ট্রেনে সহজেই কাঙিক্ষত টিকেট পেল যাত্রীরা

আজাদী প্রতিবেদন

শনিবার , ২ জুন, ২০১৮ at ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
109

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রি কার্যক্রম গতকাল শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ । প্রথম দিনে বিক্রি হয়েছে আগামী ১০ জুনের টিকেট। তবে নির্ধারিত দিনের টিকেটের উপর তেমন চাহিদা ছিল না যাত্রীদের। কাউন্টারগুলোতেও উল্লেখযোগ্য হারে টিকেট প্রত্যাশীদের দেখা যায়নি। কয়েকটি ট্রেনের টিকেট দীর্ঘসময় অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে ছিল। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে ১০টি কাউন্টারে একযোগে টিকেট বিক্রি শুরু হয়। কাউন্টারের মাধ্যমে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল ৪ হাজার ৯৭১টি টিকেট। অর্থাৎ মোট টিকেটের ৬৫ শতাংশ টিকেট কাউন্টারে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল। বাকি ২৫ শতাংশ টিকেট অনলাইনে, ৫ শতাংশ ভিআইপি এবং ৫ শতাংশ টিকেট রেলওয়ে কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়।

জানা গেছে, নির্ধারিত দিনে ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রি কার্যক্রমে যথারীতি ভোররাত থেকেই স্টেশনে ভিড় জমিয়েছিলেন প্রত্যাশীরা। ভোরের আলো ফোঁটার সাথে সাথে কাউন্টারের সামনে লাইন দখল শুরু হয়। তবে ট্রেনের টিকেট পেতে যেভাবে যাত্রীরা মরিয়া হয়ে উঠে এমন চিত্র গতকাল দেখা যায়নি। সকাল ৮টায় কাউন্টারগুলো থেকে টিকেট প্রদান শুরু হলে সহজেই কাঙ্খিত টিকেটটি পেয়ে যান স্টেশনে আসা টিকেট প্রত্যাশীরা। টিকেট বিক্রি শুরুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সবার হাতেই টিকেট পৌঁছে। এ সময় স্বাচ্ছন্দ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট নিয়েছেন যাত্রীরা। উপচে পড়া ভিড় বা লাইনে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়ানো এ ধরণের ভোগান্তি ছিল না বললেই চলে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় এক কর্মকর্তা বলেছেন, সাধারণত ১০ ও ১১ জুনের টিকেটের ওপর যাত্রীদের তেমন চাহিদা নেই। এর পরের দিনের টিকেটগুলোতে চাহিদা বেশি থাকবে যাত্রীদের। তখন যাত্রীদের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।

এতে প্রথম দিনে অগ্রিম টিকেট বিক্রি কার্যক্রমে যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়নি। ছুটি না থাকার কারণে তখন লোকজন বাড়িতে যেতে পারে না। আশা করা হচ্ছে, আগামী ১২ জুন থেকে টিকেটের চাহিদা বেড়ে যাবে।

আগাম টিকেট বিক্রি কার্যক্রমে প্রথম দিনে যাত্রীদের চাপ না থাকার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদও।

স্টেশন মাস্টার বলেন, একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকেট সংগ্রহ করতে পারছেন। একই সাথে একজন যাত্রী একাধিক ট্রেনের ও ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির টিকেট নিতে পারবেন না। অগ্রিম টিকেট অফেরতযোগ্যও। যাত্রাকালে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে স্ট্যান্ডিং টিকেট ইস্যু করা হবে না। চাহিদার ভিত্তিতে বাকি ট্রেনগুলোতে শুধুমাত্র যাত্রার দিনেই স্ট্যান্ডিং টিকেট বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্টেশন মাস্টার।

এছাড়া নির্ধারিত বগির পাশাপাশি এবারো ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হবে। আগামী ১১১৫ জুনের ট্রেনগুলোতে এসব বগি সংযোজন করা হবে। প্রতি বগিতে স্লিপার হলে ১৮টি, এসি চেয়ার হলে ৫৫টি এবং শোভন চেয়ার হলে ৬০টি সিট সংযোজন করা হবে বলেন স্টেশন মাস্টার আবুল কালাম আজাদ।

রেলওয়ে তথ্য বলছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মধ্যে আছে ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস, তূর্ণা, গোধূলি, মেঘনা, মহানগর, সোনার বাংলা, সিলেটগামী পাহাড়িকা ও উদয়ন এবং ময়মনসিংহ গামী বিজয় এক্সপ্রেস। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে মেইল এক্সপ্রেসসহ আরও বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

আজ ২ জুন দেয়া হবে ১১ জুনের (সোমবার) টিকেট, আগামীকাল ৩ জুন দেয়া হবে ১২ জুনের (মঙ্গলবার), ৪ জুন দেয়া হবে ১৩ জুনের (বুধবার), ৫ জুন দেয়া হবে ১৪ জুনের (বৃহস্পতিবার) এবং ৬ জুন দেয়া হবে ১৫ জুনের (শুক্রবার) টিকেট। আর ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে গমনেচ্ছু যাত্রীদের ১০ জুন দেয়া হবে ১৯ জুনের, ১১ জুন দেয়া হবে ২০ জুনের, ১২ জুন ২১ জুনের, ১৩ জুন ২২ জুনের, ১৪ জুন ২৩ জুনের এবং ১৫ জুন দেওয়া হবে ২৪ জুনের ফিরতি টিকেট।

x