জলাবদ্ধতা : নগরবাসী তাকিয়ে আছেন মেগা প্রকল্পের দিকে

মঙ্গলবার , ৭ আগস্ট, ২০১৮ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
81

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে আগামী দু বছরের মধ্যে। খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল প্রধানদের সাথে সিডিএ’র এক বৈঠকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের আওতায় নগরীর খালসমূহের পাড়ে প্রতিরোধ দেয়াল কাজ বর্ষা মৌসুমের পর শুরু হচ্ছে। এছাড়া ডিপিপি (ডিটেইল প্রজেক্ট প্রপোজল) রিভাইজে ৩৬টি খালের পরিবর্তে ৫৭টি খাল ঘিরে রাস্তা নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কাজ করা হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে আগামী দু’বছরের মধ্যে প্রকল্পটির দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।

উল্লেখ্য,‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেক অনুমোদন দেয়। পরে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পের আওতায় খালের মাটি খনন, কাদা অপসারণ, নালা সংস্কার ও নির্মাণসহ বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপনের কাজও করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে সেনাবাহিনী।

জলাবদ্ধতা নিয়ে চট্টগ্রামের নগর পরিকল্পনাবিদসহ বিশিষ্টজন ইতোপূর্বে নানা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে,

চট্টগ্রাম এমন একটি নগর যেখানে পাহাড়, সাগর, নদী, সমতল সবই আছে। নিষ্কাশনের জন্য এর সুবিধা হলো পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণেহালদা, কর্ণফুলী ও বঙ্গোপসাগর, যেখানে সরাসরি নিষ্কাশন সুবিধা রয়েছে। উত্তরের পাহাড় অতিক্রম করে তার উত্তরের পানি শহরে প্রবেশ করতে পারে না। আবার অসুবিধা হলো জোয়ারের পানি শহরে প্রবেশ করে, বৃষ্টি ও জোয়ার একসঙ্গে হলে বৃষ্টির পানি নামতে পারে না, পাহাড় ক্ষয়ের বালি নালাখাল ভরাট করে নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এই প্রাকৃতিক বিষয়গুলো ছাড়া মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যা হলো পাহাড় কেটে ক্ষয় বাড়ানো, খালনালা অপদখল করে নিষ্কাশন পথ সংকুচিত করা, পানিগ্যাসটেলিফোন লাইন টেনে নালাখাল এ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা এবং পুকুরদীঘিজলাশয় ভরাট করা। তাঁরা বলেন, চট্টগ্রাম নগরে দুই কারণে জলাবদ্ধতা হয়। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি। বৃষ্টির পানি পরিবহনের মতো ক্যাপাসিটি নালানর্দমার না থাকা, কিছু খালের কালভার্ট প্রয়োজনের তুলনায় ছোট, অনেক নালানর্দমা ভরাট ও দখল থাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। অন্যদিকে ওয়াসা, বিদ্যুৎ, টিঅ্যান্ডটি, গ্যাসের পাইপলাইনগুলোর অপরিকল্পিত সঞ্চালন। এগুলোও বর্জ্য আটকে পানির গতিপথে বাধা সৃষ্টি করে। আবার বৃষ্টির সময় জোয়ার থাকলে বৃষ্টির পানি উল্টো নগরে প্রবেশ করে। এ ক্ষেত্রে পামপ স্টেশন প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বলিষ্ঠ বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ থাকলে কর্ণফুলী নদীপাড়ের নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। জলাবদ্ধতার কারণগুলো যে মানবসৃষ্ট এবং পরিকল্পিত পদক্ষেপ থাকলে চট্টগ্রাম মহানগরকে জলাবদ্ধতার অভিশাপমুক্ত করা যায়।

এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে চলছে। সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। যেহেতু অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাই উক্ত প্রকল্পের সফলতা অবধারিত।

জলাবদ্ধতা এক দিনের সমস্যা নয়। এটি বহু দিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার সমন্বিত সমস্যা। এর জন্য কে কী রকম দায়ী তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বলতে গেলে বড় বড় সংস্থাগুলোর পাশাপাশি নাগরিকরাও কম বেশি দায়ী। নালাখাল দখল ও ভরাট হয়ে গেছে অবলীলায়। ময়লাগুলো যত্রতত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা সবাই যদি আন্তরিক না হই এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা না চালাই তাহলে ভয়াবহ এ মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টাই হতে পারে এই দুর্যোগ থেকে উত্তরণের শ্রেষ্ঠ উপায়। জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের অভিশাপএ কথা চট্টগ্রামবাসী আর শুনতে চান না। এ অভিশাপ থেকে তাঁরা মুক্তি চান। সিডিএর তত্ত্বাবধানে সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, বন্দরসব কটি সংস্থা একযোগে অংশগ্রহণ করুকসেটাই নগরবাসী প্রত্যাশা করেন। নগরবাসী জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ চান।

x