জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে চাই দক্ষ মানবসম্পদ

বৃহস্পতিবার , ৭ জুন, ২০১৮ at ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ
38

দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। কথাগুলো বলেছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এ টু আই) এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তাদের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বেঞ্জামিন ডিজরেলি বলেছেন, দক্ষতা ছাড়া অর্থনীতির অস্তিত্ব থাকতে পারে না। এ কথা আজ বলা বাহুল্য যে, আমাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাই আমাদের বড় সম্পদ। আমরা জীবনযাত্রাকে উন্নততর করতে অতীতে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে আমাদের বাস্তব জগতে প্রয়োগ করতে পারি। উত্তম শিক্ষার বদৌলতে আমরা জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারি। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থাই উত্তম শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। আবার মানব জাতির উন্নতি ছাড়া ‘মানব উন্নয়ন’ সম্ভব নয়। এ বিষয়টি মানব উন্নয়ন প্রবক্তাদের মধ্যে তাই প্রথম থেকেই বহুল আলোচিত এক বিষয়। প্রকৃত মানুষকে সে পুরুষই হোক বা নারীই হোকতাকে হতে হবে পূর্ণাঙ্গ মানবিক গুণাবলির আধার, যার মধ্যে থাকবে একই সঙ্গে কঠোরতা এবং কোমলতা, সরলতা এবং দুর্বলতা, স্বার্থপরতা এবং পরার্থপরতা, সক্ষমতা এবং অক্ষমতা। ঘরেবাইরে সক্ষমতার বিচিত্র প্রবণতার দ্বান্দ্বিক গতিশীল এক সংশ্লেষণই হচ্ছে প্রকৃত উন্নত মানুষের সঠিক পরিচয়।

জ্ঞানই কল সম্পদের মূল শক্তি। জ্ঞান, বিজ্ঞান, বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও তার ফলিত প্রয়োগের সামগ্রিক প্রসারের বদৌলতে আমাদের পূর্বসুরি প্রতিটি প্রজন্ম নতুন নতুন সম্পদ আবিষ্কার করেছে ও ভিন্ন ভিন্ন পুরনো সম্পদ ব্যবহারের আরো দক্ষ উপায় বের করেছে। তাই এ কথা বলা যায় যে, জ্ঞান হলো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মানব সম্পদ। এই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানুষ নিজেদের জীবনধারণের মানকে উন্নত থেকে উন্নততর করে তুলতে পারে।

মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন বলতে বোঝায় স্বত্বাধিকার থেকে সক্ষমতায় রূপান্তরএর একটি প্রক্রিয়া, সে প্রক্রিয়া স্বাধীনতাঘনিষ্ঠ। যে প্রক্রিয়ায় মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পাঁচ ধরনের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়। সেগুলো হচ্ছে: . অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা, . সামাজিক সুযোগ, . রাজনৈতিক স্বাধীনতা, . স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা এবং ঙ. সুরক্ষামূলক নিরাপত্তা।

আর যে কোনো কাজে দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করে। সুনির্দিষ্ট কাজের জন্য জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য। অভিজ্ঞ ও দক্ষ লোকজনের তত্ত্বাবধানে থেকে কাজ করার প্রক্রিয়াটি বহুকাল আগেই শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করেন, মানুষ যখন পাথর দিয়ে হাতিয়ার বানাতে শুরু করে, কার্যত তখন থেকেই মানুষ প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্যে সম্পৃক্ত হয়।

দেশের প্রতিটি ধাপে অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের প্রয়োজনীয়তা অত্যধিক। উন্নয়নের প্রত্যেকটি ধাপ অর্জন ও টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন সতর্ক ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা। আমাদের উৎপাদন ব্যবস্থায় বুদ্ধিদীপ্ত ও যোগ্য জনশক্তি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। নতুন দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করতে একমাত্র দক্ষ ও অভিজ্ঞ মানব সম্পদ। সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে মানব মূলধন। তাই ব্যক্তি ও জাতীয় স্তরে সমৃদ্ধির প্রধানতম অবলম্বন হচ্ছে শিক্ষা, জ্ঞান ও দক্ষতা। এর জন্য সৃষ্টি করতে হবে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ। উন্নত করতে হবে আমাদের জীবনযাত্রার মান।

x