জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ভালো কাজের অনুপ্রেরণা-ইমন সাহা

সাক্ষাতকার: আবছার অলি

বৃহস্পতিবার , ২ আগস্ট, ২০১৮ at ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ
35

চট্টগ্রামের শিল্পীরাই বাংলাদেশের সম্পদ। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের মধ্যে ষাট থেকে সত্তর ভাগ শিল্পীই চট্টগ্রামের। চট্টগ্রামের শিল্পীরাই আজ দেশের লিডিং পয়েন্টে আছে। চট্টগ্রামের কালচার অত্যন্ত রীচ। এখানে ঘরে ঘরে গানের চর্চা হয়, যা কিনা অত্যন্ত আনন্দের। এখানে নাচ, গান, নাটক, যাত্রা, আবৃত্তি ইত্যাদির ভালো চর্চা হয়। শেফালী ঘোষ, শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণব, সত্য

সাহা, প্রবাল চৌধুরী, আবদুল মান্নান রানা, তপন চৌধুরী, কুমার বিশ্বজিৎ, আইয়ুব বাচ্চু, রবি চৌধুরী, নকিব খান, নাসিম আলী খান, পার্থ বড়ুয়া, আতিক হাসান, চিত্র নায়িকা শাবানা, কবরী, অঞ্জু ঘোষ, পূর্ণিমা, পংকজ বৈদ্য সুজন, সুব্রত সহ আরো অনেকেই চট্টগ্রামের গৌরব ও অহংকার। এছাড়াও চট্টগ্রামের আরো কিছু ভালো শিল্পী বর্তমানে জনপ্রিয়তার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। চট্টগ্রামের অনেক অনেক ভালো ভালো শিল্পী আছে। তাদের মধ্যে হৈমন্তি রক্ষিত মান, আফরোজা বেলী বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। যখন সেরা কন্ঠ, ক্লোজআপ, পাওয়ার ভয়েজে বিচারক হিসেবে সারাদেশে অবস্থান করি তখন দেখি যে, চট্টগ্রামের শিল্পীরাই এগিয়ে। চট্টগ্রামের শুভ ছেলেটি ভালো গান করছে। এছাড়াও হৈমন্তি রক্ষিত মান ও আফরোজা বেলীকে আমি প্রথম চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকে সুযোগ করে দিই। তারা ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখলে এগিয়ে যাবে।

ইমন সাহা, যিনি আজ হাজার বছরের শুদ্ধধারার বাংলা গানকে আন্তর্জাতিকতা দিতে সূদুর আমেরিকার ফ্লোরিডার ফোরসেল মিউজিক ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন করছেন। মিউজিকের মাধ্যমে বিশ্বজয়ের নেশা তাঁকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। সুরের সাধনায় নিরন্তর ডুবে থাকা একজন সুরকার ও সংগীত পরিচালক ইমন সাহা তার সেরাটুকু দিয়ে যুৎসই সন্ধিস্থাপন করতে চান সঙ্গীতের সোমফাক, তাললয়, সুরবাণীর নিটোল মৈত্রী মোহনায়। বাংলা গানের মৌলিক পথচলাতে ব্যাহত করে নয়, মাইকেল যেমন করে ইংরেজী সাহিত্য থেকে সনেট এনে চতুর্দ্দশপদী কবিতায় বাংলা সাহিত্যের বাসর সাজিয়েছেন, তেমনি একটা যুগান্তকারী কর্মের পারঙ্গমতা অর্জনে ইমনের পথ চলা দেশ থেকে দেশান্তরে। ইমন সাহা বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। যার সুনাম সুখ্যাতি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে পৌঁছে গেছে। বিশিষ্ট সুরকার ও সংগীত পরিচালক চট্টগ্রামের গর্ব সত্য সাহা’র সুযোগ্য সন্তান হিসাবে সংগীত জগতকে করেছে আলোকিত। ইমন সাহা’র সুরারোপিত পবিত্র ঈদউলফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত জাজ মাল্টিমিডিয়া ‘পোড়া মন২’ ছবিতে ‘ওরে শ্যাম তোমারে নয়নে নয়নে রাখিব’ ও ‘পোড়া মন পোড়া মন’ গান দুটি সুপারডুপার হিট হয়েছে। চট্টগ্রামের গৌরব ও অহংকার ইমন সাহা গত ৮ জুলাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ৬ষ্ঠ বারের মত সুর সংগীত ক্যাটাগরিতে ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ ছবিতে শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহণ করেন। ১২ জুলাই একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম এলে দৈনিক আজাদী’র আনন্দন এর মুখামুখি হয়ে বলেছেন অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথা।

আনন্দন: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তিতে আপনার অনুভূতি জানতে চাই?

