জিললুর রহমান-এর কবিতা

শুক্রবার , ১৯ এপ্রিল, ২০১৯ at ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
34

ঘর

এঘর ওঘর পাল্টে পাল্টে
যেঘর যাবার প্রস্তুতি নিই
সেঘর আমার কাঙ্‌ক্িষত না
যেঘর আলোর বন্যা বহে
কলরব আর কোলাহলের
সেঘর আমার খুব আদরের
তবু সে ঘর প্রতি সাঁঝে
মগজ জুড়ে যে যন্ত্রণা
দুঃসহ সব আঁকছে ছবি
হিম শীতলের অথর্বতা
সেঘর সবাই একা পথিক
নিয়তি কী কঠোর কঠিন
যাত্রা তবু যখন সময়
এদিক ওদিক নয় তাকাবার

অতিথি

আরশোলাদের বাড়িতে অতিথি, তবে
তাদের রয়েছে সহজ সরল ঘর –
ছোট আরশোলা তোমাকে পরম ভাবে,
তুমি যতো ভাবো আবর্জনার দল।

কতোটা অতিথি কতোটা নিজেই গৃহী,
সব কিছু বুঝি ঘোরগ্রস্তের দিশা,
তোমরা বানাও চারদেয়ালের বাড়ি,
সাজাও যতনে রাতে বাসরের তৃষা।

আমরা যতটা ইচ্ছা পোষণ করি-
কতটুকু আর জীবন চলতে পারে,
বাডিঘর বেঁধে মাটিতে সেঁধিয়ে মরি,
আরশোলাদের বসবাস তবু বাড়ে।

আমরা সকলে আরশোলাদের ঘরে –
ভয়ে মরো যদি আরশোলা উড়ে আসে,
আরশোলা মরে আমাদের বরাভয়ে,
কীটনাশকেরা আমাদেরও মারে শেষে।

সিসিফাস কথা

পাহাড়ে পাথর ঠেলি কিংবা
পাথরে পাহাড়
একুশ শতকে

চোখে স্বপ্ন ডলতে ডলতে
উদয়াস্ত
হাজার হাজার আমরা
অন্তহীন

স্বেদবিন্দু যথা
ঝরে আয়ু
ঝরে মায়া, মরে প্রেম
যূথবদ্ধ
সর্বনাম

আগুন

হাড়িসরদার বাজারের ইটভাটাগুলো সব জ্বলছে
দমকে দমকে লাফিয়ে উঠছে পুড়ে যায় কাদা তাল তাল
আগুন কোথাও হলুদ কখনো কালোধোঁয়াটার রূপ নেয়

ভেতরের যত মামদোর ভূত আত্মার জটা খুলছে
ঘাসিগ্রাম থেকে লালবাগ থেকে জোড় কাননের সুনামে
উল্লাসে মরে ডাইনি কাহিনী ধনাইতরীতে রাত্রে

শুয়াগাজি পুড়ে মাটির নরম হৃদয়ের মোম লালচে
চৌধুরীভিলা সেবাসদনের ভুতগুলো বড় মনোরম
পদুয়াবাজার মাত করে লাল আগুনের শিখা গনগন

রক্তকণার মহাউল্লাসে ধমনীশিরারা টগবগে বাঁকে টলমল
মহাসড়কের আলোআঁধারিতে গলিঘুপচিতে কাতরায়
ধুকে ধুকে মরা ঘাসবিচালির অবশেষ যত যাতনা
মাস্টার পাড়া বিপনি বিতানে ইটভাটা যেন জ্বলছে

কতকাল ধরে জ্বলে জ্বলে সেই মানবের মহাস্রোত
মহাকাল থেকে মহাবিশ্বের লাভা ছোটে দিক বিদিকে
জ্বলছে সূর্য তারকার সারি জ্বলে হোমশিখা ধূম্র
অন্তরজ্বালা জ্বালে ছারখার যত ঘরদোর সংসার

সাজানো বাসর পুড়ে ছাই হয় ফের আগুনেই সৃষ্টি
অনাদিকালের সকল আগুন মহাবিশ্বেতে ছড়িয়ে
নবনির্মাণে অগ্নিশিখারা প্রয়োজনে জেগে উঠছে

x