ঝুঁকিতে শহরের ফিসারী বাঁধ সংযোগ সড়কের ৩০৮ টি বৃক্ষ

বিজয় ধর, রাঙামাটি

সোমবার , ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ
65

পর্যটন শহর রাঙামাটি প্রবেশ করেই যে পথটি পথিককে মুগ্ধ করে সেই সড়কটির নাম শহরের ফিসারী সংযোগ সড়ক। শহরের ঠিক মাঝখানেই মাত্র আধ কিলোমিটার সড়ক কাম বাঁধ এর দুইপাশে সারি সারি কৃঞ্চচূড়া,কড়ই,জামরুলসহ নানা প্রজাতির বৃক্ষতৈরি করেছে এক নয়নাভিরাম আবহ। রাঙামাটি শহরবাসী তো বটেই, এমনকি নানা উপলক্ষে এই শহরে বেড়াতে আসা অতিথিদেরও অত্যন্ত প্রিয় এই স্থানটি। কিন্তুএই সড়কে কোন ফুটপাত না রেখেই সড়ক সম্প্রসারণ এবং বর্ষাকালে সড়কের দু্‌পাশেই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো সড়কটি এখন ঝুঁকির মধ্যে। কেবল সড়কটিই নয়,সড়কের দুইপাশের বিভিন্ন প্রজাতির অন্ততঃ ৩০৮ টি বৃক্ষও এখন বেশ ঝুঁকিতে। ইতোমধ্যে উপচে পড়া পানির টানে তলের মাটি সরে যাওয়ায় উপড়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি বৃক্ষ। এনিয়ে সাধারন মানুষের উৎকণ্ঠা যেমন আছে, উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনিক পর্যায়েও।

অন্যদিকে, সংযোগ সড়কটির উভয়পার্শ্বে বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল, বড় বড় গর্ত তৈরি এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে সড়কের উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলায় সড়কের অতিরিক্ত চাপ ও কম্পনে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে পড়া বা ধসে পড়ার ঝুঁকিতে।

কিন্তু এই নিয়ে আজ অবধি কোন পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। ফলে ঝুঁকিতে শহরের তবলছড়ি,বনরূপা এবং রিজার্ভবাজারের মধ্যবর্তী যোগাযোগের একমাত্র এই সংযোগ সড়কটি। এদিকে, সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির পাশে বেশকিছু স্পীড বোট এর ঘাট এবং সড়কটিতে সংকীর্ণ সংযোগ বাঁধে গাড়ী পার্কিং এবং পণ্য উঠানামার কারণে প্রতিনিয়তই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়কটি।

এ সড়কের পথচারী হান্নান ও বাপ্পী বলেন, এ সড়কটি আশু সংস্কার প্রত্যাশা করছি সরকারের কাছে। তারা বলেন, সড়কের পাশে যে গাছগুলো রয়েছে তা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন এগুলোকে রক্ষা করা।

রাঙামাটি পৌর কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা বলেন, পর্যটন শহর রাঙামাটির এ সড়কটির বেহাল অবস্থা। বাঁধ রক্ষার জন্য লাগানো বিশাল আকৃতির কয়েকটি গাছ মাটি নরম হয়ে গিয়ে হেলে পড়ছে। এটি যদি অতিসত্বর রক্ষণাবেক্ষণ করা না হয় তাহলে সড়কটি কাপ্তাই হ্রদে তলিয়ে যাবে।

হ্রদের দুইপাড়ের ঝুঁকিতে থাকা ছোটবড় বৃক্ষ প্রসঙ্গে সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) এর সহসভাপতি অমলেন্দু হাওলাদার বলেনএই সড়ক এবং সড়কের গাছগুলো রাঙামাটি শহরের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে,তাই এটিকে রক্ষা করার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অতিসত্বর গার্ডওয়াল নির্মাণ করে ও মাটি ভরাট করা হলে গাছগুলোকে রক্ষা করা যাবে।

x