ইমন সাহা: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তিতে অনুভূতি অবশ্যই আনন্দের। এই আনন্দের সাথে সাথে চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া অনেক বড় দায়িত্বের এবং কর্তব্যের। এটি বাংলদেশের চলচ্চিত্র শাখার সর্বোচ্চ সম্মান। আমি আনন্দিত ও গর্বিত যে, ছয় বার এ পুরস্কার গ্রহন করেছি। প্রতিবারই মনে করি যে, এটিই আমার শেষ পুরস্কার। পরবর্তী বছরে যখন আবারো সুর সংগীত ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন দেয়া হয়, তখন আরো ভাল কাজ করার জন্য উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পাই। চেষ্টা করবো আগামীতে ভাল কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে। আমার চিন্তা চেতনা সংগীতে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মত কাজ করা।

আনন্দন: এখন কি কাজ নিয়ে ব্যস্ত?

ইমন সাহা: চলচ্চিত্রে আবহ সংগীত এবং গান তৈরি দুটি কাজ নিয়েই সমান ভাবে ব্যস্ত রয়েছি। আমার করা সুর ও সংগীত পরিচালনায় মুক্তির প্রতিক্ষায় আছে এ.কে. সোহেল পরিচালিত, চাটগাঁ ফিল্ম প্রোডাকশন লিঃ প্রযোজিত ‘পবিত্র ভালোবাসা’, শ্বশুর বাড়ি জিন্দাবাদ, ওয়াজেদ আলী সুমন পরিচালিত মনে রেখো, মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত জান্নাত। এছাড়াও বিকল্প ধারার ছবি বদরুল আলম সৌদ ও অনিমেষ আইচ পরিচালিত দুটি ছবিসহ প্রায় ১৪/১৫ টি ছবির কাজ নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছি। কাজ গুলো শেষ করে এই মাসেই আমেরিকাতে চলে যাবো। সেখানেও চুক্তিবদ্ধ ছবিগুলোর কাজ করবো।

আনন্দন: আপনার উল্লেখযোগ্য ছবি কি?

ইমন সাহা: আমার উল্লেখযোগ্য প্রথম ছবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার পরিচালিত পরাধীন, শ্বশুর বাড়ী জিন্দাবাদ, .কে. সোহেল পরিচালিত খায়রুন সুন্দরী, চন্দ্রগ্রহন, কুসুম কুসুম প্রেম, হুমায়ুন আহমেদ পরিচালিত ঘেটুপুত্র কমলা, মেহের আফরোজ শাওন পরিচালিত কৃষ্ণপক্ষ, পিতা, অল্প অল্প প্রেমের গল্প, বৃহন্নলা, মন জলে, দ্যা লিডার, চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত মেঘের পরে মেঘ, চিত্রনায়িকা মৌসুমী পরিচালিত কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, অগ্নি, নিয়তি, মেয়েটি এখন কোথায় যাবে, জাজ মাল্টিমিডিয়া পোড়া মন, পোড়া মন, নায়ক আলমগীর পরিচালিত একটি সিনেমার গল্প, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর ছবি সুভা। আমার প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত ছায়াছবি ‘চন্দ্রগ্রহন’।

আনন্দন: চট্টগ্রামে সিনেপ্লেক্স নির্মাণের দাবিটি আপনি কীভাবে দেখবেন?

