টিভিতে মঞ্চ নাটক ‘কমলা সুন্দরীর কিসসা’

একটি বিয়োগান্তক আখ্যান

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ২২ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
12

ঈদের অনুষ্ঠানের পর দেখলাম গণায়ন নাট্য সম্প্রদায়ের নাটক ‘কমলা সুন্দরীর কিসসা’। নেত্রকোনা জেলার সোমেশ্বরী নদীর কোল ঘেঁষে খনন করা একটি অতিকায় দীঘিকে কেন্দ্র করে ‘কমলা সুন্দরীর কিসসা’ নাটকের মূল কাহিনী গড়ে উঠেছে। এটি একটি বিয়োগান্তক আখ্যান। এটি ওই এলাকার প্রচলিত লোকগাথা। নাটকের কাহিনীটি
সংগৃহীত। এটি নির্দেশনা দিয়েছেন বাপ্পা চৌধুরী। ‘কমলা সুন্দরীর কিসসা’ নাটকের প্রযোজনা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক ম. সাইফুল আলম চৌধুরী। টেলিভিশনে এটি প্রযোজনা করেছেন শেখ শওকত ইকবাল চৌধুরী।
সৌভাগ্যক্রমে মঞ্চেও নাটকটি দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। আবার টেলিভিশনের পর্দায় যখন দেখলাম তখন মঞ্চে দেখার প্রশান্তিটুকু মেলেনি। নাটকের চরিত্র, অভিনয়শৈলী সবই ঠিক আছে, কাহিনিও বেশ চমৎকার। শুধু লাইটিংয়ে বেশ ঘাপলা। বারবার দৃষ্টির উপর আঘাত করছিল আলো নিভে যাওয়া অন্ধকার। বাকি বিষয় বেশ ভালো।
নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ এরকম, মায়ের ইচ্ছে পূরণ করতে বিয়ে করেন সুসং দুর্গাপুরের জমিদার ধর্মরাজ। বহু পথ পাড়ি দেয়ার পর পছন্দ হয় কমলা সুন্দরীকে। কালরাত্রি পেরিয়ে বাসর রাত এলে স্বামী ধর্মরাজ জেদ করেন স্ত্রীকে তার সাথে পাশা খেলতে হবে। স্ত্রী হারলে তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেবে ধর্মরাজ। আর নিজে হারলে যাবে কুঞ্জরবাড়ি। অনেক অনুনয় বিনয় করেও স্বামীর সিদ্ধান্তকে টলাতে পারে না কমলা সুন্দরী। পাশা খেলায় স্বামী পরাজিত হলেও তাকে শাস্তি পেতে দেয় না কমলা সুন্দরী। বছর পরে তাদের কোলজুড়ে আসে এক পুত্র সন্তান। পিতার নামের সাথে মিলিয়ে তার নাম রাখা হয়। এদিকে কমলা সুন্দরীর রূপ দেখে তাকে পছন্দ হয়ে যায় পাতালপুরীর কালরাজের। তার প্ররোচনায় ধর্মরাজ আবারো পাশা খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এবার কমলা সুন্দরী পরাজিত হলে তাকে পাঠানো হবে ১২ বছরের নির্বাসনে। আর স্বামী ধর্মরাজ পরাজিত হলে তাকে সুসং দুর্গাপুরের ৯০ কড়া জমিতে সাগরদীঘি খনন করতে হবে। স্বামীর সিদ্ধান্তের সাথে পেরে ওঠে না কমলা সুন্দরী। এবারও পাশা খেলতে বাধ্য হয়। তবে এইবারও কমলাই বিজয়ী হয়। আর স্বামীকে খনন করতে হয় সাগরদীঘি। নদীর পাশে এই সাগরদীঘি খনন করায় তার আশা হয়, দীঘিতে পানির অভাব হবে না। কিন্তু প্রচুর লোকবল খাটিয়েও যখন দীঘিতে এক ফোঁটা পানি ওঠে না, হতাশ হয়ে পড়ে ধর্মরাজ।
এবার পাতালপুরীর কালরাজ তাকে স্বপ্ন দেখায়, স্ত্রী কমলা যদি তার মাথায় করে এক কলসি পানি দীঘিতে নিয়ে গিয়ে ঢালে, তবেই সেই দীঘিতে পানি উঠবে। স্বপ্নে দেখা বিষয়টি ধরে নিয়ে স্ত্রীকে সেই মতো নির্দেশ দেয় ধমর্রাজ। কিন্তু দীঘিতে নামার পর আর উঠে আসতে না পারার ভয় হয় কমলা সুন্দরীর। স্বামীর অটল সিদ্ধান্তের কাছে পরাজিত স্ত্রী সত্যিই আর উঠে আসতে পারে না। কমলা সুন্দরীর ভরা কলসির পানিতে ভরে উঠে সাগরদীঘি। সেই পানিতেই ডুবে মরে কমলা। নাটকে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন, তৌহিদ হাসান ইকবাল, বাপ্পী হায়দার, ইউনুস আলী টিটো, সজল দে, ধর্মরাজ তঞ্চঙ্গ্যা, অর্পিতা ভট্টাচার্য্য, তাহমিনা মজুমদার বিন্তি, সুইনু মারমা, এম এন এস রায়হান, ফালগুনী দাশ, ননাবী চাকমা, সাদিয়া আক্তার সোনিয়া, লাব্রিচাহি মারমা, উৎসব পোদ্দার, সায়হাম মাহমুদ, মাইশা মালিহা ও রুমি ত্রিপুরা রুমরুম।
১৩ আগস্ট ঈদের অনুষ্ঠানমালায় প্রচারিত হয় স্বর্ণালী আনন্দ। বাংলা চলচিত্রের জনপ্রিয় গান নিয়ে নির্মিত অনুষ্ঠানটিতে গানের সাথে ছিল মডেলিংয়ও। ফয়’স লেকের বিভিন্ন স্পটে চিত্রায়িত অনুষ্ঠানটি মোটামুটি মানের। গান বাছাই নিয়ে কোনো কথা নেই, তবে আনকোরা মডেলিং অনুষ্ঠানের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মডেলরা গানের সাথে লিপসিং করবেন কি না এটা নিয়ে শেষ পর্যন্ত দ্বন্ধে ছিলেন। সিদ্ধান্তে আসতে পারলে ভালো হত। উমেচিং মারমার উপস্থাপনায় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান আনন্দ সময় কিছুটা আনন্দ দিয়েছে। কান ঝালাপালা করেছে কাওয়ালী গানের অনুষ্ঠান মাহফিলে কাওয়ালী। কাওয়ালীর মতো একসময়ের জনপ্রিয়তায় কেন ভাটা পড়েছে সেটি এই অনুষ্ঠান দেখার পর উত্তর মিলবে।

x