টাকার গাছ

অর্ঘ্য দাশ (৩২,৩৫৭)

বুধবার , ৮ মে, ২০১৯ at ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
13

“ইবিলিশ”। নামটা একটু হাস্যকর। কিন্তু কাজকর্মগুলো দারুণ। এই হাস্যকর নামটা হচ্ছে আমাদের দলের নাম। এই দলে ছিলাম আমি, আকাশ, রাজমোহন এবং ইমরান। আমাদের চারজনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কটা ছিল কাঁঠালের আঁঠার মতো। বলতে গেলে এক কথায় সুপার গ্লু। আমাদের দলের মধ্যে আকাশ ছিল একটু পড়ালেখায় ভালো। আর আমি বলতে গেলে প্রায় আকাশের কাছাকাছি। আর আমাদের প্রিয় রাজমোহন ছিল আকাশের মতো। কিন্তু ওর সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল হাতের লেখা। এই হাতের লেখার কারণেই সে পরীক্ষায় নম্বর কম পেত। আর সবশেষে বেচারা ইমরান। পড়ালেখা তেমন করতো না। কিন্তু স্বভাব চরিত্র ছিল আমাদের চেয়েও ভালো। আমাদের স্কুল থেকেই প্রায় দুইশো হাত দূরে ছিল একটা পাহাড়। এই পাহাড়ে নাকি নানা রহস্য লুকিয়ে আছে। একবার আমাদের স্কুলের লাইব্রেরিতে আমরা চারজন মিলে একটা ইতিহাস পড়ছিলাম। ইতিহাসটি ছিল সম্রাট হোসেন শাহ এর নামে। সেখানে লেখা ছিল, তিনি নাকি এই পাহাড়ে একটা টাকার গাছ লাগিয়ে ছিলেন।
তিনি এই টাকার গাছটি বানিয়ে ছিলেন পঞ্চাশজন বিজ্ঞানীকে দিয়ে। এই অদ্ভুত গাছটা অন্যান্য গাছের মতো রোপণ করতে হতো না। গাছের মধ্যে একটা বোতাম ছিল। সেই বোতামটা চাপলেই গাছটা ছোট এমনকি বড় পর্যন্ত হতে পারত। ওই গাছটির ঠিকানা তিনি ছাড়া আর কেউ জানতেন না। তিনি তার মৃত্যুর দুই ঘণ্টা আগে ওই গাছটি মাটিতে পুঁতে রাখেন। এবং তার চারপাশে গোল করে নকশা এঁকে রাখেন। কেউ যেন এই গাছের ঠিকানা বুঝতে না পারে সেই জন্য তিনি এই নকশার আশেপাশে আরো কিছু নকশা আঁকেন। এই সব গল্পের শেষে লেখা ছিল “সত্য ঘটনা অবলম্বনে”। এই গল্পটা পড়ার পরে আমাদের খুব ইচ্ছে হলো এই পাহাড়ের জঙ্গলে গিয়ে রহস্যটা বের করার। অনেক চিন্তা ভাবনা করে আমরা একটা দিন ঠিক করলাম। সবাই জঙ্গলে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিস সঙ্গে নিলাম। আমরা চারজন স্কুলের পোশাক পরে ঘর থেকে বের হই কিন্তু স্কুলের মাঠে এসে সবাই মিলে জঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা হই। ঘুরতে ঘুরতে আমরা ওই নকশাগুলোর সন্ধান পাই। কিন্তু নকশা একই রকম। তাই কোনটা যে আসল নকশা তা বোঝাও যায় না। আমাদের রাজমোহন সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল। ওর একটু বুদ্ধি বেশি। হঠাৎ করেই ও চিৎকার করে আমাদেরকে ডেকে বলে ও নাকি আসল নকশাটি পেয়ে গেছে। ও খুঁজে পায় যে একটি নকশা তা অন্য সব নকশা থেকে আংশিক ভিন্ন। আমরা চারজন মিলে এই নকশাটির মাঝখানে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করি। অবশেষে আমরা একটি ভাঁজ করা কাগজ পাই। কাগজ খুলে দেখি সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা, ‘মনকে একবার প্রশ্ন করে দেখ। টাকা কী গাছে ধরে? যদি টাকা গাছে ধরতো তবে লোকজন কাজকর্ম ফেলে শুধু টাকার গাছ লাগাতো। বুদ্ধি ছাড়া কোনো কাজই করা উচিত নয়।’

x