জাতীয় ক্রিকেট লিগে শিরোপার কাছে রাজশাহী

এনামুল হক জুনিয়রের হ্যাটট্রিক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৮ at ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ
7

জাতীয় ক্রিকেট লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করার খুব কাছে আছে রাজশাহী। যে সম্ভাবনায় শুরু হয়েছিল শেষ রাউন্ড, শেষ দিনটির আগে সেই সম্ভাবনার একদম দুয়ারে দাঁড়িয়ে রাজশাহী। এখন কেবল শেষ পদক্ষেপ রাখার অপেক্ষা।
বরিশালের বিপক্ষে শেষ দিনে রাজশাহীর প্রয়োজন ১০২ রান, উইকেট আছে ৮টি। বুধবার রাজশাহীতে দ্বিতীয় ইনিংসে বরিশালকে ৩৪৬ রানে অলআউট করেছে রাজশাহী। শেষ ইনিংসে ২৮৪ রানের লক্ষ্যে নেমে তৃতীয় দিন শেষ করেছে তারা ২ উইকেটে ১৮২ রানে। বরিশাল দিন শুরু করেছিল ৬ উইকেটে ২৪৬ রান নিয়ে। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান শামসুল আলম ও তানভির ইসলামের জুটি তাদের নিয়ে যায় তিনশ ছাড়িয়ে। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পর আর বেশিদূর এগোতে পারেনি তারা। ৫৬ রান করেন শামসুল, রবিউল ৩২। শেষ চারটি উইকেটই নেন অভিজ্ঞ ফরহাদ রেজা। প্রথম দুই দিনের তুলনায় উইকেট সহজ হয়ে এসেছে অনেকটা। শেষ ইনিংসে ২৮৪ রান তবু সহজ ছিল না। কিন্তু রাজশাহী দারুণ ব্যাটিংয়ে এগিয়ে গেছে লক্ষ্যের পথে। উদ্বোধনী জুটিতে সাব্বির হোসেন ও মিজানুর রহমান গড়েছেন ৬৭ রানের জুটি। এই দুজন ফেরার পর রাজশাহীকে এগিয়ে নিয়েছেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান জুনায়েদ সিদ্দিক ও জহুরুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানের পর জুনায়েদ এবার অপরাজিত ৬৫ রানে। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৭৯ রান।
এদিকে রাজিন সালেহর বিদায়ী ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন এনামুল হক জুনিয়র। বাঁহাতি এই স্পিনার আরও একবার ধরে ফেললেন আব্দুর রাজ্জাককে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন যৌথভাবে দুই স্পিনারের। এনামুল জুনিয়রের ছোবল সামলে প্রথম ইনিংসে ১০৮ রানের লিড নেয় ঢাকা। ৪ উইকেটে ২৩৬ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করা নাদিফ চৌধুরীর দল থামে ৩৪৬ রানে। জবাবে ৪ উইকেটে ১০২ রানে দিন শেষ করেছে সিলেট। কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অ্যাকাডেমি মাঠে বুধবার এনামুল জুনিয়রের বাঁহাতি স্পিনে শুরুতেই এলোমেলো হয়ে যায় ঢাকা। কোনো রান যোগ করার আগেই দিনের প্রথম ওভারের শেষ তিন বলে ফিরে যান তাইবুর রহমান, আব্দুল মজিদ ও নাজমুল হোসেন মিলন। তাইবুর ও নাজমুলকে বোল্ড করে দেন এনামুল। আগের দিন সেঞ্চুরির পর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া মজিদ হন কট বিহাইন্ড। বেশিক্ষণ টেকেননি নাদিফ ও মাহবুবুল আলম। ২৮০ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে ঢাকা। সেখান থেকে দলকে একশ রানের ওপরে লিড এনে দেন মোশাররফ হোসেন ও শাহাদাত হোসেন। দশম উইকেটে দুই জনে যোগ করেন ৬৬ রান। ৩ চার ও ১ ছক্বায় ৫০ রান করা মোশাররফকে বোল্ড করে ঢাকাকে থামান নাবিল সামাদ। ৮৭ রানে ৫ উইকেট নেন এনামুল জুনিয়র। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এনিয়ে ৩৪বার পাঁচ উইকেট পেলেন তিনি। রাজ্জাকও পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ৩৪বার। এগিয়ে যাওয়া আর ধরে ফেলার এই লড়াই তাদের মধ্যে চলছে অনেক দিন ধরেই। আবার ব্যর্থ সিলেটের টপ অর্ডার। প্রথম তিন ব্যাটসম্যান ফিরে যান মাত্র ২২ রানে। ইমতিয়াজ হোসেনের পর জাকির হাসানের উইকেট তুলে নেন শাহাদাত। ফিরতি ক্যাচ নিয়ে শানাজ আহমেদকে ফেরান তাইবুর। শেষবারের মতো আবার জুটি বাঁধেন অনেক লড়াইয়ের দুই যোদ্ধা অলক কাপালী ও রাজিন। দুই জনে যোগ করেন ৭৬ রান। কাপালীকে ফিরিয়ে সিলেটের প্রতিরোধ ভাঙেন শুভাগত হোম। বাকি সময়টা এনামুল জুনিয়রকে নিয়ে কাটিয়ে দেন রাজিন। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে নিজের সবশেষ ইনিংসে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান অপরাজিত ৪০ রানে।
টুর্নামেন্টে আগের ম্যাচগুলো দুর্দান্ত কাটালেও শেষটা ভালো হলো না তুষার ইমরানের। জাতীয় লিগের শেষ রাউন্ডে প্রথম ইনিংসে ১৯ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ফিরেছেন শূন্য রানেই। সৌম্য সরকার লিগ শেষ করলেন ৮৩ রানের ইনিংসে। হতাশার টুর্নামেন্ট কাটানো নুরুল হাসান সোহান লিগের প্রথম ফিফটির দেখা পেলেন শেষ ইনিংসে। বগুড়ার ম্যাচটিতে আলোচিত ঘটনা ছিল আরও। প্রথম ইনিংসে খুলনার ২৬১ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ২৪৯ রান তুলেই ইনিংস ঘোষণা করে দিয়েছে রংপুর। প্রথম ইনিংসে লিডের জন্য এবার কোনো বাড়তি কোনো পয়েন্ট নেই। কিন্তু কোনো দল প্রতিপক্ষের ৫ উইকেট নিতে পারলে বোনাস পাওয়া যায় ০.৫ পয়েন্ট, ৭-৮ উইকেট নিয়ে ১ পয়েন্ট ও ৯-১০ উইকেটে ১.৫ পয়েন্ট। শেষ রাউন্ডে শিরোপা আর অবনমনের লড়াইয়ে প্রতিটি পয়েন্ট হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। খুলনাকে বাড়তি ০.৫ পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ না দিতেই অষ্টম উইকেট পড়ার পর ইনিংস ঘোষণা করে দেয় রংপুর। প্রথম ইনিংসে ১২ রানের লিড পাওয়া রংপুর দ্বিতীয় ইনিংসে তুলেছে ৬ উইকেটে ১৯২ রান। বুধবার তৃতীয় দিন শেষে এগিয়ে তারা ২০৪ রানে।
সকালে ৪ উইকেটে ১২৬ রান নিয়ে দিন শুরু করে রংপুর। ৩৫ রানে অপরাজিত থাকা সোহরাওয়ার্দী শুভ আউট হয়ে যান ৪৮ রানে। সাতে নেমে সাত চার ও ১ ছক্কায় ধীমান ঘোষ অপরাজিত থাকেন ৫০ রানে। খুলনার অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাক নেন ৪ উইকেট। ছোট্ট লিড পাওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে খুলনা ৩৩ রানে হারায় ৩ উইকেট। চতুর্থ উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়েন সৌম্য ও সোহান। ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ১১১ বলে ৮৩ করেন সৌম্য। সোহান ৫২ করেছেন ৫ চার ও ১ ছক্কায়। খুলনার লিড আরও বাড়ানো দায়িত্ব শেষ দিনে জিয়াউর রহমানের ওপর। দিন শেষ করেছেন তিনি ১৭ রানে।

x