টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী আরো ২২ রোহিঙ্গা উদ্ধার

উপকূলে সক্রিয় পাচারকারী চক্র

জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, টেকনাফ (কক্সবাজার)

সোমবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
153

সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবাসন এড়াতে রোহিঙ্গারা এখন দলে দলে ক্যাম্প ত্যাগ করছে। টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে রাতের অন্ধকারে বিদেশ পাড়ির চেষ্টাকালে আরো ২২ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জওয়ানেরা।

জানা যায়, গতকাল রবিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৯টার দিকে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সাবরাং খুরের মুখ অস্থায়ী ক্যাম্পের হাবিলদার তাজুল ইসলাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ টহল দল নিয়ে উত্তর লম্বরী ঘাট সংলগ্ন জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় নৌকার জন্য অপেক্ষামান অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেন।

তাদের মধ্যে রয়েছে কুতুপালং ক্যাম্পের ৬ জন মহিলা ও ৮ জন শিশু এবং বালুখালী ক্যাম্পের ১ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৩ জন শিশু। উদ্ধারকৃতরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দালালের মধ্যস্থতায় চোরাইপথে বিদেশ পাড়ি দেয়ার চেষ্টায় ছিল।

তদন্ত সাপেক্ষে মানবপাচারকারী দালালদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে নিশ্চিত করে বিজিবি।

বিজিবি ২ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্ণেল মো. আছাদ উদ জামান চৌধুরী জানান, উদ্ধারকৃতদের আইনী প্রক্রিয়া শেষে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাচারকালে টেকনাফের বেশ কিছু পয়েন্ট দিয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে টেকনাফের উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহার ছড়ার শামলাপুর, জাহাজপুরা এলাকায় পুলিশ এবং বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় শাহপরীরদ্বীপ গোলারচর ও ৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ৭টায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের নোয়াখালী পাড়া এলাকায় বিজিবি সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে ২ দালালকে আটক ও ৫০ জন রোহিঙ্গা ভিকটিমকে উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া ভিকটিমদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ, ২৪ জন মহিলা এবং ৭ শিশু। আটক দুই দালাল হচ্ছে কক্সবাজার জেলার টেকনাফের জাহাজপুরা গ্রামের হাবিব উল্লাহ’র ছেলে মহিবুল্লাহ (২০), ও দমদমিয়া গ্রারেম আব্দুল করিম ’র ছেলে মো. হুমায়ুন (১৮)।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মানবপাচারকারী একটি চক্র গত ৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশে বসবাসকারী কিছু রোহিঙ্গা নাগরিককে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া সাগরপথে পাচার করার জন্য টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া এবং শাহপরীর দ্বীপস্থ গোলারচর এলাকায় জমায়েত করে।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের শীলখালী অস্থায়ী চেকপোষ্টের না. সুবে. মো. সালাহ উদ্দিন-এর নেতৃত্বে একটি টহলদল এবং শাহপরীর দ্বীপ বিওপি হতে নায়েক মো. শিকদার শফিকুল ইসলাম’র নেতৃত্বে অপর একটি টহলদল স্ব স্ব স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।

উক্ত অভিযানে টেকনাফের শীলখালী অস্থায়ী চেকপোষ্টের টহলদল ৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে নোয়াখালীপাড়া এলাকায় সাগরের তীরবর্তী জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় একসাথে ১ জন দালাল ও ১৮ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে নৌকার জন্য অপেক্ষমান অবস্থায় আটক করতে সক্ষম হয়। যাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ১১ জন মহিলা ও ৪ জন শিশু রয়েছে।

অপরদিকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার সময় শাহপরীর দ্বীপ এলাকাস্থ গোলাচর এলাকায় টহলদল পৌঁছে দেখতে পায় যে, ১ জন দালাল ও ১২ জন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক সাগরপাড়ে নৌকার অপেক্ষায় জড়ো হয়ে আছে। এ সময়ে টহলদল তাদেরকে ঘেরাও করে আটক করে। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৬ জন মহিলা এবং ৩ জন শিশু রয়েছে।

আটক দুই দালাল হচ্ছে কক্সবাজার জেলার টেকনাফের জাহাজপুরা গ্রামের হাবিব উল্লাহ’র ছেলে মহিবুল্লাহ (২০), ও দমদমিয়া গ্রারেম আব্দুল করিম ’র ছেলে মোঃ হুমায়ুন (১৮)।

উদ্ধার হওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের বরাত দিয়ে বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. আছাদ উদ জামান চৌধুরী জানান, ভিকটিমরা টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাস করে এবং দালালদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় গমন করছিল। মানবপাচারের সাথে জড়িত দালালদের ব্যাপারে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

এ ছাড়া টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর, জাহাজপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ সদস্যরা মালয়েশিয়াগামী ২০ জন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী ।

এ সময় পাচারকারী দালালরা পালিয়ে যায়। তবে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা ভিকটিমদের দেয়া তথ্য মতে দালালদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি আরো বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের টেকনাফ মডেল থানায় সোর্পদ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

x