ইমন সাহা: ঢাকার মত এগিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম। বন্দর নগরী চট্টগ্রাম আধুনিক একটি শহর। ঢাকার পর পরেই এটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। ফাইভ স্টার হোটেল, পাহাড়নদীসমুদ্রসৈকতবিনোদন কেন্দ্র ও সিনেমা হল সব কিছুই এই শহরে আছে। তবে একটা সিনেপ্লেক্স যাতে চারটি ছবি এক সাথে দেখার মত সুযোগ থাকলে অনেক দর্শক ছবি দেখতে আসবে। চট্টগ্রামের আধুনিক সুযোগ সুবিধা সহ সিনেপ্লেক্স নির্মাণ এটি এখন সময়ের দাবী। সিনেপ্লেক্সে ফুডকোড, গেইম, ডেকেয়ার, বেবী কেয়ার, শপিং কমপ্লেক্স, ডিজিটাল সাউন্ড, সেন্ট্রাল এসি, আরামদায়ক চেয়ার, আইসক্রিম পার্লার সহ নাগরিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত সিনেপ্লেক্স তৈরি করা হলে অবশ্যই হল হাউজফুল থাকবে। এতে বিনিয়োগকারী আর্থিক ভাবে যেমনি লাভবান হবেন, তেমনি সংস্কৃতি চর্চার একটি নতুন দিগন্ত প্রসারিত হবে। অনেকেই এখন পরিবেশের কারণে সিনেমা হলে ছবি দেখতে যায় না। ভাল ছবি হচ্ছে কিন্তু দেখার মত সিনেমা হল না থাকাতে অনেকেই সিনেমা মুখী হয় না। তাই চট্টগ্রামে একটি সিনেপ্লেক্স করা হলে দর্শকরা সিনেমা দেখতে অবশ্যই আসবে। এ ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

আনন্দন: সংগীতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলুন।

ইমন সাহা: সংগীত বলুন আর চলচ্চিত্র বলুন অবস্থা সবসময় পরিবর্তন হয়। পরিবর্তনের ধারা সবসময় বিরাজমান। বর্তমানে অডিও বাজারে এ্যালবাম বের হয়না, এখন সলো বের হয়। অডিও ক্যাসেট সিডি ভিসিডি একেবারেই বন্ধ। এখন চলছে ইউটিউব কেন্দ্রিক মিউজিক ভিডিও অনলাইন পোর্টালে মিউজিক ভিডিও’র উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল যুগে নতুন কিছু আসবে এটাই স্বাভাবিক। এটাকে নেগেটিভ মনে করিনা। আশা করি সামনে আরো নতুন কিছু হবে। সময়ের চাহিদা বদলে যায় অনেক কিছুই। হয়তো সংগীতের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। বর্তমানে সংগীতাঙ্গনে সুর সংকট চলছে। এছাড়াও এখন অস্থিরতা কাজের মানকে নষ্ট করছে। সবকিছুইতেই যেন তাড়াহুড়া। যেনতেন ভাবে করে দিলেই হয় এই মনোভাব পরিহার করতে হবে। মেলোডি প্রধান গান যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে সময়ের চাহিদাকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং দর্শক কি চায় সেটি বুঝতে হবে।

আনন্দন: বাংলাদেশে এখন কারা ভাল গান করছে বলে মনে করেন?

ইমন সাহা: বাংলাদেশে এখন অনেক ভালো শিল্পী উঠে এসেছে। এই প্রজন্মের বেশ কিছু ভালো ভালো শিল্পী আছেন। তাদের গানও ভালো হচ্ছে। যদি শ্রম, সাধনা, অধ্যাবসায় ঠিক রাখতে পারে, এদের মধ্যে অনেকেই এগিয়ে যাবে। যেমন বর্তমানে বাংলাদেশ শিল্পীদের মধ্যে কনা, কোনাল, লিজা, দিনাত জাহান মুন্নি, আঁখি আলমগীর, বাপ্পা মজুমদার, ইমরান, কিশোর ফিল্মে বেশ ভাল করছে। আর এ ফিল্মের বাইরে বলতে গেলে প্রিয়াংকা গোপের গান আমার ভালো লাগে। বাপ্পা মজুমদার প্রথম আমার ফিল্মে প্লেব্যাক করেন।

আনন্দন: বর্তমানে চলচ্চিত্রের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাই।

