টুটেনখামেন

সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার

বুধবার , ১৫ মে, ২০১৯ at ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ
16

প্রাচীন সভ্যতার দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মিশর সুপরিচিত। আর সুপ্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন বিস্ময় -রহস্যের জালে জড়িয়ে আছে দেশটি। মিসর দেশের এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্যে শতাব্দী শতাব্দী কাল ধরে পর্যটকদের কাছে মিশর হয়ে আছে অন্যতম আকর্ষণ। বিশেষ করে মিশরের পিরামিড প্রাচীন সভ্যতার দেশ হিসেবে মিশরকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়।
পিরামিড হচ্ছে এক ধরনের স্মৃতিসৌধ যেখানে প্রাচীন মিসরীয়রা রাজ্যের রাজা-বাদশাহ ইত্যাদি সম্‌ভ্রান্তজনদের মৃতদেহ মমি করে সংরক্ষণ করতো। ঐতিহাসিক,প্রত্নতত্ত্ববিদ ও বিজ্ঞানীরা এখনো বিজ্ঞানের এ চরম উন্নতির দিনে মমি করার কৌশল আবিস্কার করতে পারেন নি। ছোট্ট বন্ধুরা,পিরামিডের মধ্যে সংরক্ষিত মমিগুলোর মধ্যে একটি রহস্যাবৃত মমির নাম হচ্ছে টুটেনখামেন মমি। ফারা ও চিওপসের শাসনকালের প্রায় দ্বাদশ শতাব্দী পরে টুটেনখামেন তৎকালীন মিশরের সিংহাসনে বসেন। দুজন মার্কিন প্রত্নতত্ত্ববিদ প্রথম প্রবেশ করেন স্মৃতিসৌধ পিরামিডের অভ্যন্তরে, এদের নাম কারটার ও কারনাখান। এরা দুজন আবিস্কার করেন টুটেনখামেনের মমিটি। তারা সমাধিসৌধে চারটি সমাধি খুঁজে পান। প্রথম সমাধি ছিলো স্বর্ণখচিত বিভিন্ন নকশায় সজ্জিত। অন্য সমাধি দুটিতে ছিলো বিভিন্ন দেব দেবীর চিত্র। চতুর্থ সমাধিতে ছিলো টুটেনখামেনের মমি। প্রত্নতাত্ত্বিক দুজনের মতে টুটেনখামেনের মমিটি প্রায় তিন হাজার পাঁচশত বছরের পুরাতন। টুটেনখামেনের মমি করা মৃতদেহটি সাজানো ছিলো সোনার অলংকারে। মাথায় ছিলো লোহার তৈরি বালিশ। তার মুখাবয়ব ঢাকা ছিলো অলংকৃত মুখোশে। এ থেকে বোঝা যায়, শৈল্পিক দক্ষতায় প্রাচীন মিশরীয়রা কতোদূর এগিয়ে ছিলো। টুটেনখামেনের সমাধিতে ছিলো আরও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী। টুটেনখামেনের কন্ঠে শোভা পেয়েছিলো লাল, নীল, সবুজ বহু মূল্যবান পাথরের কন্ঠহার। সবকটি আঙুলে পরানো ছিলো আংটি। তার কোমরে ছিলো সোনার শিকল। মূল্যবান রত্নখচিত একটি তরবারি ছিলো সোনার শিকলে বাঁধা। প্রত্নতাত্ত্বিক দুজন গুনে দেখেন মোট একশো তেতাল্লিশটা মূল্যবান রত্নসামগ্রী দিয়ে সাজানো ছিলো টুটেনখামেনের মৃতদেহটি। প্রত্নতত্ত্ববিদরা আরও দেখতে পান, টুটেনখামেনের দেহে একশত পঞ্চাশটি কবচ। যে আবরণে মমিটি মোড়ানো হয়েছিলো তাতেই বাঁধা ছিলো এ কবচগুলো। এ কবজগুলোর নিহিতার্থ ছিলো ভিন্ন ভিন্ন। ইতিহাসবেত্তারা এতোগুলো কবচের মাত্র তিনটির নিহিতার্থ উদ্ধার করতে পেরেছেন। স্কারার নামের কবচটি হচ্ছে জীবনের প্রতীক। এটি উৎসর্গিত হয় সূর্য দেবতার নামে। আর হোরাস ও আইসিস নামের কবচ দুটি হচ্ছে ইশ্বরের প্রতীক। প্রত্নতত্ত্ববিদরা টুটেনখামেনের মমির আশেপাশেও খুঁজে পেয়েছিলেন আরও বহু মূল্যবান সামগ্রী। এগুলোর মধ্যে ছিলো সোনার সিংহাসন, বিভিন্ন সাজসজ্জার সামগ্রী, কারুকার্যময় কাঠের জিনিসপত্র ও টুটেনখামেনের রাণীর একটি প্রস্তরমুর্তি।
প্রত্নতত্ত্ববিদরা লক্ষ করেছেন যে, টুটেনখামেনের মমিটি ক্ষয়ে যাচ্ছে। পিরামিডের অভ্যন্তরে টুটেনখামেনের মমির চেয়ে অনেক পুরনো মমিও আছে কিন্তু এদের দেহে ক্ষয়ের কোনো চিহ্নও নেই। বিষয়টি প্রত্নত্ত্ববিদদের তুলেছিলো ভাবিয়ে। এরা মনে করেন, মৃতদেহে তেল মাখানোর কারণে এ ক্ষয়ের সৃষ্টি। এ তেল ক্রমে চামড়ার নীচে প্রবেশ করে চামড়াকে নষ্ট করে ফেলেছে। তবে এ ব্যাপারে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন সময়ে কৌতুহলী প্রত্নতত্ত্ববিদরা পিরামিডের অভ্যন্তরস্থ রহস্য উদ্ঘাটনের জন্যে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। মার্কিন প্রত্নতত্ত্ববিদ কারটার ও কারনাখানের আগে বিশজন প্রত্নতত্ত্ববিদ সমাধিসৌধ পিরামিডের ভেতর ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু অভিযানের মাঝপথে অজানা কারণে এদের মৃত্যু ঘটেছিলো। এদের মৃত্যু রহস্য থেকে যায় অনুদ্ঘাটিত।

x