জিপিএ-৫ এ এগিয়ে যেসব কলেজ

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৮ জুলাই, ২০১৯ at ৩:৩৫ পূর্বাহ্ণ
796

বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় ফলাফলে এবারও তৈরি হয়নি সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (সেরা-২০ ও সেরা-১০) তালিকা। ফলাফলের দিক দিয়ে শীর্ষ তালিকায় ঠাঁই পেতে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করছে, এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যা ২০১৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল থেকেই কার্যকর করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সাল থেকে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে (জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি) বোর্ডভিত্তিক সেরা ২০ ও জেলাভিত্তিক সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে আসছিল শিক্ষা বোর্ড। নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর শতকরা হার, শতকরা পাসের হার, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও প্রতিষ্ঠানের গড় জিপিএ মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ তালিকা করা হতো। এ সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় ২০১৫ সাল থেকে কেবল জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক দিয়ে এগিয়ে থাকা কিছু সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে আসছে শিক্ষাবোর্ড। কেবল জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা বিবেচনায় তালিকাটি তৈরি করা হয় বিধায় তালিকায় ঠাঁই পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো ভাবেই সেরা বা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে জানান শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান।
গতকাল প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক দিয়ে চট্টগ্রামের উল্লেখযোগ্য ১০টি কলেজের ফলাফল-
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ : চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে এবার অংশ নেয়া ৮৭৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৮৬৬ জন। পাসের হার ৯৮.৬৩ শতাংশ। উত্তীর্ণদের মাঝে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৫৫ জন। এর আগে ২০১৮ সালে মোট ৮৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ৮৬৭ জন। পাসের হার ছিল ৯৭.৫৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৯৯ জন। ২০১৭ সালে কলেজটির ৮৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ৭৯৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩৯১ জন। পাসের হার ছিল ৯৪.৮৯ শতাংশ।
মহসিন কলেজ : সরকারি হাজি মোহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে এবার অংশ নেয় ১ হাজার ৭৬৯ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৬৯৮ জন। হিসেবে কলেজটির এবার পাসের হার ৯৫.৯৯ শতাংশ। আর উত্তীর্ণদের মাঝে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৩৪ জন। এর আগে ২০১৮ সালে ১ হাজার ৬৯১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ১ হাজার ৫৮২ জন। পাসের হার ছিল ৯৩.৫৫ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩২৯ জন। ২০১৭ সালে কলেজটির ১ হাজার ৫৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ১ হাজার ৪৫৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯৮ জন। পাসের হার ছিল ৯৪.৮০ শতাংশ।
সরকারি সিটি কলেজ : চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ থেকে এবার অংশ নেয় ২ হাজার ১৫৪ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৯১৮ জন। পাসের হার ৮৯.০৪ শতাংশ। উত্তীর্ণদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২১ জন। গতবার কলেজটি থেকে অংশ নেয়া ২ হাজার ৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ১ হাজার ৭৯৩ জন। পাসের হার ছিল ৮৭.০৮ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭৯ শিক্ষার্থী। এর আগের বছর (২০১৭ সালে) ১ হাজার ৯৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ১ হাজার ৭১৪ জন। পাসের হার ছিল ৮৭.৮৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১০১ শিক্ষার্থী।
চিটাগাং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ : কলেজটি থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৯৫৩ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৯৪৬ জন। পাসের হার ৯৯.২৭ শতাংশ। উত্তীর্ণদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫০ জন। গতবার এই কলেজ থেকে ৯১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ৮৮০ জন। পাসের হার ছিল ৯৬.৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭৮ জন। এর আগের বছর (২০১৭ সালে) ৭২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ৭১৩ জন। পাসের হার ছিল ৯৮.৪৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১২১ জন।
চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ : কলেজটি থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ২৮০ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ২৪৩ জন। পাসের হার ৯৭.১১ শতাংশ। উত্তীর্ণদের মধ্যে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৩ জন। গতবার (২০১৮ সালে) কলেজটির ১ হাজার ১৭৮ পরীক্ষার্র্থীর মধ্যে পাস করেছিল ১ হাজার ১২৭ জন। পাসের হার ছিল ৯৫.৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭৭ জন। এর আগেরবার (২০১৭ সালে) ৯৫৩ পরীক্ষার্র্থীর মধ্যে পাস করেছিল ৮৯৯ জন। পাসের হার ছিল ৯৪.৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩৮ জন।
সরকারি কমার্স কলেজ : চট্টগ্রাম সরকারি কর্মাস কলেজ থেকে এবার ৮৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে পাস করেছে ৮৫০ জন। পাসের হার ৯৮.৪৯ শতাংশ। উত্তীর্ণদের মধ্যে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৭ জন। গতবার (২০১৮ সালে) কলেজটির ৭৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ৭৭৬ জন। পাসের হার ছিল ৯৮.৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫৫ জন। এর আগেরবার (২০১৭ সালে) ৭৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ৭৫৮ জন। পাসের হার ছিল ৯৯.২১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮৯ জন।
ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ : কলেজটি থেকে এবার এইচএসসিতে অংশ নেয় ৪৬৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৪৫৯ জন। পাসের হার ৯৮.৭১ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৩ জন। গতবার কলেজটির ৩৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ৩৬৭ জন। পাসের হার ছিল ৯৮.৬৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩৪ জন। এর আগেরবার (২০১৭ সালে) প্রতিষ্ঠানটির ২০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ২০৬ জন। পাসের হার ছিল ৯৯.০৪ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৪ জন।
ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ : কলেজটির এবার ১৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৭৬ জন। পাসের হার ৯৯.৪৪ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৪ জন।
গতবার প্রতিষ্ঠানটির ১২৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস করেছিল। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫৭ জন। এর আগেরবার (২০১৭ সালে) কলেজটির ১০৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০২ জন পাস করেছিল। পাসের হার ছিল ৯৯.০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৬ জন।
পটিয়া সরকারি কলেজ : সরকারি এই কলেজ থেকে এবার এইচএসসিতে অংশ নেয় ১ হাজার ২৮৪ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৯২ জন। পাসের হার ৮৫.০৫ শতাংশ। আর উত্তীর্ণদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬১ জন। গতবার (২০১৮ সালে) কলেজটির ১ হাজার ২৩৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ১ হাজার ২৬ জন। পাসের হার ছিল ৮৩.২১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ জন। এর আগেরবার (২০১৭ সালে) ৯৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ৭১৩ জন। পাসের হার ছিল ৭৬.৪২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০ জন।
হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজ : কলেজটির ১ হাজার ৮৮০ জন পরীক্ষার্থী এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৭২৬ জন। পাসের হার ৯১.৮১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৫ জন। গতবার (২০১৮ সালে) কলেজটির ১ হাজার ৬৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ১ হাজার ৪৬৩ জন। পাসের হার ছিল ৮৬.৩১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১২ জন। এর আগের বছর (২০১৭ সালে) কলেজটির ১ হাজার ৪৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ১ হাজার ৩২৭ জন। পাসের হার ছিল ৯০.৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৮ জন।
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যায় এই দশ প্রতিষ্ঠানের পর রয়েছে যথাক্রমে বাকলিয়া সরকারি কলেজ (৫২ জন), কঙবাজার সরকারি কলেজ (৫১ জন), ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ (৪৮ জন), নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ (৪৭ জন) এবং চুয়েট স্কুল এন্ড কলেজ (৩৮ জন)।

x