জেবারুত সাফিনা (পঠন ও কথন, তবেইতো জাগরণ)

বুধবার , ১০ এপ্রিল, ২০১৯ at ৭:০৮ পূর্বাহ্ণ
18

: জাতীয় কবির “খোকার সাধ”কবিতাটির কথাই বলছিলাম। কবিতাটির প্রতিটি চরণই শিক্ষণীয় বা অনুসরণ করার মতো। আমি শেষ চরণটির কথাই উল্লেখ করবো। সেটি হচ্ছে : ‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে/ তোমার ছেলে উঠলে মাগো রাত পোহাবে তবে।’ এই যে জাগরণের কথা বলেছেন কবি, এটি হচ্ছে,”জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে যে জাগরণ তাই।” নূতন প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে তখনকার সময়গুলোতে কবি বলেছিলেন। আমরা সেই সময়ের পর বহুদূর পথ হেঁটেছি তবু কবির রচনা বিখ্যাত কবিতাটিকেই আমার আজকের যুগেও কতো প্রাসঙ্গিক মনে হয়। আমাদের নূতন প্রজন্ম যদি মাদকের নেশায় ডুবে ও প্রযুক্তি অপব্যবহারে নিজেকে প্রতিনিয়ত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় তা’হলে তারা আমাদের পথের দিশারি হবে কি করে? আমরা যারা প্রবীণ মনুষ্য তারা প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে একটু একটু করে অস্তগামী সূর্যের মতোই অস্তাচলের দিকে ধাবিত হব,কিন্তু নবীনদের আমরা উদীয়মান সূর্যের মতোই মধ্য গগনে জ্বলজ্বল করতে করতে তারা শানেমানে তেজস্বী হয়ে আমাদের মতো নিস্প্রভদের তাদের আলোকচ্ছটায় আবারও রাঙ্গিয়ে দেবে এটাইতো চাই।এজন্য তাদের কঠোর অনুশীলন ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে আগে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হবে। তোমরা তরুণেরা ইটকে বালিশ হিসেবে দিয়ে শুলেও ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যেতে পারো যদি স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে অভ্যস্ত হও কিন্ত আমরা প্রবীণেরা যখন দেখি তোমরা সঠিক পথটি ছেড়ে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছ অর্থাৎ অল্প পরিশ্রমকে পুঁজি করে রাতারাতি সবকিছু পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছ তখন আমরা শিমুলতুলার তোষক ও বালিশে শুয়ে এপাশ ওপাশ করেও নিদ্রাকে আঁখির কোলে ঘেঁষাতে পারি না। তাই আমাদের ছেলেরা জাগলে তবেই আমাদের রাত পোহাবে,সকাল হবে এবং তা হবে রাঙা সকাল।

x