জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের এএসআই ক্লোজড

চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

মীরসরাই প্রতিনিধি

বুধবার , ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
131

দুই ব্যবসায়ীকে মাদক দিয়ে ছবি তুলে অনৈতিকভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের এক এএসআইয়ের বিরুদ্ধে। গত সোমবার ভুক্তভোগী দুই ব্যবসায়ীর একজন জামশেদ আলম মীরসরাই সার্কেলের সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার বরাবর এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার অভিযুক্ত এএসআইকে ক্লোজড করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। জানা গেছে, গত রোববার রাতে জোরারগঞ্জ থানাধীন মেহেদীনগর গ্রামের ফয়েজ আহম্মদের ছেলে জামশেদ আলম ও তার বন্ধু নূর হোসেন উপজেলার শুভপুর ব্রিজ এলাকায় ওয়াহেদুর রহমান সুমন নামে একজনের সাথে দেখা করতে যায়। ওই সময় তারা যখন ব্রিজের পাশে দাঁড়িয়েছিল তখন জোরারগঞ্জ থানার এএসআই শওকত আলী দুইজন পুলিশ কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দেহ তল্লাশি করে। কিছু না পেয়ে পুলিশ সদস্যরা শুভপুর ব্রিজের নিচ থেকে দুই বোতল ফেন্সিডিল নিয়ে আসে। এরপর হাতকড়া পরিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় নিয়ে ফেন্সিডিল দুইটি সামনে রেখে ছবি তুলে মামলার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করে এএসআই শওকত আলী। পরে তারা এক লাখ টাকা দিতে রাজি হয়। এসময় জামশেদ ও নূর হোসেনের পকেটে ৬৫ হাজার টাকা ছিল। পরে বন্ধুদের কাছে থেকে ধার নিয়ে ও ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে তুলে এক লাখ টাকা এএসআই শওকত আলীকে দিয়ে তারা ছাড়া পায়।
তবে এবিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার এএসআই শওকত আলী জানান, জামশেদ আলম ও নুর হোসেন নামে দুইজনকে গভীর রাতে শুভপুর ব্রিজ এলাকায় ঘুরতে দেখে থানায় নিয়ে আসি। এরপর ওসির সাথে কথা বলে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এজন্য কোনো টাকা পয়সা লেনদেন হয়নি। আমাকে হয়রানি করতে তারা মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।
জানতে চাইলে মীরসরাই পুলিশ সার্কেলের সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার শামছুদ্দিন মো. ছালেহ আহম্মদ চৌধুরী জানান, অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে প্রেরণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগেরও তদন্ত চলছে। সাধারণ মানুষের হয়রানি রোধ করতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

x