ঝরে পড়া কমাচ্ছে শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রীর দশ বিশেষ উদ্যোগ

রতন বড়ুয়া

বুধবার , ১৩ জুন, ২০১৮ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ
114

লামা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় ২০১১ সালে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ২৯৭ জন। এর মধ্যে ৩০ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। শতকরা হিসেবে ঝরে পড়ার এ হার ১০.১০ শতাংশ। ঝরে পড়াদের ১৩ জন ছাত্র। আর ছাত্রী সংখ্যা ১৭ জন। মাদ্রাসাটির মাধ্যমিক পর্যায়ের (৬ষ্ঠদশম শ্রেণি) চিত্র এটি। ২০১৭ সালের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়প্রতিষ্ঠানটির মোট ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ঝরে পড়েছে ৩ জন। শতকরা হিসেবে এ হার ১ শতাংশ। ঝরে পড়াদের মধ্যে ১ জন ছাত্র, আর ছাত্রী ২ জন। একই ভাবে লামামুখ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০০৯ সালে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৫০ জন। এর মধ্যে ঝরে পড়ে ৬২ জন শিক্ষার্থী। শতকরা হিসেবে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার প্রায় ১৪ শতাংশ (১৩.৭৭%)। ঝরে পড়াদের ৩৭ জন ছাত্র। আর ছাত্রী সংখ্যা ২৫ জন। তবে ২০১৭ সালে স্কুলটির ঝরে পড়ার হার নেমে এসেছে ৭ শতাংশের কম (.২১%। ২০১৭ সালে স্কুলটির মোট ৭৪০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ঝরে পড়েছে ৪৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২৫ জন আর ছাত্রী সংখ্যা ২১ জন।

/১০ বছর ব্যবধানে ঝরে পড়ার হারে আশাব্যঞ্জক এ চিত্র উঠে আসা দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই পাবর্ত্য বান্দরবানের লামা উপজেলার। সমতলের তুলনায় পার্বত্য অঞ্চলের এসব এলাকা শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা অঞ্চল হিসেবেই পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রত্যন্ত এই অঞ্চলগুলোর শিক্ষায় অগ্রগতি ঘটছে। ৮১০ বছর ব্যবধানে এসব এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার অর্ধেকে নেমে আসার তথ্য সেটাই নির্দেশ করে।

ব্যতিক্রম নয় প্রাথমিকের চিত্রও। চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে২০০৮ সালে চট্টগ্রামে ঝরে পড়ার হার ছিল ২১ শতাংশ। তবে ২০১৮ সালে ঝরে পড়ার এ হার কমে দাঁড়িয়েছে ১২ শতাংশে। অর্থাৎ ১০ বছরের ব্যবধানে ঝরে পড়ার হার ৯ শতাংশ কমেছে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমে আসার পেছনে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে অভিমত অভিভাবক, শিক্ষকশিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের। তাঁরা বলছেনসরকারের শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে ওষুধ হিসেবে কাজ করছে। ফলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। যা দেশের জন্য ইতিবাচক একটি দিক।

লামা উপজেলার বলিয়াচর গ্রামের বাসিন্দা শাহানা বেগম। স্বামী হারিয়েছেন ১০/১২ বছর আগেই। বর্তমানে এ বাড়িও বাড়ি খেটে ৬ ছেলেমেয়েকে নিয়ে বহু কষ্টে দিন পার করছেন এই মা। ৬ সন্তানের ছোট তিনজনকে স্কুলে ভর্তি করালেও বড় তিনজনকে পড়াতে পারেন নি। কারণ বলতে গিয়ে অসহায় এই মা জানালেনএখন স্কুল থেকে ফ্রিতে বই দেয়। আবার মাসেমাসে উপবৃত্তিও দেয়। এই টাকা দিয়ে সন্তানের খাতাকলমের খরচ হয়ে যায়। তাই ছোট তিনজনকে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছি। কিন্তু বড় ছেলেমেয়েগুলো যখন স্কুলে যাওয়ার বয়সী ছিল, তখন এই সুবিধা ছিল না। যার কারণে ইচ্ছে থাকলেও সামর্থ্য না থাকায় বড় তাদের স্কুলে পড়াতে পারিনি। তখন এই সুবিধা পেলে বড় তিনজন ছেলেমেয়েকেও পড়ালেখা করাতে পারতেন বলেও আফসোস করেন জীবনের সাথে লড়াই করে যাওয়া এই মা।