ইমন সাহা: বাংলা চলচ্চিত্রে বছর কয়েক আগেও আবহ সংগীত স্টক মিউজিক থেকে চালানো হতো। আমি এই প্রথা বন্ধ করে নিজেই সুনামের সাথে বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেছি এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লাভ করেছি। এখন প্রতিটি ছবিতে সংগীত পরিচালক দিয়ে আবহ সংগীত করা হচ্ছে। ছবির গল্প বুঝে আবহ সংগীত করলে সেটির আবেদন দর্শকদের কাছে অন্য রকম ভালো লাগার সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে বোম্বের চেয়েও ভালো মানের কাজ হচ্ছে এবং চলচ্চিত্রে এই সেক্টর এগিয়ে গেছে। চলচ্চিত্রে এখন যারা গান করছেন তাদের মধ্যে দুএকজন ছাড়া বেশির ভাগই অডিও জগৎ থেকে এসেছে। তাই অনেক সময় কাজের মানের বিচ্যুতি ঘটে চলেছে। গল্প, স্ক্রিপ্ট, কাহিনী ভালো ভাবে না বোঝার কারণে অনেক সময় চলচ্চিত্রের গানগুলো অডিওতে ভালো লাগলেও চলচ্চিত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। কারণ গল্পের সাথে গানের মিল না থাকলে দর্শকরা হলে গিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। এই কারণে অনেক সময় গানগুলো বারংবার হোঁচট খাচ্ছে। আমি বলব শ্রদ্ধেয় সুরকার আলাউদ্দিন আলী, আলম খান, সুজয় শ্যাম, আলী হোসেন, খন্দকার নুরুল আলম, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল এ সমস্ত গুণী মানুষদের সহকারী হিসেবে কাজ করে তারপরেই চলচ্চিত্রে এলে অনেকে ভালো কিছু দিতে পারবে। যারা আজ চলচ্চিত্রে বিখ্যাত সুরকার সংগীত পরিচালক তাদের সংস্পর্শে এলে আমরাই লাভবান হব।

আনন্দন: চট্টগ্রাম থেকে নির্মিত পবিত্র ভালোবাসা ছবিটির সুরকার ও সংগীত পরিচালক আপনি, ছবিটির ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন?

ইমন সাহা: খায়রুন সুন্দরী ছবির পরিচালক এ.কে. সোহেল পরিচালিত চাটগাঁ ফিল্ম প্রোডাকশন লিঃ প্রযোজিত ও পরিবেশিত পূর্ণ দৈর্ঘ্য ছায়াছবি ‘পবিত্র ভালোবাসা’র সবকটি গানের সুরকার ও সংগীত পরিচালক আমি। ছবিটি অসাধারণ একটি গল্প নিয়ে নির্মিত। এই ছবিতে পারিবারিক বিনোদনের সবকিছুই রয়েছে। কমেডি, অ্যাকশন, ড্রামা, সেন্টিমেন্ট, ফাইট এবং ভালো গান রয়েছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে উপভোগ করার মত একটি সামাজিক ছবি। এতে চিত্রনায়িকা মৌসুমী, চিত্রনায়ক ফেরদৌস এই সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা মাহিয়া মাহি, চট্টগ্রামের ছেলে চিত্রনায়ক রোকন উদ্দিন, রেবেকা, ইলিয়াছ কোবরা, আফজাল শরীফ, পংকজ বৈদ্য সুজন সহ চট্টগ্রামের অনেক ভালো ভালো অভিনেতা ও অভিনেত্রী কাজ করেছে। আমি বলব, আপনারা সবাই হলে গিয়ে ছবিটি দেখবেন, এতে চট্টগ্রামের সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতার ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকবে। ভালো গল্প, ভালো পরিচালক, ভালো কাস্টিং, তাই আমিও আশাবাদী।

আনন্দন: চট্টগ্রামের শিল্পীদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন?

