(জীবনের গল্প)

আয়েশা মুন্নি

বৃহস্পতিবার , ৮ আগস্ট, ২০১৯ at ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ
44

: অনন্তের পথে যে দিন চলে যাবো – সুখ দুঃখের জমানো অভিমানের আলপনায় আঁকা ডায়েরির পাতা জুড়ে শব্দের জাদুতে বাঁধানো অক্ষরগুলো অবহেলায় ঠিক পড়ে থাকবে। একটি রঙিন প্রজাপতির স্বেচ্ছায় ডানা মেলে উড়তে না পারার আত্মাহুতির কাব্যকথায় অস্পষ্ট অক্ষরগুলো কেউ আর স্বপ্নের মলাটে সযত্নে আগলে রাখবে না। একদিন ঠিকই আলোকময় ধরণীর আড়ালে চলে যাব। শুধু মহাকালের গর্ভে হারাবে না নিয়ম মাফিক জাগতিক খেয়াল। অহর্নিশ চলতে থাকবে জানালার ফাঁক গলে রোদের লুকোচুরি কিংবা ছাদের রেলিং ঘেসে লতানো গাছটার বৃষ্টি স্নান। ঐ যে দেয়াল ঘড়িটা, রাতের নিস্তব্ধতায় টুংটাং শব্দে আমাকে জানান দিত, আমার নি:সঙ্গ রাতের সঙ্গী সে, সেও একদিন নিশ্চুপ হবে। আমার শোবার ঘরের দেয়ালটা! যার অস্তিত্বে আছে আমার নির্ঘুম রাত্রির কাব্যের ছড়াছড়ি, নির্বাক সেই দেয়ালও পলকহীন চেয়ে থাকবে। বোবা দেয়ালের অবাক কাব্যে আমিই সেদিন থাকবো না। সবই থাকবে যার যার মতো। আমার বেলকনিতে বেড়ে ওঠা গাছগুলো কী আমাকে খুঁজবে, যত্নের অভাবে? আমার নিঃসঙ্গ রাতের সাথী ঐ দেয়ালটা? জানালার ফাঁক গলে ঢুকে পড়া এক ফালি রোদ্দুর কিংবা দখিণা হাওয়া? আমার গালে চুমে যাওয়া জোছনার ঝলমলে আলোকময় রাত? আলমারির তাকে আমার পরিপাটি বস্ত্রগুলোর ভাঁজে ভাঁজে কর্পূরের গন্ধ হারাবে। ফুলদানিতে সাজানো ফুলগুলো শুকিয়ে ঝরে পড়বে, ক্রমেই ধুলোর আস্তরণে ঝাপসা হবে। সব-সব কিছুই ঝাপসা হতে হতে হারিয়ে যাবে ধূসর জীবনের আড়াল হওয়ার গল্পে। আমার আর দেখা হবে না ফাগুনের আগুন লাগা কৃষ্ণচূড়ার রূপ। দেখা হবে না তুমুল বর্ষায় প্রকৃতির ভেজা শরীর। নেয়া হবে না মাটির সোঁদা গন্ধ। চাঁদের আলোয় হাসনাহেনার মাতাল করা ঘ্রাণ। কত কত রূপালি জোছনায় পৃথিবী আলোয় আলোয় ভাসবে, আমার দেখা হবে না। সত্যমিথ্যার কানামাছি খেলার বর্ণাঢ্য জীবনের গল্পে আমি হয়তো কারও আনমনে চোখের কোণে একফোঁটা জল হবো। কেউ হয়তো অতীত স্মৃতির কল্পনায় স্পর্শ সুখের অনুভবে শিহরিত হবে আমায় ভেবে। হয়তোবা আমি কারও কষ্টের রঙে মাখামাখি প্রহর হবো, কারও দীর্ঘশ্বাসে উঁকি দেব। যেদিন চলে যাবো ঠিকানা বিহীন অযুত নিযুত দূরের গন্তব্যে, সেদিন থেকে আর রাত্রির বুকে আমার পায়ের চিহ্ন থাকবেনা। জীবনের শেষ প্রান্তের এই রাস্তাটা আমার সৃষ্টিকর্তার প্রতিশ্রুতি অনিবার্য সত্য।

x