টানা বর্ষণে জলমগ্ন বিভিন্ন এলাকা, দুর্ভোগ

পাহাড়ধসের আশঙ্কা

আজাদী প্রতিবেদন

সোমবার , ১১ জুন, ২০১৮ at ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ
331

টানা ও ভারী বৃষ্টিতে গতকাল রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন ঈদের কেনাকাটা করার জন্য বের হওয়া লোকজন। বৃষ্টিতে কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও কোমর সমান পানি জমে যায়। সংকট দেখা দেয় যানবাহনের। এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে আজও বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। ভারী বর্ষণের সাথে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় মাইকিং করে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের সরে যেতে বলা হয়েছে। উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও উত্তর উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে মৌসুমী নিম্নচাপে রূপ নিয়ে গতকাল দুপুরে সন্দ্বীপ ও তৎসংলগ্ন উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। সন্ধ্যায় এটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়। স্থল নিম্নচাপটি ঝড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আবহাওয়া অফিস থেকে বলা হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত শনিবার থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। গতকাল সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার পর মুষলধারায় বৃষ্টি নামে। সাথে ঝড়ো হাওয়া। ভারী বৃষ্টিতে নগরীর ২ নং গেট এলাকা, ষোলশহর আবাসিক এলাকা, মেয়র গলি ও সন্নিহিত এলাকায় জলজট সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দা রুবাইয়েৎ জানান। ওয়াসা মোড়, মুরাদপুর, মোহাম্মদপুরসালেহ আহমদ সড়কেও হাঁটু সমান পানি দেখা গেছে।

চকবাজার এলাকা, ধুনির পুল, কাপাসগোলা, কেবি আমান আলী রোডে প্রায় তিন চার ফুট জল জমে বলে আবদুল হামিদ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি দৈনিক আজাদীকে জানিয়েছেন। কাপাসগোলায় পানি জমে থাকা রাস্তায় চলার সময় ১০/১২ টি সিএনজি টেক্সি নষ্ট হয়ে যায়। মুরাদ নামে হালিশহরের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, সেখানকার কে ব্লকেও কোমর সমান পানি জমেছিল। রেয়াজুদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির প্রচার সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন জানান, বৃষ্টিতে হাঁটু সমান পানি সমান পানি জমে যাওয়ায় ব্যবসায়ী এবং বাজারে আসা লোকজনকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বৃষ্টিতে জলমগ্ন ছিল ফলমণ্ডী এলাকাও। এছাড়া নগরীর অন্যান্য নিম্নাঞ্চলেও বৃষ্টিতে সাময়িক পানি বন্দি হয়ে পড়ে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. রুবেল আজাদীকে বলেন, রোববার বিকাল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় ৬৪ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে। সেই সাথে পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় অর্থাৎ আজ বিকাল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে ঝুঁকিতে আছে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীরা। গতকাল সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত লোকজনদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি প্রচারণা চালেেনা হয়। পাহাড় ধসে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উক্ত কার্যক্রমের তদারকির দায়িত্বদের মধ্যে আছেন জেলা প্রশাসনের সদর সার্কেলের কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মনসুর, চান্দগাঁও সার্কেলের কমিশনার সাব্বির রহমান সানি, বাকলিয়া সার্কেলের কমিশনার সাবরিনা মোস্তফা এবং আগ্রাবাদ সার্কেলের কমিশনার শারমিন আক্তার। জেলা প্রশাসনের চান্দগাঁও সার্কেলের ভূমি কমিশনার সাব্বির রহমান সানি আজাদীকে বলেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সরে যেতে সকাল থেকেই মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু তারা কোন কথা শুনছেন না। তিনি বলেন, আমি নিজে ওইসব পাহাড়ে গিয়েছি। তাদেরকে সরে যাবার জন্য বলেছি। এছাড়া ভূমি ধস নিয়ে ভিডিও চিত্র পর্যন্ত তাদেরকে দেখানো হয়েছে। এরপরও তারা পাহাড় থেকে সরে যাচ্ছেন না। কিছুদিন আগে এখানকার পাহাড়গুলোতে বসতি উচ্ছেদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু্‌ সেখানে এখন গিয়ে দেখছি, তাদের মাথায় পাখা চলছে, লাইট জ্বলছে। এছাড়া গ্যাসের সংযোগও দেখা গেছে।

x