ডাক্তার-নার্সদের মমতায় বেড়ে উঠছে শিশুটি

সবুর শুভ

বৃহস্পতিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ
68

শিশু ‘একুশ’ এর পথেই হাঁটছে কুকুরের থাবা থেকে উদ্ধার হওয়া আরেক ‘মানব সন্তানের’ ভবিষ্যৎ? গত ২৩ দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেকহা) শয্যায় বেড়ে উঠছে এ শিশু। এখনো কোন নাম দেয়া হয়নি তার। মা বাবার কোন পাত্তাও নেই। চমেক হাসপাতালের ৩২ নং নবজাতক ওয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও নার্সদের মমতায় বেড়ে উঠছে এ শিশু। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চমেক হাসপাতাল প্রশাসন ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এ শিশুর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। প্রথমদিকে এ শিশুর অবস্থা সংকটময় থাকলেও বর্তমানে হাসপাতালের শয্যায় হাত-পা নাড়ছে। জন্মের ২৩দিন পার হলেও মা-বাবার মুখ দেখেনি শিশুটি। আপনের মধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসক আর নার্সরাই। এতটুকুন শিশুর দিন কাটছে নিজের ঘরের বদলে হাসপাতালের শয্যায়। তত্ত্বাবধান করছে চমেক হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি। তবে এখনো কোনো নাম রাখা হয়নি তার।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট নগরের আগ্রাবাদ বাতামতল মোড় থেকে কাকডাকা ভোরে রাতের দায়িত্ব শেষে ফুটফুটে এক নবজাতককে তিনটি কুকুর টানাটানি করতে দেখে উদ্ধার করেন ডবলমুরিং থানার এস আই মোস্তাফিজুর রহমান। নবজাতককে প্রথমে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল ও পরে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চমেক হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সাহা জানান, শিশুটি উদ্ধার হওয়ার পর থেকে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রোগী কল্যাণ সমিতি থেকে দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে আছে চিকিৎসক ও নার্সদের মমতাময় সেবা। সে এখন সুস্থ আছে। এখনো শিশুটিকে কেউ নিতে আসেনি। তার নামও রাখা রাখা হয়নি। হাসাপাতাল প্রশাসন এবং আদালতের নির্দেশনা মতে প্রয়োজনীয় আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে তার ভবিষ্যত নির্ধারিত হবে।
হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান ডা. জগদীশ চন্দ্র বলেন, শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। তবে এতটুকুন বাচ্চার শরীরিক সুস্থতা অসুস্থতা নিয়ে নির্দিষ্ট করে কোন কিছু বলা যায় না। যেকোন সময় খারাপ ভাল হতে পারে। শিশুটিকে ওয়ার্ড থেকে বাইরে নেওয়া জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।
প্রসঙ্গত: নবজাতককে তিনটি কুকুর টানাটানির সময় পাশেই ছিল শিশুটির মানসিক ভারসাম্যহীন মা। কিন্তু তিনি ছিলেন নির্বাক। ওই নারীর বয়স আনুমানিক ২৫ বছর হবে বলে জানান এসআই মোস্তাফিজুর রহমান। আয়েশা নামের এ নারী কেবল নিজের নামটাই বলতে পারেন। তবে ওই দিনের পর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি।
২০১৭ সালে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু ‘একুশ’ আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন ঠিকানা পেয়েছিল। চট্টগ্রাম বিশেষ শিশু আদালতের বিচারক (প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ) কয়েকটি শর্তে ‘একুশ’কে এক চিকিৎসকের জিম্মায় দিয়েছিলেন। এর মধ্য দিয়ে উদ্ধারের ৩৭ দিন পর নতুন ঠিকানা পেয়েছিল শিশুটি। একুশকে জিম্মায় নেওয়ার জন্য ১৪টি আবেদন জমা পড়েছিল।
২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে আকবর শাহ থানার কর্নেলহাট প্রশান্তি আবাসিক এলাকার একটি ভবনের পেছনে এক শিশু সন্তানের কান্না শুনতে পান কয়েকজন স্থানীয় ছাত্রলীগকর্মী। পুলিশকে খবর দিলে আকবর শাহ থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগকর্মীরা অসুস্থ শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। একুশে ফেব্রুয়ারির দিন উদ্ধার হওয়ায় শিশুটির নাম রাখা হয় ‘একুশ’। একইভাবে উল্লেখিত শিশুর ভাগ্যও নির্ধারিত হওয়ার অপেক্ষায়।

x