টেলিযোগাযোগ খাতের নতুন নীতিমালা  দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হোক

শুক্রবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৩:৩০ পূর্বাহ্ণ
39

২০ বছরের পুরানো নীতিমালায় চলছে দেশের টেলিযোগাযোগ খাত। গ্রাহকের নিরাপত্তা,সেবার মান নিশ্চিতকরণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ২০১২ সালে নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালার খসড়া তৈরি করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ২০১৬ সালে নীতিমালার খসড়ায় অনুমোদনও দেয় মন্ত্রিসভা। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন না হওয়ায় ২০ বছর আগে ১৯৯৮ সালে তৈরি নীতিমালার আলোকেই চলছে দেশের টেলিযোগাযোগ খাত। পত্রিকান্তরে গত ৮ সেপ্টেম্বর এ খবর প্রকাশিত হয়। খবরটিতে বলা হয়, খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে খাতটির দিক নির্দেশনার পাশাপাশি গ্রাহকসেবা ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়গুলোর টেলিযোগাযোগ নীতিমালার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। প্রায় ২০ বছরের পুরানো টেলিযোগাযোগ নীতিমালায় উল্লেখ করা লক্ষ্যমাত্রাগুলো অনেক আগেই অর্জিত হয়েছে। এছাড়া প্রযুক্তিও দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে টেলিযোগাযোগ নীতিমালার নিয়মিত হালনাগাদ প্রয়োজন।

বেশ কয়েক বছর ধরে হওয়া টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন ও বিস্তৃতি দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মোবাইল গ্রাহকভিত্তিক বৃদ্ধি, ইন্টারনেটের বিস্তার ও মোবাইল ব্যাংকিং প্রসারের মাধ্যমে এ খাত জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আগের চেয়ে এতে ক্রমে বাড়ছে বিনিয়োগ। দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখাতে ঘটতে থাকে রূপান্তর। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো, দেশের টেলিযোগাযোগ এখনো চলছে ২০ বছরের পুরানো নীতিমালা নিয়ে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে উল্লিখিত টেলিযোগাযোগ নীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিদ্যমান নীতিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা দেশ অনেক আগেই অর্জন করেছে। কিন্তু পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আলোচ্য নীতিমালা অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। আগামী দিনে এ খাতের স্থিতিশীল বিকাশ নিশ্চিত করতে হলে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। ২০ বছর আগের নীতিমালায় কাজ হবে না। তার জন্য প্রয়োজন নতুন নীতিমালা। অবশ্য গ্রাহকের নিরাপত্তা, সেবার মান নিশ্চিতকরণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ২০১২ সালে নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছিল বিডিআরসি এবং ২০১৬ সালে নীতিমালার খসড়া অনুমোদনও দেয় মন্ত্রিসভা। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন না হওয়ায় পুরানো নীতিমালার আলোকেই চলছে দেশের টেলিযোগাযোগ খাত। এভাবে আর চলতে পারে না। টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নের স্বার্থে নতুন নীতিমালা দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বিষয়টি আমলে নিয়ে সক্রিয়তা কামনা করি।

জানা গেছে, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও বৈশ্বিক জ্ঞানভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্য সামনে রেখে ১০ বছরের জন্য প্রাথমিকভাবে নতুন খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রযুক্তির প্রসার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এ খসড়া নীতিমালায়। এতে বলা হয়েছে, দুর্যোগের সময় নেটওয়ার্ক টোল ফ্রি কল চালু, আক্রান্ত মানুষকে উদ্ধারে নেটওয়ার্কের সর্বোচ্চ ব্যবহার, রাষ্ট্রীয় ব্র্যান্ডিং, টেলিটক ও বিটিসিএলের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার কথা। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধের মতো সাম্প্রতিক উদ্বেগজনক বিষয়ের ওপরও জোর দেয়া হয়েছে। খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাইবার অপরাধ দমন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। অপারেটর কর্তৃক গ্রাহকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে এতে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা, প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্তি, জেন্ডার ইকুয়েটি, স্থানীয় বিনিয়োগ উৎসাহ ও বিদেশী বিনিয়োগের সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে নতুন নীতিতে। এসব যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে অবশ্যই টেলিযোগাযোগ খাতের অগ্রগতিতে আলোচ্য নীতিমালা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, বাস্তবায়ন তো দূরের কথা, এখনও নীতিমালাটি চূড়ান্ত অনুমোদনই পায়নি। নতুন নীতিমালা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেখান থেকে ভেটিং হয়ে এলেই নীতিমালাটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। এরই মধ্যে হালনাগাদ কার্যক্রমে অনেক দেরি হয়ে গেছে। অতএব আর কালক্ষেপণ ও দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়। আমরা চাই, সার্বিক আনুষ্ঠানিকতা যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করে টেলিযোগাযোগ খাতের নীতিমালা স্বল্পতম সময়ে অনুমোদন প্রাপ্ত হোক।

x