ঝিরিতে বিলীন হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ বন্ধের শঙ্কা

দ্রুত সংস্কারের দাবি

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি

শনিবার , ৩০ জুন, ২০১৮ at ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ
31

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙাগোমতি সড়কে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে সড়কটির অর্ধেক ভেঙে ঝিরিতে বিলীন হয়ে গেছে, বাকি অংশটুকুও বিলীন হওয়ার উপক্রম। কয়েকদিনের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার করা না হলে পুরো সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে গেছে, সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতাধীন। মাটিরাঙা থেকে গোমতি পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কটির একাধিক স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার গোমতি ও বেলছড়ি ইউনিয়নের যোগাযোগ সুরক্ষার জন্য সড়কটির কোনো বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে সড়কটির পূর্ব খেদাছড়ার সড়কের একটির অংশে প্রায় ২০ ফুট ভেঙে ঝিরিতে বিলীন হয়ে গেছে। একাধিক অংশে ধসে পড়েছে মাটি। এতে চলাচলে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। ভারী বর্ষণের পরেও রাস্তার সংস্কার কাজ না হওয়ায় এখন সড়কটি ঝিরিতে বিলীন হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

মাটিরাঙা পৌরসভা এবং উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই সড়কে যাতায়াত করে। একসময় এই সড়কটিতে ট্রাক, মিনি ট্রাক, মাইক্রোবাস, চাঁন্দের গাড়ি ও সিএনজি অটো রিকশা চলাচল করলেও এখন কেবল সিএনজি এবং ভাড়াচালিত মোটর সাইকেল চলাচল করতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটিরাঙা সদর উপজেলা থেকে গোমতি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক। অতি ঝুকিপূর্ণ বাঁকে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় প্রায় দুর্ঘটনা শিকার হন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওমরসানি নামে ভাড়ায় চালিত একজন মোটর সাইকেল চালক বলেন, আগে এই পথে চলাচলে সময় লাগত মাত্র ৩০ মিনিট। কিন্তু এখন রাস্তায় মাটি পড়ে অনেক জায়গায় ভরাট হয়ে গেছে। স্থানীয়রা মাটি সরানোর কাজ করেছে। এতে কেবল মোটর সাইকেল ও সিএনজি অটো রিকশা চলাচল করতে পারে। ভাঙার কারণে প্রায় সময় দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। এখন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে দেড় ঘণ্টাও লেগে যায়।

স্থানীয় মোটর সাইকেল চালক গোলাপ মিয়া বলেন, রাস্তা এমনতিইে ছোট। তার উপর মাটি ধসে পড়ায় কয়েকদিন যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সড়কে চলাচলকারীরা স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি চলাচল উপযোগী করে। মাটি ধসে পড়া অংশে বর্তমানে মোটর সাইকেল ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না।

পূর্ব খেদাছড়ার বাসিন্দা মো. শামসুদ্দিন আহমদ বলেন, এই সড়ক দিয়ে গাজীনগর, পূর্বখেদাছড়া ও গোমতি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক বাসিন্দা চলাচল করে। বর্ষার প্রথম মৌসুমে রাস্তাটি ভেঙে পড়েছে। এটি দ্রুত সংস্কার না করলে মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। মাটিরাঙা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল হক বলেন, সড়কটির ভাঙা অংশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে। শীঘ্রই সড়কের সম্প্রসারণ ও সংস্কার শুরু হবে।

একটি কালভার্টের জন্যই সড়কের দুরবস্থা!

x