‘জ্বীনের বাদশার’ মামলা আপোষে নিষ্পত্তি!

আদালত প্রতিবেদক

শুক্রবার , ১২ অক্টোবর, ২০১৮ at ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ
167

পুলিশের কনস্টেবল চানু মং মার্মার কাছ থেকে ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয়ে ১৪ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছিল একটি চক্র। এঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর মধ্যে এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়। এরপর উক্ত ঘটনায় ভুক্তভোগী চানু মং মার্মা পিবিআইকে জানান, তিনি আসামিদের সাথে আপোষ করেছেন। এর প্রেক্ষিতে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। গতকাল বৃহস্পতিবার উক্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেম মো. নোমান। জানা যায়, ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন পুলিশের কনস্টেবল চানু মং মার্মা (৪০)। সেই সময় তিনি তৎকালীন বায়েজিদ থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীনের গাড়ির চালক ছিলেন। মামলার এজাহারে চানু মং মার্মা উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর রাত দেড়টায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার মোবাইলে ফোন করে। এসময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি নিজেকে জ্বীনের বাদশা দাবি করে। চানু মংকে ওই ব্যক্তি মুঠোফোনে বলে, ‘আমি বগুড়া মহাস্থানগড় দরবার শরীফ থেকে বলছি। আমি সাধারণ মানুষ নই। আমি বিভিন্ন রূপ ধারণ করে অসহায় মানুষকে সম্পদ দিয়ে থাকি।’ প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে জ্বিনের বাদশা পরিচয় দেয়া ওই ব্যক্তি এ পুলিশ সদস্যকে আরও বলে, সাতটি মূর্তি, সাত হাড়ি স্বর্ণ, রূপা, হীরা, মুক্তা আল্লাহ তোমাকে দিয়েছে। আল্লাহর দেয়া সম্পদ যদি তুমি না নাও, তবে তোমার চোখ অন্ধ হয়ে যাবে। অথবা স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের ক্ষতি হবে। তোমাকে যেই মূর্তি দেয়া হবে একেকটি মূর্তির দাম ২ কোটি টাকা।’ মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়- মুল্যবান গুপ্তধন পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা চাওয়া শুরু করে প্রতারক চক্র। ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর রাত দেড়টা থেকে ২৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে বিকাশ ও এস এ পরিবহনে করে ১৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাত করে তারা। এদিকে বায়েজিদ থানা পুলিশ চানু মং মার্মার মামলাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা। তিনি বিকাশ অফিস থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরগুলোর রেজিষ্ট্রেশনসহ গ্রাহক ও এজেন্টের তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি এঘটনায় জড়িত ময়দুল ইসলাম ও মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রধান ওরফে নয়নকে গ্রেপ্তার করেন। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনায় দায় স্বীকার করে। এর মধ্যে নয়ন ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। তার স্বীকারোক্তি মতে প্রতারক মো. শাহ আলম সরদারকেও গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এঘটনায় জড়িত আমিরুল ইসলাম ও মো. রুবেল মিয়া মণ্ডল নামে দুইজনের নাম জানায় পিবিআইকে। এভাবে পুরো ঘটনার রহস্য তদন্ত করে উদঘাটন করে পিবিআই। এবিষয়ে মামলার বাদী চানু মং বলেন, প্রতারণার শিকার হয়ে মামলা করেছিলাম। তাদেরকে চিহ্নিত করে পিবিআই গ্রেপ্তার করেছে। মামলার তদন্তকালে আসামিরা আমার সাথে আপোষ করেছে। তাই মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য আবেদন করেছি। তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে প্রতারক চক্রকে সনাক্ত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেপ্তারও করেছি। কিন্তু তদন্তকালে বাদী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, আসামিদের সাথে তিনি আপোষ করেছেন। মামলার ধারাগুলোও আপোষযোগ্য। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার থাকে না। তাই বাদী আপোষ করায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিলাম।

x