/১০ বছরের ব্যবধানে নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে বলে জানালেন লামামুখ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর শুক্কুর ও লামা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু তৈয়ব। তাঁরা বলছেনএই সময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি, ক্লাসে উপস্থিতি ও পাশের হারে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। বিপরীতে ঝরে পড়ার হার কমেছে। এসবের পেছনে মাধ্যমিক পর্যায়েও বিনামূল্যে বই বিতরণ এবং উপবৃত্তি প্রদানসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ দারুণ কাজ করছে। তাঁদের দাবিনিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীই দরিদ্র পরিবারের। মাধ্যমিক পর্যায়ে ৮/১০ বছর আগেও পরিবার থেকে ছেলেমেয়েকে বই কিনে দিতে হতো। এটি দরিদ্র পরিবারের জন্য বোঝা স্বরূপ ছিল। ফলে অনেকেই ছেলেমেয়েকে বই কিনে দিতে পারতো না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করালেও অনেক পরিবার ছেলেমেয়েকে স্কুল সময়ে কাজে পাঠাতো। এতে স্কুলে উপস্থিতির হার সন্তোষজনক ছিল না। দারিদ্রতার কারণে অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রীরও স্কুলে আসা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ২০১০ সাল থেকে মাধ্যমিক পর্যায়েও বিনামূল্যে বই বিতরণ শুরু হলে দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করে। ভর্তি, ক্লাসে উপস্থিতি, পাশের হারসহ সব সূচকেই উন্নতি ঘটেছে। যা সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগেরই সুফল বলে দাবি করেছেন এই প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

অভিন্ন বক্তব্য লামা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়ারও। তিনি বলছেনবিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে সরকারের শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল বর্তমানে দৃশ্যমান।

উপজেলার সবকয়টি মাধ্যমিক শিক্ষাাপ্রতিষ্ঠানে আগের তুলনায় ঝরে পড়ার হার পর্যায়ক্রমে কমেছে। পাশাপাশি উন্নতি ঘটেছে সব সূচকেই। এই ধারা অব্যাহত থাকলে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলো শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে আরো এগিয়ে আসবে বলেও মনে করেন এই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

যদিও প্রত্যন্ত এসব অঞ্চলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের সংকট খুব প্রকট বলছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। অনগ্রসর অঞ্চলে বিশেষ করে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকায় এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা আশানুরুপ ফলাফল করতে পারছে না বলে মনে করেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। শিক্ষাবোর্ডের এই কর্মকর্তা বলছেনযোগাযোগে সীমাবদ্ধতা, দক্ষ শিক্ষক ও বিজ্ঞানের ল্যাব সংকটই অনগ্রসর অঞ্চলগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম অন্তরায়। যার কারণে এসব অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে থাকছে। চিহ্নিত সমস্যাগুলো দূর করতে পারলে এসব পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোও শিক্ষা ক্ষেত্রে আরো অনেকদূর এগিয়ে আসতে সক্ষম হবে।

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহনের পর শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকার। এ কর্মসূচির উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছেস্কুলে যাওয়া বয়সি শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয়ে আনয়ন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, এবতেদায়ী, দাখিল ও এসএসসি পর্যায়ে বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ, মেয়েদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ এবং শিক্ষা সহায়তা উপবৃত্তি প্রদান, সকল শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা বৃত্তি প্রদান, পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ জাতীয়করণ করা এবং আইটি নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনসহ শ্রেণিক সমূহে মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিতকরণ।

এই কর্মসূচির আওতায় গত ৯ বছরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ২২৫ কোটি ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫০টি বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মাঝে ২০১৮ সালের শুরুতেই সারাদেশের ৪ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার ১৯৭ শিক্ষার্থীর হাতে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২ কপি নতুন বই তুলে দেওয়া হয়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত জাতীয়করণ করা হয়েছে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একই সাথে জাতীয়করণ করা হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি। সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ১৭২টি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে (২০১৭ সাল পর্যন্ত)। আর ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বেসরকারি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষককর্মচারিকে এমপিওভূক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও সরকারি স্কুলকলেজ নেই, দেশের এমন প্রত্যেক উপজেলাতে একটি করে সরকারি স্কুল ও কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের চিত্র (প্রাথমিক পর্যায়):

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য মতেচট্টগ্রাম অঞ্চলে (১১ জেলায়) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭ হাজার ৭৮৬টি। আর এ পর্যন্ত (২০১৮ সাল পর্যন্ত) জাতীয়করণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৫২টি। সব মিলিয়ে সরকারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫৩৮টিতে। জাতীয়করণকৃত এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ১৫ হাজার ৯২ শি কের পদও একই সাথে জাতীয়করণ করা হয়েছে।

