জিপিএ-৫ এ এগিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ৭ মে, ২০১৯ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ
524

২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫টি মানদন্ডের ভিত্তিতে সেরা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের নিয়ম থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের কারণে এখন সেই নিয়ম বা সুযোগ কোনটাই আর নেই। তাই বিগত বেশ কয়বছরের ধারাবাহিকতায় এবছরও কোন প্রতিষ্ঠানকেই সেরা প্রতিষ্ঠান বলা যাবে না। অবশ্য সেরা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন না করলেও ৫টি মানদন্ডের মধ্যে কেবল একটি মানদন্ডের (জিপিএ-৫) ভিত্তিতে এগিয়ে থাকা বেশ কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে শিক্ষাবোর্ড। তবে এই তালিকাকে কোন ভাবেই সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকা বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বক্তব্য, ‘প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যার মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর শতকরা হার, মোট পরীক্ষার্থীর শতকরা পাসের হার, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা, জিপিএ’র গড় এবং প্রতিষ্ঠানের মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, অতীতে এই পাঁচ মানদন্ডের ভিত্তিতে সেরা প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হতো। কিন্তু এখন আমরা কেবল একটি মানদন্ড (জিপিএ-৫) বিচারে কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করি মাত্র। তাও তুলনার সুবিধার্থে। এটিকে কোনভাবেই সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকা বলা যাবেনা। কারণ, একটি মানদন্ড দিয়ে কোনভাবেই সেরা প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা যাবে না।’ এছাড়া তালিকায় জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বিচারেই প্রতিষ্ঠানগুলো স্থান করে নিয়েছে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও স্বাভাবিক ভাবে বেশি হবে। তাই এই একটি মাত্র মানদন্ডের বিচারে কোন প্রতিষ্ঠানকেই শীর্ষ বা সেরা প্রতিষ্ঠান বলা যাবে না। এদিকে, জিপিএ-৫ এর ভিত্তিতে বোর্ডের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী কলজিয়েট স্কুল। অবশ্য, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গত তিন বছরও ধারাবাহিক ভাবে এগিয়ে ছিল। এবার প্রতিষ্ঠানটির ৪৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪৫৬ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১১ জন। গতবার ৪২৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশসহ জিপিএ-৫ অর্জন করে ৩৯৭ শিক্ষার্থী। এই সাফল্যের পিছনে স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাশ। এই সাফল্যে শিক্ষক-অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে পড়া লেখা করে বলেই স্কুলের এ অর্জন। তবে, এই অর্জনে শিক্ষক ও অভিভাকদের ভূমিকাও রয়েছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তালিকায় কলজিয়েট স্কুলের পরই রয়েছে সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়। গত দুবছরও একই অবস্থানে ছিল স্কুলটি। স্কুলটির এবার ৩৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাসসহ ৩১২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গতবার ৪০৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশসহ জিপিএ-৫ পায় ৩২৬ জন শিক্ষার্থী।
তালিকায় এরপর রয়েছে নাসিরাবাদ সরকারি (বালক) উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুলটির এবার ৪৬১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪৫৯ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৪ জন। গতবার ৩৮৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ৩৮৬ জন। আর জিপিএ-৫ পায় ২৬৫ জন। এরপরই অবস্থান ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের। স্কুলটির এবার ৩২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩২৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭১ জন। গতবার প্রতিষ্ঠানটির ৩২৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশসহ ২৭৩ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে।
তালিকায় এরপর রয়েছে বাওয়া স্কুল (বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ)। প্রতিষ্ঠানটির এবার মোট ৪৬৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬৫ জন পাস করেছে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬৪ জন। গতবার প্রতিষ্ঠানটির ৪৫৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করে ৪৫৪ জন। আর জিপিএ-৫ পায় ২৭৯ জন। ফলাফলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদুল আলম হোসাইনী। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ফলাফল ভালো হয়েছে। আমরা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখতে চেষ্টা থাকবে বলেও জানান এই প্রধান শিক্ষক। আর ফলাফল নিয়ে মোটামুটি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিদা আক্তার। তিনি বলেন, ফলাফলে আমরা খুশি। ফল ভাল করার পেছনে পাঠদানে শিক্ষকদের আন্তরিকতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম রয়েছে। মোট কথা এ ফল শিক্ষক-অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। ভবিষ্যতে আরো এগিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন এই প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে, নিজ প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে খুব বেশি অসন্তুষ্ট নন বাওয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, কখনো এগিয়ে আসছি। আবার কখনো এক ধাপ পিছিয়ে পড়ছি। ধারাবাহিকভাবে এবারও ভালো করার আশা করেছিলাম। তবে ধাপে ধাপে যেহেতু উন্নতি হয়েছে ভবিষ্যতে আরো ভালো ফল পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তালিকায় এরপরই অবস্থান করে নিয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এবার প্রতিষ্ঠানটির ৩৩৬জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩৫ জন পাস করেছে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১৮ জন।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা বিচারে তালিকায় স্থান করে নেওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে, যথাক্রমে- নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ, চিটাগাং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কঙবাজার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ, অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কঙবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিলভার বেলস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট প্লাসিড হাই স্কুল, হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এবং চুয়েট স্কুল এন্ড কলেজ।

x