জিললুর রহমানের কবিতা

শুক্রবার , ৩ আগস্ট, ২০১৮ at ৩:৩১ পূর্বাহ্ণ
18

প্রমিথিউস

এমন ঘুরতে ঘুরতে একদিন

সূর্য হারিয়ে যাবে, চাঁদ

তখন তোমার

উপমা কিভাবে প্রিয়

আমাদের ঘিরে ধরবে

মোটা কম্বলের শীত।

কোথাও কালপুরুষ

কোথাও শুকতারা

আলো জ্বেলে দেবে, তবু

আমাদের আগুন পোহাতে হবে

প্রেতের ছায়ার নাচে,

কী করে জ্বালাই

প্রমিথিউস এখনো বন্দী

অলিম্পাস পর্বতমালায়

বৌবাজার বরবাজার

এ শহরে দুই দুটি বৌবাজারআমরা গিয়েছি

কত তারুণ্যের নতুন উচ্ছ্বাসে

দেখেছি দোকানঘর

ঘুড়ি ও লাটিম দড়িদড়া ঝাঁটাঝাড়ু

দেদার বিকোচ্ছে তবু

কারো বউকোনো বউউৎসুক তরুণী চোখ

কোথাও পসরা সেজে বসে নেই

ইতিউতি দেখেছি আড়ালে

যদিও গোপনে

বোতল পুরিয়া কিছু বেচে

বৌয়ের বাজার বুঝি আরো কিছু গোপনে বিকোয়!

মসজিদে মন্দিরে কাবিনে কী পণে

ক্রমশ বিকায়ে দেয়

মেয়েদের দর

মাসে মাসে বাঁধে মাসে মাসে ভাঙে ঘর।

আমাদের বিকিয়ে দেবার সাধ

জাগে মাঝে সাঁঝে

ইশারা ইঙ্গিতে কত পুরুষ বিকোতে চায় হাঁটে

তোলে দাম

হাঁকে দর তরতর

তবুও শহরে কোনো বরবাজারের

দেখা নেই

সমস্ত শহর বুঝি

একাকার বরবাজার তবে!

যতোটা বায়ু বহে

আকাশে মেঘে মেঘে বিজুলি চমকায়

আলোর মিছিলেরা পালাতে পথ চায়

পাহাড়ে আলো নাচে পাহাড়ে আন্ধার

মানুষও আলোকিত কেউতো কদাকার।

জোনাকে আলো জ্বলে জোনাক ঝিঁঝিঁ ডাকে

অনেকে অবসাদে কেউতো পথে হাঁটে

এখানে আশকারা এখানে মশকরা

কুপিত আচরণে কেউবা দিশেহারা

যখন মনসার ভীষণ ফণা ওঠে

চাঁদ স’দাগরের ব্যবসা ওঠে লাটে

যখন বন্যায় ভেসেছে চরাচর

আপামজনতার ভেসেছে গরুঘর

সময় যত কাটে কাটছে আয়ুরেখা

ভাগ্যে কী লিখন সময়ে যাবে দেখা

তবু তো বুকবাঁধা তবুও ভালবাসা

যতোটা বায়ু বহে ততোই বাড়ে আশা।

সংশয়

মেঘেদের ঘরে কেন এত জল

অশ্রুপ্রবণ ইন্দ্রধ্বনিতে চরাচরময়

পিলে চমকায় কেন

সূর্য যখন অস্তের দিকে

প্রখর আলোক ম্রিয়মান ফিকে

আকাশ তখন রক্তচক্ষু কোন্‌ রোষানলে ক্ষিপ্ত

মানুষ যখন চাঁদে মঙ্গলে

বিশ্ব মাতায় নানা গোলেমালে

জঙ্গলে পথে কেউ বাস করে দিনভর খায় অর্থনীতির ঘাস

কে যে বেশি বুঝে বুঝছে না সে কে

বড় বেশি বেশি সংশয়ে ভরা

সংসারে পরিজনে

x