টিকাদানের ক্ষেত্রে কখন সতর্ক থাকতে হবে

প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

শনিবার , ১৮ মে, ২০১৯ at ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
60

গত শতাব্দীতে শিশু স্বাস্থ্যের যে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে তার প্রধান কারণ ছিল টিকাদান কর্মসূচী। বিশ্ব নিরিখে ‘ইপি আই শিডিউল’ ধরে প্রথম বছরে শিশুকে টিকাদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন ঈর্ষণীয় বলা যায়। ভ্যাকসিনের নিজস্ব উপাদানের কারণে কিছু প্রতিক্রিয়া থাকে। টিকাদানের পূর্বে অভিভাববকে সে সম্পর্কে সচেতন করা উচিত। এসব প্রতিক্রিয়ার বেশিরভাগ যৎসামান্য ধরনের। কয়েকদিনের মধ্যে তা লোপ পায়। আর কিছু প্রতিক্রিয়া হতে পারে দীর্ঘ মেয়াদীভাবে, সে সম্পর্কেও মা বাবাকে জানিয়ে রাখা বিধি সম্মত। যদিয়ো শিশুর সামগ্রিক মঙ্গলের ক্ষেত্রে এসব টিকাদান সম্পর্কিত প্রতিক্রিয়ার ভূমিকা তেমন গ্রহণযোগ্য নয়।
বিসিজি ভ্যাকসিন দেয়ার পর ৯০-৯৫ শতাংশে স্থানীয়ভাবে ব্যথা, ফোলা, লাল হয়ে যাওয়া দেখা যায়। হুপিং কাশ, ধনুষ্টংকার, হেপা-চি, হির প্রভৃতি ভ্যাকসিন প্রদানের পরও এরূপ সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর লাগবে ইনজেকশান দেয়ার স্থানে বরফ লাগিয়ে ও প্যারাসিট্যামল ঔষধ প্রদান করা যেতে পারে।
এসব ভ্যাকসিন প্রদানের পর বিশেষতঃ হুপিং কাশ, হাম, বিসিজি প্রভৃতির ক্ষেত্রে শিশুর জ্বর ৩৮ ডিগ্রী সে. এর বেশি ওঠতে পারে। এ সময় শিশুকে বেশি পানি ও তরল খাবার খাওয়ানো, ইষদুষ্ণ গরমজলে স্নান ও মুখে খাবার প্যারাসিট্যামল দেয়া যেতে পারে। কোন কোন ভ্যাকসিন এর পর যেমন পারটুসিস, হাম, ধনুষ্টংকার দেবার পর শিশুতে খিটখিটে মেজাজ, র‌্যাশ দেখা দেয় যা শিশুকে বেশি জলপান ও মুখে খাবার প্যারাসিট্যামল এর ধারা নিরাময় করা সম্ভব।
জেনে রাখতে হবে শিশু যদি অপুষ্টিতে ভোগে, তার মাঝারি মাপের জ্বর থাকে, তার সাধারণ সর্দি কাশ দেখা যায়, কিংবা সে মৃদু ধরনের ডায়রিয়ায় ভোগেতবে তার টিকাদান স্থগিত করা উচিত নয়। ডিপিটি ভ্যাকসিন দেয়ার পর যদি শিশুতে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তবে পরবর্তী ডোজ দেয়ার আগে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।
শিশু যদি গুরুতর অসুস্থ কিংবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কম অধিকারী হয়, স্নায়ুতন্ত্রের অসুখে ভূগতে থাকে, ইম্যুগ্লোবিন চিকিৎসা পায় তবে টিকা প্রদানের আগে শিশুবিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেয়া উচিত। গর্ভাবস্থায় রুবেলা ভ্যাকসিন ও কোনো শিশু যদি ডিমের এ্যালার্জিতে সংবেদনশীল থাকে তবে হাম ভ্যাকসিন প্রদানে নিষেধ রয়েছে।

x