জাপানি সাহিত্য মেট্রো বুনগাকু

প্রবীর বিকাশ সরকার, জাপান থেকে

মঙ্গলবার , ১২ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৫২ অপরাহ্ণ
56

কয়েক বছর আগের ঘটনা। একদিন সকালবেলা চিওদা লাইনের মেট্রো ট্রেন চড়েছি। হঠাৎ নজরে পড়ল একটি রঙিন পোস্টারের দিকে। জাপানের ট্রেনগুলো যেমন নান্দনিক তেমনি এর অভ্যন্তরভাগ আরও নান্দনিক, শৈল্পিক। এই কারণে ট্রেনের দুই দেয়ালে এবং মাঝখানে ঝোলানো থাকে বিজ্ঞাপন। কত রকমের পণ্যসামগ্রী, প্রতিষ্ঠানের বাহারি বিজ্ঞাপন দেখে ও পড়ে চোখ-মন জুড়িয়ে যায়। সময়ও বেশ কেটে যায়।

সেদিনও বিভিন্ন পোস্টার-বিজ্ঞাপন দেখছিলাম তখন নজর আটকে গেল একটি ঝুলন্ত পোস্টারে। পোস্টারটি বিজ্ঞাপন নয়, একটি কবিতা! নিচের দিকে বিজ্ঞপ্তি: মেতোরো বুনগাকু মানে মেট্রো সাহিত্য। কী অদ্ভুত ব্যাপার! মেট্রোট্রেনবিষয়ক সাহিত্যও আছে জাপানে! এই প্রথম জানলাম। ছবি তুলে নিলাম।

বাসায় ফিরে এর উৎস খুঁজতে খুঁজতে পেলাম নানা তথ্য এবং বেশ চমকপ্রদ। একটি ছোটখাটো প্রবন্ধই লিখে ফেললাম। পাঠিয়ে দিলাম অনুজপ্রতিম বন্ধু মাইনুল শাহিদকে। সে ইত্তেফাকে কাজ করে। পড়ে সেও অভিভূত হয়ে গেল। ছাপিয়ে দিল সাহিত্য সাময়িকীর পাতায়।

মাঝে মাঝে ভাবি, এত ব্যস্ত একটি দেশ, যেদেশে কাজ ছাড়া অন্যকিছু চিন্তা করার সময় ও সুযোগ নেই সেইদেশের মানুষ তবুও পড়ে। জাপানিরা পড়ুয়াজাতি। এই দেশের সাহিত্যও যেমন বিশাল তেমনি সাহিত্যচর্চাকারীও অগণন।

কবির সংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি! গ্রন্থাগারে বা বইয়ের দোকানে গেলে বোঝা যায়। কবিতাপ্রেমী জাতি থাকলে আমার বিশ্বাস জাপানিরাই। তার প্রমাণ আবালবৃদ্ধবণিতা সবাই হাইকু লিখতে জানেন, লেখেনও।

বসন্তে আর হেমন্তে হাইকু কবির দল কবিতা লেখার জন্য উদ্যানে, বনে, পাহাড়ে ভ্রমণ করেন। কবিতাবিষয়ক ম্যাগাজিন কয়েক দশক ধরে প্রকাশিত হচ্ছে।

এমনকি দৈনিক সংবাদপত্রের একেবারে উপরে প্রতিদিন কবিতা ছাপা হয়, পাঠকের কাছ থেকে প্রাপ্ত কবিতা। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিদিন ধারাবাহিক স্মৃতিকথা, ঐতিহাসিক উপন্যাস ছাপা হয়। এমনটি আর কোন দেশে আছে!

জাপানি সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কি গভীরভাবেই না আন্দোলিত করেছিল, ক’জনই বা আমরা সেসব জানি!

x