জাতীয় লিগে ফেরাটাকে স্মরণীয় করে রাখতে চান তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বুধবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
25

২০০৫-০৬ মৌসুমের কথা। দেশের প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট জাতীয় ক্রিকেট লিগে ব্যাট হাতে নামছেন এক কিশোর। কিন্তু কিশোর হলে কি হবে ব্যাট হাতে কচু কাটা করছেন দেশের বাঘা বাঘা সব বোলারদের। সেই কিশোরটির নাম তামিম ইকবাল। আজ যিনি দেশের সেরা ব্যাটসম্যান। এই জাতীয় ক্রিকেট লিগ দিয়েই প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে অভিষেক তামিম ইকবালের। মাত্র ১৬ বছর বয়সে অভিষেকেই নিজের জাত চিনিয়েছেন এই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান। অভিষেক আসরে ৪ ম্যাচে ৭৮.১৬ গড়ে করেছিলেন ৪৬৯ রান । প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে অভিষেক সেঞ্চুরিও এই এনসিএল থেকেই। ২০০৫-৬ মওশুমে এনসিএলে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১১৩ রানের এক ইনিংস। একই মৌসুমে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে ১১৮ রানের আরেকটি ইনিংস খেলে তামিম এসেছিলেন নির্বাচকদের নজরে।
এরপর যখন টেস্ট দলে ঢুকে গেলেন তখন আর খুব বেশি খেলা হয়নি এই জাতীয় লিগে। টেস্টের বাইরে প্রথম শ্রেনীর ম্যাচ খেলার সুযোগটা এখন খুব একটা পান না তামিম। ২০০৮ সালে টেস্ট অভিষেকের পর থেকেই জাতীয় ক্রিকেট লিগে অনিয়মিত তামিম। টেস্টের বাইরে গত ১৪ বছর প্রথম শ্রেনীর ম্যাচ খেলেছেন তামিম মাত্র ৩০টি। শুধু তাই নয় এনসিএলের সর্বশেষ ৪ মৌসুমের একটিতেও ছিলেন না তামিম । ২০১৫ সালে এনসিএলে খেলেছেন নিজের সর্বশেষ ম্যাচ। সেবার ৪ ইনিংসে ৬০ গড়ে করেছিলেন ২৪০ রান । তার ঠিক চার বছর পর আবার জাতীয় লিগে ফিরছেন তামিম ইকবাল। চার বছর আগে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে ৩০২ মিনিট উইকেটে থেকে ৩০৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। যা ছিল জাতীয় লিগে তার সর্বশেষ সেঞ্চুরি। ওই সেঞ্চুরির ৪র্থ বর্ষ উদযাপনের দিনে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান ফিরছেন আবার জাতীয় লিগে। এবারের আসরের শুরু থেকেই মাঠে নামছেন তামিম। যদিও দুইটির বেশি রাউন্ড খেলতে পারবেননা। যেহেতু নভেম্বরে রয়েছে ভারত সফর। তাই জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা দুই রাউন্ড খেলবেন জাতীয় লিগে।
আগামীকাল ১০ অক্টোবর ঢাকা মেট্রো দলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে চার বছর পর আবার জাতীয় লিগে ফিরছেন তামিম। ৪ বছর পর জাতীয় লিগে প্রত্যাবর্তনের দিনটির জন্য মুখিয়ে আছেন তামিম। কারন সামনে ভারত সফর। তার উপর বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে পারেননি মোটেও। তার অধিনায়কত্বে শ্রীলংকা সফরে হতাশ করেছেন তামিম নিজে এবং তার দল। তাইতো লম্বা বিরতি দিয়ে আবার মাঠে ফিরতে যাচ্ছেন তামিম। আর সেটা জাতীয় লিগ দিয়ে। আর সে কারণেই কিনা নিজেকে পুরোপুরি ফিরে পেতে অন্যদের চেয়ে একটু বেশি সিরিয়াস তামিম। এরই মধ্যে ব্যাংককে গিয়ে শরীরের ওজন কমিয়েছেন বেশ । যার প্রমাণ পাওয়া গেছে ক্রিকেটারদের ফিটনেস টেস্ট বিপ টেস্টে। যেখানে পাশ মার্ক ১১ হলেও তামিম স্কোর করেছেন ১২।
জাতীয় লিগে তামিমের রয়েছে দারুন সব সুখস্মৃতি। ২০১২-১৩ মৌসুমে ২ ম্যাচে করেছিলেন ৪৮৮ রান। যার গড় ছিল ২৪৪। ৪ ইনিংসের ৩টিতেই করেছিলেন সেঞ্চুরি। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি উদযাপন করতে পারতেন সেই আসরেই। দুইবার সুযোগ পেয়েছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি করার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি সে আসরে ডাবল সেঞ্চুরি করতে। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে ১৯২ রান করে ফিরেছিলেন তামিম। এরপর বিকেএসপিতে সিলেটের বিপক্ষে করেছিলেন ১৮৮ রান। আর সে আসরে তামিম করেছিলেন পাঁচশর বেশি রান। এবার আবার জাতীয় লিগে ফেরাটাকে স্মরনীয় করে রাখতে চান তামিম। বিশেষ করে সামনের ভারত সফরের জন্য এই জাতীয় লিগে খেলার সুযোগটাকে খুব বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তামিম। তাইতো এই আসরটিতে যে দুই রাউন্ড খেলতে পারবেন সেটাকে কাজে লাগাতে চান দেশের সেরা এই ওপেনার। তামিম খেলবেন নিজ দল চট্টগ্রামের হয়ে। যে দলে তার অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন টেস্টে বাংলাদেশের অপরিহার্য সদস্য মোমিনুল হক। এছাড়া জাতী দলের স্পিনার নাঈম হাসান এবং জাতীয় দলের আরেক সদস্য ইয়াসির আলি রাব্বি রয়েছেন তামিমের সাথে। এছাড়াও বেশ কিছু তরুন সদস্য রয়েছে চট্টগ্রাম দলে। আর সে দলটির কোচ সাবেক জাতীয় তারকা আফতাব আহমেদ চৌধুরী। তামিম যেমন চার বছর পর জাতীয় লিগে ফেরাটাকে স্মরনীয় করে রাখতে চান তেমনি আফতাবও চান নিজের প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে কোচিং ক্যারিয়াররের অভিষেকটাকে স্মরনীয় করে রাখতে। আর সে ক্ষেত্রে আফতাবের সেরা অস্ত্র নিঃসন্দেহে তামিম ইকবাল।

x