জেল রোডে ছিনতাইয়ে দুই কলেজ ছাত্র

প্রথমবারের মতো ছিনতাই করে ধরা

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১১ জুলাই, ২০১৮ at ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
755

বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে প্রথমবারের মতো ছিনতাই কাজে অংশ নিয়ে ধরা পড়লো দুই কলেজ ছাত্র। আর তাদের বড় ভাই পেশাদার ছিনতাইকারীরা ঠিকই রয়ে গেছে অধরা। সাইদুর রহমান নিয়াজ (১৮) ও জালাল উদ্দিন অন্তর (১৮) নামে এ দু’জন কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী। রাজনৈতিক বড়ভাইদের প্রয়োজনে ব্যবহার এবং অসৎ সঙ্গ মেধাবী এ দুই শিক্ষার্থীর জীবনে কলঙ্কের স্ট্যাম্প মেরে দিয়েছে তাদের অজান্তেই। গত এপ্রিল মাসে নগরীর জেল রোড এলাকায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাই ঘটনার তদন্তে বের হয়ে আসে এ চরম সত্যটি। নগরীর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহম্মদ মহসিন আজাদীকে বলেন, সামাজিক অবক্ষয় আর বড় ভাইদের লেবাসধারী কিছু দুর্বৃত্তের লোভ চরিতার্থের হাতিয়ার হচ্ছে এ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। আমরা আমাদের দায়িত্বটা পালন করছি। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের দায়িত্বটাও পালন করার অনুরোধ করছি। তিনি বলেন, ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই একে একে ধরা পড়বে।

প্রসঙ্গত: গত ১০ এপ্রিল বিকেল চারটার দিকে কোতোয়ালী থানার জেল রোডে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। বকশিরহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই নুরুজ্জামান দৈনিক আজাদীকে বলেন, নক্ষত্র বুটিকের এক কর্মচারী রিকশা করে যাওয়ার সময় গতিরোধ করে ছিনতাইকারীরা টাকা নিয়ে যায়।

নক্ষত্রের মালিক মো: সেলিম জানান, আমার দোকানের এক কর্মচারী খাতুনগঞ্জ থেকে দোকান কর্মচারীদের বেতনের টাকা তুলে নিউ মার্কেট আসছিল। জেল রোড এলাকায় তাকে বহনকারী রিকশার গতিরোধ করে কয়েকজন তার হাতে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সিসি ক্যামেরায় ছিনতাইকারীদের ছবি দেখা গেছে। পুলিশও সেইগুলো সংগ্রহ করেছে।

এ সংক্রান্ত মামলায় গত সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধরা পড়ে নিয়াজ ও অন্তর নামে দু’জন। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমানের আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে ছিনতাইয়ের বিস্তারিত জানিয়েছেন এ দুই কলেজছাত্র। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায় নিয়াজ ও অন্তর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, গত ১০ এপ্রিল সকালে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় জিসান তার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানায় যে, তার বাসায় সমস্যা হয়েছে, নিয়াজ যেন কয়েকজন বন্ধু নিয়ে যায়। এ কথা শুনে সে এবং অন্তর সিরাজুদৌলা রোডে জিসানের বাসায় যায়। সেখান থেকে ১ নং বাসে তারা লালদীঘির মোড়ে নেমে সেখান থেকে হেঁটে জেলরোড যায়। সেখানে গিয়ে দেখে আরো কয়েকজন অপেক্ষা করছে। নিয়াজ তাদের আগে থেকে চিনতো জিসানের কল্যাণে। তবে অন্তর জিসানসহ তাদের প্রথমবারের মতো দেখে সেদিন। সেই বড় ভাইরা হলেন দেলোয়ার, শওকত ও রাশেদ।

পরিকল্পনাকারী জিসান তাদের দু’জনকে জানায় তার এক মুরুব্বীকে মারতে হবে। অন্যরা আগে থেকেই জানতো ঘটনার বিষয়ে। মিনিট কয়েকের মধ্যে কথিত সেই লোক রিকশা করে আসছিল। নির্ধারিত জায়গায় আসতে না আসতেই তারা তাকে মারতে শুরু করে। মারধরের এক পর্যায়ে রিকশারোহী মুরুব্বী থেকে একটি কাপড়ের শপিং ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে তার কাছে দেয় জিসান। ওইখানে তারা চারজন ছাড়াও নিয়াজ ব্যাগটি নিয়ে দৌঁড়ে টেরিবাজারে একটি মার্কেটে ঢুকে। মার্কেটের ভেতর দিয়ে সে মন্দিরের ভেতর যায়। সেখানে কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তি তাকে জেরা করতে শুরু করে। হাতে থাকা ব্যাগটি জোর করে নিয়ে জানতে চায় ব্যাগটি কার, কী আছে ভেতরে, কোথা থেকে আসছে ইত্যাদি। সে ইতস্তত করতে থাকে। তখন একজন ‘লিটন কাকু’ নামে একজনকে ফোন দিলে মিনিট কয়েকের মধ্যে তিনি আসেন সেখানে। ব্যাগ খুলে তিনি দেখেন সেখানে সব টাকা। তখন তাকে আটকে রাখেন লিটন। এ সময় কাজে অংশ নেওয়া অন্যান্যরা একের পর এক ফোন করতে থাকে নিয়াজকে। সে জানায় পুরো ঘটনা, এমনকি তাকে আটকে রাখার ঘটনাটিও। জিসান এ ঘটনা তাদের রাজনৈতিক বড় ভাই কামরুল জামান ফয়সালকে জানায়। তিনি মন্দিরে এসে তাকে মোটর সাইকেলে নিয়ে বাসায় নামিয়ে দেন।

x