জামিন আদেশ জালিয়াতি আদালতে তোলপাড়

৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার মামলা

সবুর শুভ

বুধবার , ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ
190

৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার মামলায় একমাত্র আসামির হাইকোর্টের ‘জামিন আদেশ জালিয়াতি’ নিয়ে আদালত পাড়ায় তোলপাড় চলছে। ডবলমুরিং থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলার আসামি হচ্ছেন মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম প্রকাশ রুবেল। রুবেলের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১)-এর ৯ (খ) ধারায় মামলা হয়। আসামি রাশেদের জামিনের জন্য হাইকোর্টের জামিন আদেশ জালিয়াতির ‘বিষয়ে’ পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। আদেশের সেই কপি সহকারী পুুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদের কাছে রয়েছে বর্তমানে।
আদালত থেকে জানা গেছে, নগরীর আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোড এলাকার একটি বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলা থেকে পাঁচ হাজার পিচ ইয়াবাসহ আসামি রাশেদুল ইসলাম রুবেলকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় গত বছরের ২৮ মে রুবেলকে আসামি করে ডবলমুরিং থানায় মাদক আইনে মামলা ( নম্বর-৪৭) করা হয়। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই রুপন কুমার দে এ মামলার বাদী। মামলাটি তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান অভিযুক্ত রুবেলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর মামলাটি বিচারের জন্য গত বছরের ৩০ আগষ্ট মহানগর হাকিম আদালত থেকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। গত বছরের ১১ নভেম্বর থেকে মামলাটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারি কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, হাইকোর্টের একজন সহকারী রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর স্ক্যান করে ভুয়া জামিন আদেশের কপিতে বসিয়ে দেয়া হয়। তা সিএমএম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেয়া হয় রাশেদের জামিনের জন্য। জামিন আদেশ জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ হয়েছে আদালতের তরফে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গত নয় মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন একমাত্র আসামি রুবেল। কারাগার থেকে মুক্তি পেতে হয়ত জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়। এতে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ থেকে ফৌজদারী বিবিধ ৬২৮৩৩/২০১৮ নম্বর মামলায় আসামি রুবেলকে ছয় মাসের অন্তবর্তী জামিন মঞ্জুর করার আদেশ (মেমো নং- ৯৬২১২) দেখানো হয়। সেই আদেশ ১৮ ডিসেম্বর জিইপি ডাগযোগে চট্টগ্রাম সিএমএম কার্যালয়ে ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি পৌঁছানোও দেখানো হয়। এরপর বিষয়টি যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে দেখা যায় জামিন আদেশটি জাল। এতে হাইকোর্টের সহকারী রেজিষ্ট্রার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সাক্ষর স্ক্যান করে ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে তা ভুয়া আদেশে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের নাজির মোহাম্মদ আবুল কালম আজাদ। তিনি আরো বলেন, জামিন আদেশ কপির সামনে পেছনের সিলগুলোও জাল। জামিন আদেশের কপিতে দেখা গেছে, ভুয়া জামিন আদেশে যে ক্রিমিনাল মিছ কেইস নম্বর (৬২৮৩৩/২০১৮) রয়েছে তা জয়পুরহাট সিজেএম আদালতের একটি মামলার। সেই মামলার আসামির নাম মোহাম্মদ দুলাল। আর হাইকোর্টের ওয়েব সাইটের রেফারেন্সটি (১৮০৩৮২১৯৬) ঢাকা সিএমএম আদালতের একটি সিআর মামলার (৭৬৩/২০১৮)। জাল এ জামিন আদেশে বিষয়টি তুলে ধরে সিএমএম আদালতের নাজির আবুল কালাম আজাদ গত ২৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিএমএম মোহাল্ফ্মদ ওসমান গনির আদালতকে অবহিত করেন। এরপরই গত ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিএমএম আদালত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আদালত পুলিশের সহকারি কমিশনারকে (প্রসিকিউশন) আদেশ দেন।
সিএমএম আদালতের নাজির মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ আরো বলেন, হাইকোর্ট থেকে জামিন আদেশের এ কপিটি (ভুয়া) আসার পর তা হাইকোর্টের ওয়েব সাইটে থাকা জামিন আদেশের সঙ্গে মিল রয়েছে কিনা তা যাচাই-বাছাই শুরু করি, প্রত্যেক জামিন আদেশের বেলায় যেটা করা হয়। আসামি রাশেদুল ইসলাম রুবেলের জামিন আদেশটি আসার পর তা মিলাতে গিয়ে দেখা যায় এটি ভুয়া ও জাল জামিন আদেশ। তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ জাল। আদেশের কপি আসার খাম জাল, সিল ও স্বাক্ষর জাল। সবকিছুই জাল।
আদালত থেকে পাওয়া কাগজপত্র অনুযায়ী, রুবেল কঙবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার জাকির হোসেন বাড়ির মৃত জাকিরের ছেলে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসামিতো ৯ মাস ধরে কারাগারে। এ ধরনের জালিয়াতি তার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাই বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

x