জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতা

শনিবার , ২৮ জুলাই, ২০১৮ at ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ
57

ইদানিং দেখা যাচ্ছে, বৃষ্টিপাত ছাড়াই জোয়ারের পানিতে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, হালিশহর, কাপাসগোলা বাদুরতলা, বাকলিয়া, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। চাক্তাই খাতুনগঞ্জে হাঁটু সমান পানি উঠে রাস্তাঘাটগুলো ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানে পানি প্রবেশ করে। ফলে ব্যবসা বাণিজ্যে নেমে আসে স্থবিরতা। পাশাপাশি সাধারণ জনগণ দুর্ভোগে পড়েন। বিভিন্ন দোকানপাটের পাশাপাশি বাসা বাড়িগুলোতে পানি উঠে। ওইসব এলাকায় যান চলাচল কম থাকায় সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবিরা এসময় চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন। অন্যদিকে দেখা যায়, মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীর প্রায় এলাকা তলিয়ে যায় হাঁটু থেকে কোমর পানিতে। প্রবল বর্ষণে নতুন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। খালনালা পরিষ্কার না হওয়ায় প্রায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। নগরীর প্রধান সড়ক এশিয়ান হাইওয়ের বহদ্দারহাট থেকে ষোলশহর ২ নং গেইট পর্যন্ত কোমর পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নগরবাসী গৃহবন্দি হয়ে পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন সবাই। অনেক স্থানে পানির কারণে মসজিদে নামাজ পড়তে অসুবিধা হয়। প্রতি বছরই বৃষ্টির মৌসুমে জলাবদ্ধতা নাগরিক জীবনকে থমকে দেয়। জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে কিছুতেই বেরিয়ে আসতে পারছে না। এ যেন নগরবাসীর কপালের লিখন। জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে এ পর্যন্ত বেশকিছু উদ্যোগ নিলেও তা কাঙ্খিত সুফল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার জটিলতা হলো এর সঙ্গে রয়েছে জোয়ারের প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লাগোয়া বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মহানগরের নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধার মুখে পড়েছে। যা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। নগরীর খাল ও জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় নগরবাসীকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। নগর অভিভাবক সিটি মেয়র আ. . ম নাছির উদ্দিন জলাবদ্ধ নগরীর এলাকা পরিদর্শন করে জলাবদ্ধতার সংকট থেকে উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করেন। প্রতিটি সিটি নির্বাচনে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নির্বাচিত হয়ে তাদের কেউ কেউ জলাবদ্ধতার অবসানে কিছু কিছু পদক্ষেপও নেন। কিন্তু স্থায়ী জলাবদ্ধতার অবসান হয় না। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকল্প বাস্তবায়নে নগরবাসী সরকারের বিশেষ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।

এম. . গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণপশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।্ল

x