচ্ছি কিন্তু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছি না, শরীরের বিভিন্ন পেশিতে ব্যথাও কমাতে পারছি না।
ডায়াবেটিসের ভয়াবহ অবস্থার কথা নতুন করে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। রোগটি বর্তমানে বিশ্বজুড়েই মহামারী আকার ধারণ লাভ করেছে। আমাদের দেশেও এমন কোন পরিবার নেই, যে পরিবারে এক বা একাধিক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি নেই। ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র এমন এক রোগ, যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভল হলেও রোগীর কোনো অসুবিধা হয় না। কিন্তু যদি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব না হয় তা হলে এ রোগের সঙ্গে দেখা দেয় অন্যান্য সমস্যাও। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা রোগীর জন্য অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ রোগ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উপায় হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা। ব্যায়াম করতে না পারলে শুধু ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের পাশাপশি বিভিন্ন ধরনের হাড়ের ক্ষয়জনিত ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, কোমর ব্যথা, ঘাড় ব্যথা বা কাঁধ ব্যথায় ভুগছেন, তাদের বেশিরভাগই সঠিকভাবে ফিজিওথেরাপি, ফিজিক্যাল এক্সরেসাইজ বা ব্যায়াম করতে পারেন না, উৎসাহিত করেন না, এবং সর্বোপরি উদাসীতা করেন। ফলে ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। এতে রোগীর শরীরে ক্রমে ওষুধ রেসিস্ট্যান্স হয়ে যায়। ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন মোটেও সুখর কোনো ব্যাপার নয়। বরং এটি শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যথানাশক ওষুধের কারণে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন লিভার, কিডনি ইত্যাদি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ডায়াবেটিস রোগীর ব্যথা বেদনা নিরাময়ে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা একটি আদর্শ, আধুনিক ও বিজ্ঞান ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি, ও এটি নিরাপদও বটে। এ চিকিৎসা পদ্ধতিতে এক্সপার্ট ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর সমস্যা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ইলেক্টো-থেরাপিউটিক এজেন্ট, থেরাপিউটিক এক্সরেসাইজ বা ব্যায়াম, নানা ধরনের ম্যানুয়াল থেরাপি বা ম্যানুপুলেট থেরাপির মাধ্যমে ব্যথা কমাতে সাহায্য করেন। ফলে ডায়াবেটিক রোগী আবারও ফিজিক্যাল এক্সসাইজ বা ব্যায়ামগুলো করতে পারেন এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন। তাই আপনাকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে ঔষধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।

x