টোল আদায় না করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব

আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার

মোরশেদ তালুকদার

বুধবার , ১৭ জুলাই, ২০১৯ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
594

নগরীর আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে টোল আদায় না করার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তারা মনে করে, ফ্লাইওভারটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অনুকূলে হস্তান্তর করা হলে প্রতিষ্ঠানটি টোল আদায় ছাড়াই নিজস্ব তহবিল থেকে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে।
জানা গেছে, টোল আদায়ের বিষয়ে গত ১২ মার্চ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে গত রোববার লিখিতভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। এতে বলা হয়েছে, ‘আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে টোল আদায় করার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। এবং প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপিতে টোল আদায়ের বিষয়টি উল্লেখ নেই। এছাড়া স্থানীয় জনগণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ টোল আদায়ের বিরোধিতা করেছেন বিধায় টোল আদায় সমীচীন হবে না।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে মতামত পাঠানো হয়েছে। তার একটি কপি আমরাও পেয়েছি। অবশ্য ৩ এপ্রিল ফ্লাইওভারটিতে টোল আদায়ের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের কাছে মতামত চেয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। আমরাও সাধারণ মানুষের মতামতকে সমর্থন জানিয়ে টোল আদায়ের বিপক্ষে মতামত দিয়েছি।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ‘সিডিএর নির্মিত/নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারসমূহ ও এলিভেটেড এঙেপ্রেসওয়েসহ উপরে ও নিচে সৌন্দর্যবর্ধন/সৌন্দর্যবর্ধনের আনুষঙ্গিক কাজসমূহ এবং মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ব্যয় নির্বাহের জন্য সিডিএ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করতে পারবে। নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠান/প্রতিষ্ঠানসমূহের সিডিএর অনুমোদিত নকশা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, লালখান বাজার র‌্যাম্পের নিচে দোকান, সুপারশপ বরাদ্দ দেয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল সিডিএ। এর প্রেক্ষিতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ফ্লাইওভারের নিচে দোকান ও সুপারশপ নির্মাণ কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে সিডিএকে চিঠি দিয়েছিল চসিক।
এছাড়া গত ১৩ মার্চ সিটি কর্পোরেশনকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিডিএ এভিনিউ সড়কের বহদ্দারহাট থেকে লালখান বাজার অংশ এবং বায়েজিদ বোস্তামী রোডের দুই নম্বর গেট থেকে বেবী সুপার মার্কেট পর্যন্ত অংশ বুঝে নিতে মেয়রের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। তবে ফ্লাইওভার ও ফ্লাইওভারের নিচে চলমান সৌন্দর্যবর্ধন কাজ চসিকের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, মুরাদপুর, ২ নং গেট ও জিইসি জংশনে ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় লালখান বাজার হতে মুরাদপুর পর্যন্ত মূল ফ্লাইওভার এবং ২ নং গেট হতে ও জিইসি জংশনে লুপ/র‌্যাম্পসহ নির্মিত ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের যাবতীয় কাজ শেষে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে গত বছর।
এ ফ্লাইওভারের উপরে ৯০ ওয়াটের ৪২২টি, ফ্লাইওভারের নিচে গার্ডার ও পিয়ারক্যাপের সাথে সংযুক্ত ৭০ ওয়াটের ৬৯৮টি, ৪০ ওয়াটের ২৪২টি ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের জন্য ১২ ওয়াটের ২১০০টি রঙিন এলইডি লাইটসহ মোট ৩ হাজার ৫০০টি বৈদ্যুতিক বাতির বিল পরিশোধ এবং ফ্লাইওভারের উপরে ও নিচে সৌন্দর্যবর্ধন কাজের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকার প্রয়োজন।

x