জুলিয়াস ফুচিক : বিপ্লবের আরেক নাম

রবিবার , ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ
14

জুলিয়াস ফুচিক – চেকোস্লোভাকিয়ার বামপন্থী স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বিপ্লবী। ১৯৪৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জুলিয়াস ফুচিকের প্রাণদণ্ড হয়। সমাজতন্ত্রের আদর্শে তিনি সমাজ রূপান্তরের কাজে ব্রতী ছিলেন। আর এ কারণেই তাঁকে প্রাণ দিতে হয়। আজ তাঁর ৭৬তম মৃত্যুবার্ষিকী।
ফুচিক ছিলেন একাধারে লেখক, সমালোচক, সাংবাদিক এবং বামপন্থী রাজনীতির মতাদর্শী ও বিপ্লবী। তাঁর জন্ম একটি শ্রমিক পরিবারে। বাবা কাজ করতেন স্টিল কারখানায়। শ্রমিকদের সান্নিধ্যেই ফুচিকের শৈশব ও বেড়ে ওঠা। নিপীড়িতের বেদনা নিজের অস্তিত্ব দিয়েই তিনি অনুভব করতেন। তাই মাত্র বারো বছর বয়সেই তাঁর পরিকল্পনা ছিল ‘দাস’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশের। লেখালেখিতেও তিনি ছিলেন তুখোর। ১৯২১ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি প্রকাশিত একটি পত্রিকায় প্রদায়ক হিসেবে তাঁর লেখালেখির শুরু। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার শেষে তিনি নিজেই একটি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক হন। পরবর্তীকালে কমিউনিস্ট পার্টির নিজস্ব পত্রিকা ‘রুদ প্রাভো’তে যোগ দেন ফুচিক, সেই সাথে বিভিন্ন জার্নালে তাঁর বিপ্লবী লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। ১৯৩৪ সালে চেক পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং আট মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন ফুচিক। ১৯৩৮ সালে চেক সরকার কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে সংগঠনটি আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায়। পরের বছর জার্মানির সশস্ত্র নাৎসি বাহিনি চেকোস্লোভাকিয়া আক্রমণ করে। ফুচিক লুকিয়ে নিষিদ্ধ পার্টির জন্য কাজ করতে থাকেন। এর জন্যে ১৯৪০ সালে হিটলারের বাহিনি গেস্টাপো তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু গোপনে কাজ চালিয়ে যান ফুচিক। ১৯৪১ সালে তিনি পার্টির বন্ধ হয়ে যাওয়া মুখপত্র রুদ প্রাভো আবারো প্রকাশ করার চেষ্টা চালান। ১৯৪২ সালের ২৪ এপ্রিল ছয় কমরেড সহ গেস্টাপো বাহিনির হাতে গ্রেপ্তার হন মহান এই নেতা। ৮ সেপ্টেম্বর নিপীড়িত জনতার সাথী, আজীবন বিপ্লবী ফুচিককে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়।.

x