জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে অস্ত্র সংগ্রহ

বাঁশখালীতে সাতটি অস্ত্রসহ গ্রেফতার ২

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৪ জুন, ২০১৮ at ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ
9

বাঁশখালী উপজেলায় সাতটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া দুই জন স্থলে ডাকাতি এবং সাগরে মাছ ধরার নৌযান থেকে মাছ লুটে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ভোরে উপজেলার সরল বাজারে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে বাঁশখালী থানা পুলিশ। গ্রেফতার দু’জন হলেনবাঁশখালীর দক্ষিণ সরল এলাকার অজি উল্লাহর ছেলে উমর মাইদ্যা (৪৫) ও সোলতান আহমেদের ছেলে মো. আলী (৫০)। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চারটি এক নলা বন্দুক ও তিনটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) নূরে আলম মিনা আজাদীকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, গ্রেফতার হওয়া দুজনই দুর্ধর্ষ অপরাধী। তারা বিভিন্ন বাড়িতে ডাকাতি করে। আবার সাগরে মাছ ধরার ট্রলারে জেলেদের জিম্মি করে মাছ এবং টাকাপয়সা লুট করে নেয়। তারা দুজন জলদস্যু জাফর বাহিনীর সদস্য। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এ কে এম এমরান ভূঁইয়া আজাদীকে বলেন, তারা সাগরে ডাকাতির জন্য মহেশখালী থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল। চারটি এক নলা বন্দুক দেশীয় স্বাভাবিক অস্ত্রের চেয়ে অনেক লম্বা। এসব অস্ত্রের মাধ্যমে ডাকাতদের ট্রলার থেকে দূরবর্তী মাছ ধরার ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। একনলা বন্দুকগুলো সাগরে দস্যুতা এবং পিস্তলগুলো বাড়িঘরে ডাকাতির কাজে ব্যবহার করা হয়। আটক দুজনের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান ওসি মো. সালাহউদ্দিন। ওসি মো. সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, জব্দ সাতটি দেশিয় অস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্য ছিল মাছধরার নৌযানের জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে বুধবার ভোরে বাঁশখালীর সরল এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় একটি সিএনজি অটোরিকশাকে থামার জন্য সংকেত দিলে দু’জন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাদের ধাওয়া দিয়ে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ওই সিএনজি অটোরিকশার সিটের পেছনে সাতটি দেশীয় অস্ত্র পাওয়া যায়। তিনি জানান, গ্রেফতার দু’জন স্বীকার করেছে ফিশিং বোটে মাছধরার জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করার লক্ষ্যে অস্ত্রগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে।

x