জেনারেল হাসপাতালে সেবাগ্রহীতাদের মুখোমুখি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

সনাক-টিআইবি’র উদ্যোগ

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ
100

স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং হাসপাতালে সেবার মানোন্নয়নে সনাকটিআইবি চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে ‘সেবাপ্রদানকারী ও সেবাগ্রহীতাদের মুখোমুখি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ’ শীর্ষক জবাবাদিহিতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রামে গতকাল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি সম্ভাব্য সবধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নের পক্ষে অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপপরিচালক) ডা. অসীম কুমার নাথের সভাপতিত্বে এবং টিআইবি চট্টগ্রাম মহানগরের এরিয়া ম্যানেজার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেন টিআইবি’র ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার জাফর সাদেক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সনাক চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা এ এইচ এম জিলানী চৌধুরী ও স্বচ্ছতার জন্য নাগরিক (স্বজন) চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়ক এসএম ফরহাদ উল্লাহ।

অনুষ্ঠানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি) ডা. আশফাক আহমদ, সিনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি ডা. বিজন কুমার নাথ, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো: মইন উদ্দিন, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা.নুরুল আজিম, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. অনিকা চাকমা ও জুনিয়র কনসালটেন্ট প্রনব চৌধুরী ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার দানেশ চন্দ্র শীল। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পরিসংখ্যানবিদ শওকত আলআমিন, সেবা তত্ত্বাবধায়ক তন্দ্রা চৌধুরী, সি. স্টাফ নার্স সেবু রাণী বৈষ্ণব প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সেবাগ্রহীতাগণ হাসপাতালে সেবা নিতে এসে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন সেসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সরাসরি প্রশ্ন করার মাধ্যমে সমাধান কামনা করেন। রোগীদের উত্থাপিত সমস্যাসমূহ ছিল, হাসপাতালে সার্বক্ষণিক পানির সরবরাহ না থাকা ও খাওয়ার পানির সংকট, বাথরুম ও টয়লেট অপরিচ্ছন্নতা, বিকাল ও রাত্রে ডিউটি ডাক্তার না থাকা, রাত্রে নার্সরা যথাসময়ে সাড়া না দেওয়া ও খারাপ ব্যবহার করা।

সেবাগ্রহীতাদের এসব প্রশ্নের জবাবে কর্তৃপক্ষ বলেন, হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা আমাদের অতিথি, তাদের উন্নত সেবা প্রদান করা আমাদের কর্তব্য মনে করি। হাসপাতালে অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝেও রোগীদের ভালো সেবা দিতে তৎপর রয়েছে। রোগীদের সাথে এখানকার ডাক্তারদের ব্যবহার অত্যন্ত ভালো। কর্তৃপক্ষ আরো বলেন, কাগজে কলমে ২৫০ শয্যার হলেও ১০০ শয্যার লোকবল নিয়ে হাসপাতালে সেবা দিতে নিয়মিত হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই হাসপাতালে প্রায় দু’শতাধিক রোগী নিয়মিত ভর্তি থাকে। ফলে আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেয়া সবসময় সম্ভব হয়ে উঠছে না। এছাড়াও বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ওয়াসা, পিডব্লিউডিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে বারবার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত ও দ্রুত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। কর্তৃপক্ষ আরো বলেন, রোগীদের যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মী না থাকায় এত বড় হাসপাতালের সঠিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা স্বল্প সংখ্যক পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পক্ষে সবসময় সম্ভব হয় না। কর্তৃপক্ষ বলেন, ডাক্তারদের প্রাপ্তি হচ্ছে চিকিৎসা শেষে ঘরে ফেরার সময় রোগীর হাসিমুখ। আমরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসা সব রোগীকে হাসিমুখে বাড়ি পাঠাতে চাই। এজন্য রোগীদেরকেও সচেতন হতে হবে। হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আমাদের নিজেদের বাড়ির মত করে যত্নবান হতে হবে, যত্রতত্র ময়লাআবর্জনা ফেলা যাবে না। সভায় রোগীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেয়ারও দাবি জানানো হয়।

x