অধিদফতরের তথ্য বলছেএ অঞ্চলে স্কুলগামী উপযোগী (৫ বছরের উর্ধ্বে) জপিরকৃত শিশুর সংখ্যা ৩৯ লাখ ২০ হাজার ৭৬৮ জন। আর জরিপে প্রাপ্ত মোট শিশুর মধ্যে এবছর স্কুলে ভর্তি হয়েছে ৩৮ লাখ ৬৪ হাজার ৩৮৯ জন। এ অঞ্চলে ভর্তিকৃত শিশুদের ২০১৮ সালের শুরুতেই ১ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১৩টি নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, চট্টগ্রামের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. সুলতান মিয়া। এছাড়াও বিভাগের মোট ৬ হাজার ৪৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে বা স্কুল ফিডিং চালু করা হয়েছে। ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৫৮ জন শিক্ষার্থী এই মিড ডে বা স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় সুবিধাভোগী বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী২০১৭ সালে এ অঞ্চলে প্রাথমিকে বৃত্তি অর্জন করেছে মোট ১৬ হাজার ৯৫৭ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৬ হাজার ৯৬১ জন ট্যালেন্টপুলে এবং বাকি ৯ হাজার ৯৯৬ জন সাধারণ গ্রেডে এ বৃত্তি পেয়েছে। অন্যদিকে, গত (২০১৬১৭) অর্থবছরে এ অঞ্চলে উপবৃত্তি সুবিধা পেয়েছে ১৭ লাখ ১৪০ জন শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণকৃত অর্থের পরিমান ১৪৫ কোটি ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪ টাকা। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামের মোট ৮ হাজার ৭৫৫টি প্রাথমিক স্কুলে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ীএ অঞ্চলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (মাদ্রাসাসহ) সংখ্যা ২ হাজার ৬৮০টি। এর মধ্যে

সরকারি ও বেসরকারি কলেজ ১৮৭টি। স্কুল এন্ড কলেজের সংখ্যা (সরকারি১টি) ৫৮টি। নিম্মমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা (সরকারিবেসরকারি) ১ হাজার ৬০২টি। আর দাখিল থেকে কামিল পর্যায়ের মোট মাদ্রাসা সংখ্যা ৭৭০টি। মাউশির তথ্যমতেএ অঞ্চলে বেসরকারি ২৭টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা হয়েছে। একই সাথে জাতীয়করণ করা হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের ৪৮১ শিক্ষকের চাকরিও। আর উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান (কলেজ) জাতীকরণ করা হয়েছে ৩১টি।

মাউশি’র আঞ্চলিক উপপরিচালক মো. আজিজ উদ্দিন জানান২০১৮ সালের শুরুতেই এ অঞ্চলের ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৭২৫ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ১৪ লাখ ৬ হাজার ৬১৮টি বিনামূল্যের বই। অনলাইনে এমপিওভূক্তি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এমপিওভূক্ত হয়েছে এ অঞ্চলের ২ হাজার ৬৮১ জন শিক্ষককর্মচারি। বিভিন্ন বিষয়ে ২০ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষক এ পর্যন্ত প্রশিক্ষন গ্রহনের সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়াও অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩১৯টি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের গৃহীত শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন বছর বছর বাড়ছে বলে অভিমত চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলামের। তাঁর অভিমতবিনামূল্যে পাঠ্যবই ও উপবৃত্তির মতো উদ্যোগ দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে খুব বেশি কাজ দিচ্ছে। আগে পাঠ্যবই ও খাতাকলমের খরচ যোগাতে না পারায় অনেক পরিবারের ছেলেমেয়ের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। এ ধরণের হাজারো উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এ ধরণের পরিস্থিতি থেকে অনেকটা উত্তোরণ ঘটেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে পাঠ্যবই ও পড়ালেখার খরচ হিসেবে মাসিক উপবৃত্তি প্রদান এ সুফল বয়ে আনছে বলেও মনে করেন শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম।

শিক্ষাবোর্ডের তথ্যও বোর্ড চেয়ারম্যানের এই বক্তব্য সমর্থন করে। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা শাখা সূত্রে জানা যায়১৯৯৫ সালে শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠার পর প্রথমববার (১৯৯৬ সালে) এ বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪৫ হাজার ৭২১ জন। একই বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৮ হাজার ৭৬৫ জন। সব মিলিয়ে প্রথম বছরের দুই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৮৪ হাজার ৪৮৬ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু ২০১৭ সালে শুধু জেএসসি পরীক্ষাতেই অংশ নেয় ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৮ জন শিক্ষার্থী। ২০১৮ সালে এই পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখের কোটায় পৌঁছে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বোর্ড কর্মকর্তারা।

শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসানের দাবিবোর্ডের প্রতিষ্ঠালগ্নে সব মিলিয়ে বছরে এক লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতো। কিন্তু বর্তমানে শুধু জেএসসিতেই অংশ নিচ্ছে প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী। আর এসএসসি ও এইচএসসিসহ চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের তিন পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বছরে প্রায় সাড়ে চার লাখ। তিনি বলেনএ থেকেই বুঝা যায়, শিক্ষার্থীর সংখ্যার পাশাপাশি পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। পাশের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সূচক উন্নয়নে ভূমিকা রাখলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণস্বা রতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলছেনঝরে পড়ার হার কমছে তা ঠিক। কিন্তু এটা গড়পড়তা হিসেব। বস্তি এলাকা, চরাঞ্চল কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিত্র এখনো হতাশাজনক। সরকারের উদ্যোগ আছে, ইতিবাচক মানসিকতাও আছে। কিন্তু আমরা কোথায় যেন থেমে গেছি। সেখান থেকে আমরা আর নড়ছিনা। তাই শিক্ষায় প্রকৃত উন্নয়ন চাইতে গেলে এসব বিষয়ে আরো বেশি নজর দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন এই শিক্ষাবিদ।

x