ইমন সাহা: চট্টগ্রামের শিল্পীরাই বাংলাদেশের সম্পদ। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের মধ্যে ষাট থেকে সত্তর ভাগ শিল্পীই চট্টগ্রামের। চট্টগ্রামের শিল্পীরাই আজ দেশের লিডিং পয়েন্টে আছে। চট্টগ্রামের কালচার অত্যন্ত রীচ। এখানে ঘরে ঘরে গানের চর্চা হয়, যা কিনা অত্যন্ত আনন্দের। এখানে নাচ, গান, নাটক, যাত্রা, আবৃত্তি ইত্যাদির ভালো চর্চা হয়। চট্টগ্রামের শেফালী ঘোষ, শ্যাম সুন্দর বৈষ্ণব, সত্য সাহা, প্রবাল চৌধুরী, আবদুল মান্নান রানা, তপন চৌধুরী, কুমার বিশ্বজিৎ, আইয়ুব বাচ্চু, রবি চৌধুরী, নকিব খান, নাসিম আলী খান, পার্থ বড়ুয়া, আতিক হাসান, চিত্র নায়িকা শাবানা, কবরী, অঞ্জু ঘোষ, পূর্ণিমা, পংকজ বৈদ্য সুজন, সুব্রত সহ আরো অনেকেই চট্টগ্রামের গৌরব ও অহংকার। এছাড়াও চট্টগ্রামের আরো কিছু ভালো শিল্পী বর্তমানে জনপ্রিয়তার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। চট্টগ্রামের অনেক অনেক ভালো ভালো শিল্পী আছে। তাদের মধ্যে হৈমন্তি রক্ষিত মান, আফরোজা বেলী বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। যখন সেরা কন্ঠ, ক্লোজআপ, পাওয়ার ভয়েজে বিচারক হিসেবে সারাদেশে অবস্থান করি তখন দেখি যে, চট্টগ্রামের শিল্পীরাই এগিয়ে। চট্টগ্রামের শুভ ছেলেটি ভালো গান করছে। এছাড়াও হৈমন্তি রক্ষিত মান ও আফরোজা বেলীকে আমি প্রথম চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকে সুযোগ করে দিই। তারা ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখলে এগিয়ে যাবে।

আনন্দন: বর্তমানে আমেরিকাতে সংগীতের উপরে কি কাজ করছেন?

ইমন সাহা: আমেরিকাতে যাওয়ার আগে ভারতের চেন্নাইতে অবস্থিত উপমহাদেশের বিখ্যাত সুরকার এ.আর রহমানের তত্ত্বাবধানে কে.এম. মিউজিক টেকনোলোজি অব মিউজিক কলেজে সংগীতের উপর দুই বছরের উচ্চ ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করি। এটি আমার কাজের ফাঁকে ফাঁকে করতে হয়েছে। বর্তমানে আমেরিকাতে ফোরসেল মিউজিক ইউনিভার্সিটিতে সংগীতের উপর কোর্স করছি। যেটি বিশ্বের টপটেন ইউনিভার্সিটি। যেখানে পৃথিবীর বিখ্যাত অস্কার প্রাপ্ত শিল্পীরাই শিক্ষকতা করছেন। আশা করছি বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা দিয়ে কাজ করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি। আমেরিকাতে মিউজিক ডিপার্টমেন্টে তিন বছরের কোর্স করছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

আনন্দন: স্মৃতিময় ঘটনা সম্পর্কে বলুন?

ইমন সাহা: আমার বাবার সাথে ১৯৯৮ সালে আমেরিকা থেকে এসে কলকাতায় যাই, ‘সবার অজান্তে’ আমার প্রথম ছবি’র কাজ করার জন্য যেটির পরিচালক ছিল আমার মামা শিল্পী চক্রবর্তী। এই ছবির একটি গান ‘তুমি ছিলে তুমি আছো’ এর শিল্পী ছিল শ্রীরাধা ব্যানার্জী ও কিশোর কুমারের ছেলে অমিত কুমার। এই ডুয়েট গানটি করার সময় আমার বাবা সত্য সাহা বলে ছিলেন, আমাদের ইমন অনেক দূর এগিয়ে যাবে (পরে মার কাছে শুনেছি)। আজ এতটা সময় পাড়ি দিয়ে বুঝতে পারলাম বাবা’র কথায় বুঝি সত্য হলো। সবাই আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন।

আনন্দন: দৈনিক আজাদী সম্পর্কে আপনার মতামত?

ইমন সাহা: দৈনিক আজাদী চট্টগ্রামের প্রাচীনতম স্বাধীন বাংলার প্রথম সংবাদপত্র। দৈনিক আজাদী সংস্কৃতি চর্চায় দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলের সুখ দু:খের কথা বলে যাচ্ছেন। এছাড়াও সংস্কৃতি চর্চা ও বিকাশ লালন পালনে এবং পৃষ্ঠপোষকতায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে।

x